নতুন দুনিয়া, নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন বিজ্ঞান !

(llbangla.org)

১৯৬৫ সালে, সারা বিশ্বে চলছিল স্বাধিনতার লড়াই, লিন বিয়াও তখন বিশ্ব নগর বনাম বিশ্ব পলী, গরীব দেশ বনাম ধনী দেশ, প্রথম বিশ্ব বনাম তৃতীয় বিশ্ব এবং তাদের মধ্যে চলমান প্রধান প্রধান দ্বন্ধ সম্পর্কে লিখেছিলেন । লিন বিয়াও বিপবকে জনযুদ্বের আলোকে । ঠিক মাও সেতুং যেমন ভাবে চিনে বিপবের কৌশল গ্রহন করেছিলেন, যেমন গ্রাম থেকে শহর ঘেরাও করা এবং জয় করা, চিনের শহর ও নগর কে ঠিক তেমনি ভাবে বিশ্ব পলী দিয়ে বিশ্ব নগর ও শহর কে ঘেরাও করা এবং জয় করা । ১৯৬৫ সালের সেই দৃষ্টিভঙ্গি মৌলিক বিষয় গুলো আজ ও প্রাসঙ্গীক । যদি ও বিগত শতাব্দীর তুলনায় বর্তমান পৃথিবীর ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে । অমাদের রাজনৈতিক অর্থনীতি, উন্নয়নশীলতা সর্ম্পকিত আমাদের ধারনা, শ্রেণী, বিপবী সংগঠন, আমাদের চর্চাকে অবশ্যই আধুনিক দুনিয়ার চ্যালেঞ্জ এর সাথে সামঞ্জষ্যতা বজায় রেখে যুগোপযোগী করে নিতে হবে । নিম্নের বিষয়াবলী একজন বিপবীকে ভালোভাবে বোঝে নিতে হবে ঃ-

১. উন্নয়নশীলতা নতুনরূপ ধারণ করেছে । সাম্রাজ্যবাদ মানব বিশ্বকে এক গভীর সংকটে নিপতিত করেছে । চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়াটি চলছে বিভিন্নদেশে বিভিন্ন ঢংয়ে, অতীতে যে সকল দেশ গুলোকে শিল্প সমৃদ্ধ ও বহুমূখী অর্থনীতিন দেশ হিসাবে বিবেচনা করা হত । সেই সকল ঊন্নত দেশ সমূহের মধ্যে কয়েকটি ছিল সাম্রাজ্যবাদী ও এর কয়েকটি ছিল সমাজতান্ত্রিক । সমাজতান্ত্রিক দেশ গুলো নিজেদের সম্পদ ও শ্রমদিয়ে নিজেদের স্ব স্ব দেশকে গড়ে তুলেছিল । অন্যদিকে, সাম্রাজ্যবাদী দেশ গুলো তাদের উপনিবেশ ও নব উপনিবেশিক দেশ গুলো থেকে শোষণ করে তাদের অর্থনীতিতে শক্তিশালী করেছে । সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো তাদের অর্থনীতিকে অন্যের সম্পদ ও শ্রমের উপর ভর করে । উদাহর হিসাবে পশ্চিম ইউরূপ ও উত্তর আমেরিকার শিল্প বিপব ও তাদের অর্থনীতির কথা ঊলেখ করা যায়, যার ভিত্তি হলো দাসদের শ্রম ও উপনিবেশ সমূহের সীমাহীন  বাড়তিমূল্য সংগ্রহ। সস্তা শ্রম এবং কাঁচামাল, গণ হত্যার মাধ্যমে জমি কেড়ে নেয়া, এবং পশ্চিমাদের সহায়তায় আধুনিক উপনিবেশিক বাজার প্রতিষ্ঠা করা অন্যতম। এই প্রক্রিয়া আজ ও নানাভাবে নানা ঢংয়ে  চলছে । তবে, অতীতের উন্নয়নশীলতার সাথে বর্তমানের উন্নয়নশীলতার বেশ কিছু পার্থক্য দেখা যাচ্ছে । আগে, উন্নয়নশীলতা শিল্পায়ন ও বহুমূখী উৎপাদনে পিছিয়ে থাকার উপর নির্ভর করত, আর উন্নয়নশীল অর্থনীতি ছিল প্রধানত দরিদ্র, যার কিছুটা  যান্ত্রিক উৎপাদন, একটি বা দুটি অর্থকরী ফসল এবং কিছু প্রকৃতিক সম্পদ উৎপাদক হসাবে পরিচিতি। উৎপাদিত পণ্যের প্রক্রিয়াজাত করন,পরিশোধন, এবং সাম্রাজ্যবাদী দেশ সমূহের  বৃহৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করা । অন্য কথায়, অতীতের শিল্পায়ন ও উৎপাদনের বহুমূখী করন প্রক্রিয়া সামগ্রীক উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। শিল্পায়নের অভাব, উৎপাদনের বহুমূখী করনের অভাব সরাসরি উন্নয়নশীলতার সাথে সম্পর্ক যুক্ত ।এই পুরাতন পদ্ধতীটি কোন কোন জায়গায় এখনও চালু  আছে আবার কোথাও কোথাও নতুন পদ্ধতীর বিকাশ ঘটেছে । আজকে, সম্পদশালী সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো আগের মত শিল্পায়িত নয়, আজকাল, প্রথম বিশ্বের বহু জায়গায়ই খুব সংখ্যক লোক কারখানার কাজে নিয়েজিত আছে । বরং বেশীর ভাগ মানুষ বিতরন, ব্যবসা, ব্যবস্থাপনা, এবং সরকারী বিভাগ সমূহে কর্মরত রয়েছে । প্রথম বিশ্বের বহু জায়গার বেশীর ভাগ মানুষ বিপুল পরিমান ভোগ করছেন এবং অনেক কম উৎপাদন করছেন । আর এটাই হলো প্রথম বিশ্বের বিপণী বিতাণ কেন্দ্রীক অর্থনীতি । অন্যদিকে তারা তৃতীয় বিশ্বে তাদের কারখানা গুলো স্থানান্তর করছে । এখন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর অর্থনীতি বহুমূখী ও শিল্পায়িত হচ্ছে । এর উৎপাদিত পণ্যের ভোগকারী এখন ও তৃতীয় বিশ্বের মানুষ নয় ; বরং প্রধানত এই সকল পণ্যের ভোগকারী হলো প্রথম বিশ্বের নাগরিকগণ । প্রকৃত অর্থে যদিও তৃতীয় বিশ্বের মানুষ উৎপাদন করেন কিন্তু তার মুনাফা চলে যায় প্রথম বিশ্বে । তার বাড়তিমূল্যটুকু তৃতীয় বিশ্বের অর্তনীতি তে যুক্ত হয়না । তাদের জনগণের ও কোন উপকারে কাজে লাগেনা, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে না, অথবা সত্যিকার ভাবে জাতিয় আয়ে তেমন কোন ভূমিকা ই রাখতে পারে না ।  বরং সাম্রাজ্যবাদীরা এবং তাদের জনগণ ই হলো এর সত্যিকার উপকার ভোগী । তাই সত্যিকার উন্নয়ন বলতে কেবল মাত্র উৎপাদনের বহুমূখিতা ও শিল্পায়ন করাই একমাত্র বিষয় নয় । উন্নয়নশীলতা কেবলমাত্র গুনগত মানের স্বল্পতা নয় বরং আজকাল প্রথম বিশ্ব এবং তৃতীয় বিশ্ব তাদেও অর্থনীতিকে বিপণী বিতান কেন্দ্রীক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করতে কাজ করছে । প্রথম বিশ্ব উৎপাদন করছে কম এবং ভোগ করছে বেশী, তারা এখন তৃতীয় বিশ্বের পরগাছায় ও পরজীবিতে পরিনত হয়েছে ।

২.নতুন রূপে নতুন গণতন্ত্র ঃ আগে সাম্রাজ্যবাদ বিশ্বকে ভাগ করত গতানুগতিক ভাবে উন্নয়নত, গতানুগতিক উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে । গতানুগতিক পন্থায় ঊন্নত দেশগুলোকে বলা হত “আধা সামন্ততানিত্রক” “মধ্যস্বত্ত ভোগী পুঁিজবাদী” ও “আমলাতান্ত্রিক পুজিঁবাদী” ইত্যাদী হিসাবে । এই ধরণের বর্ণনায় বিভিন্নভাবে তৃতীয় বিশ্বে বিপণী বিতান ঊন্নয়নের ঊপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হত । এতে একটি উলেখ যোগ্য দিক হলো যে, তৃতীয় বিশ্বে বিপবের জন্য দুটি স্তর বা প্রক্রিয় অনুসরন করতে হবে । এর একটি প্রাথমিক স্তর হলো নতুন গনতান্ত্রিক স্তর । আর একটি স্তর হলো  গণতান্ত্রিক বিপবের স্তর যা কৃষক, মজুর,পাতি বুর্জোয়া, এমনকি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কিছু দেশপ্রেমিক পুজিঁপতি ও অংশগ্রহন করে এই বিপব সফল করবে । যাদের উদেশ্যই হবে ভূমি সংস্কার, জাতীয় অর্থনীতির ব্যাপক উন্নয়ন, এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার সাধন করা । নয়া গনতান্ত্রিক বিপব সম্পন্ন হবে প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় স্তরে । দ্বিতীয় স্তরটি হলো সমাজতন্ত্রের স্তর । যেখানে প্রলেতারিয়েত শ্রেণী সমাজটিকে তাদের মত করে,তাদের স্বার্থে পরিচালনার সুযোগ পাবে ।  আর এটাই হবে সাম্যবাদী সমাজের ভিত্তি, সকল প্রকার শোসনের পরিসমাপ্তি । আজকের পৃথিবীতে তৃতীয় বিশ্বে উন্নয়ণশীলতার প্রকৃতির পরিবর্তন বিপবী প্রক্রিয়াকে ও প্রভাবিত করবে । আগামী দিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে “লাঙ্গল যার জমি তার” নীতি অথবা কেবল মাত্র জমি কেন্দ্রীক লড়াই সংগ্রম  চলবে এরূপ না ও হতে পারে, ইহা গ্রাম কেন্দ্রীক না ও হতে পারে । বরং নয়া গণতান্ত্রিক বিপবে বস্তিবাসী মানুষের থাকার জায়গা, ভালভাবে বেচেঁ থাকার জন্য তাদের ছোট ব্যবসা বাণিজ্য,জ্ঞান অর্জনের সুযোগ ও স্বাস্থ্যের অধিকারের বিষয় গুলো প্রাধান্য পেতে পারে । অথবা তৃতীয় বিশ্বে নয়া সমাজতান্ত্রিক বিপবে এই সকল বিষয় গুলোই ভিত্তি হিসাবে কাজ করতে পারে ।

৩. বিপবী সংগঠন ও সংস্থাগুলো নয়া আঙ্গীক নিতে পারে ঃ প্রচলিত বিশ্ব অর্থনীতি পৃথিবীর এক বিশাল জনসংখ্যাকে গরীবে পরিনত করেছে  । বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে সামগ্রীক সামাজিক উৎপাদনে সমপৃক্ত করেনি । তবে কবল মাত্র বাচিঁয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছে মাত্র । তাদের মধ্যে একটি বিরাট অংশের মানুষ তৃতীয় বিশ্বের মেঘা শহর গুলোতে বসবাস করছে । তাদের অনেকেই শরর্ণাথী শিবিরে বা সাহায্য সংস্থার দয়ায় ঠিকে আছে । অন্যদিকে তৃতীয় বিশ্বের অনেক এলাকায় সংগঠিত শিল্প শ্রমিক গণ তুলনা মূলক ভাবে একটু বেশী সুবিধা প্রাপ্ত সেই সকল মানুষের চেয়ে একেবারেই সমাজের নিচুতলায় অবস্থান করছে । এই শ্রমিক শ্রেণীর মানুষেরা বেশী সুযোগ সুবিধা পায়,   সেই লোকদের চেয়ে যারা রাস্তয় হকারী করে, ছোট দোকান চালায়, এবং যারা তৃতীয় বিশ্বে বস্তি গড়ে তুলেছে । প্রলেটারিয়েটের ধারণাটি যেমন কেবল মাত্র উৎপাদনের সাথে সম্পর্কিত করে বিবেচনা করা হয় তবে তাকে সামগ্রীক ভাবে সামাজিক অবস্থান ও দারিদ্রার নিরিখে ও বিবেচনা করা উচিৎ । দুনিয়ার কোন কোন জায়গায় যারা মহান র্কাল মার্ক্সের সেই বিখ্যাত উক্তির সাথে খাপ খাওয়তে চান যেমন,“শৃংখল ছাড়া সর্বহারার হারাবার কিছু নেই” বা পুঁজিপতিদের কাছে তাদের শ্রমবিক্রি করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই । কিন্তু বাস্তবতা হলো আরো কয়েক প্রকার নতুন প্রলেটারিয়েটের উত্থান ঘটেছে ।

৪.তৃতীয় বিশ্বের শ্রেণীর কাঠামোগত ব্যাপক পরিবর্তন যেমন সাধিত হয়েছে তেমনি প্রথম বিশ্বের শ্রেণীগত কাঠামো ও পরিবর্তিত হয়েছে ঃ প্রথম বিশ্বে, বিপবী শ্রেণী  বর্তমানে অনুপস্থিত । ১৯৬০ সালে, প্রথম বিশ্বের কোন কোন দেশে বিপবী চিন্তার সুযোগ ছিল কিন্তু বর্তমানে তা অনেকটাই তিরোহিত । এমনকি প্রথম বিশ্বে উলেখ করার মত কোন বিপবী শক্তির অস্থিত্বই নেই । নেই কোন উলেখযোগ্য প্রলেটারিয়েট শ্রেণী । না আছে কোন বিপবী শ্রেণীর রাজনৈতিক অবস্থান । তাই আমাদেরকে অবশ্যই প্রথম বিশ্বের বাহিরে নজর দিতে হবে । আর এর অর্থই হলো প্রথম বিশ্বে, বিশ্ব জনযুদ্ধ প্রলেটারিয়েটের নতুন শক্তি আগমনে প্রাথমিক ভূমিকা রাখবে ।

৫.বিশ্ব বস্তির প্রসার এবং নয়া প্রলেটারিয়েট আগামী দিনের জনযুদ্ধের রূপ পাল্টে দিবে ঃ  দুনিয়ার কোন কোন এলাকায়, গতানুগতিক মাওবাদী জনযুদ্ধের রীতিনীতি অনুসরন করা হয় । ইহা হবে কমিউনিষ্ট ভাব ধারায় প্রধানত কৃষকদের লড়াই সংগ্রাম, যা বৃহত্তর বিপবী ভিত্তি  এলাকা তৈরীতে এবং রেড জোন গঠনে ভূমিকা রাখবে, নির্মাণ করবে নতুন সমাজের জন্য নয়া মডেল । আর তা তৈরী হবে সেই সকল এলাকায় যে সকল যে সকল রাষ্ট্র তুলনামূলক ভাবে দুর্বল । এই আন্দোলন হবে নয়া গনতন্ত্রের দাবীতে, বিশেষ করে জমি ও ভূমির অধিকার প্রতিষ্টার জন্য । এই দাবী আদায়ের আন্দোলন গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত স¤প্রসারিত হবে । তবে, বর্তমান পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে সর্বত্র একই পরিস্থিতি না থাকায় ইহা সব জায়গায় উপযোগী নয় । কোন কোন দেশের ভৌগলিক কারণে গতানুগতিক মাওবাদী মডেলের আন্দেলনে সমস্যার সৃষ্ঠি হয় । অধিকন্ত সাম্রাজ্যবাদীদের আকাশ পথে আক্রমনের কারণে গতানুগতিক পন্থায় ভিত্তি এলাকা ও রেডজোন তৈরী করা কঠিন হয়ে পড়ে । তাই, একটি বিষয় খুবই গুরুত্ব পূর্ণ যে, দিনে দিনে নগরায়ন শহরায়ন বাড়ছে, তার সাথে তালরেখে বাড়ছে বস্তি ও বস্তিবাসির সংখ্যা যা জনযুদ্ধের জন্য চমৎকার ভাবে কাজে লাগানো যাবে ।

৬. প্রাকৃতিক সংকট ভয়বহ হচ্ছে ঃ পুজিঁবাদী ব্যবস্থায় পণ্য উৎপাদনের মাত্রা হয় সীমাহীন যা আমাদের সামর্থের বাহিরে । এখন পযর্ন্ত আমাদের পৃথিবী নামক গ্রহের সম্পদ সুর্নিষ্ট মাত্রায় রয়েছে । তাই পুজিঁবাদী ব্যবস্থা আমাদের এই প্রিয় গ্রহটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য মোটেই উপযোগী নয় । প্রথম বিশ্বের উপভোগের মাত্রা সীমাহীন ; এটা আমাদেরকে প্রকৃতিক মহাদুর্যোগের দিকে চালিত করে । মানুষের কর্মকান্ডের কারণে আমাদের পরিবেশ ও প্রতিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে । সমাজ বিপবীগণ আগামী দিনে তাদের কর্মকৌশল তৈরীর সময় এই বিষয়টিকে বিবেচনায় রাখবেন । বিপবীগণ কেবল মাত্র উৎপাদন শক্তি ও সামাজিক সম্পর্কের বিষয় গুলো নিয়ে ভাববেন না বরং উৎপান প্রক্রিয়া ও শর্ত সমূহ ও বিবেচনায় রাখবেন । বিপবীগণ আমাদের প্রাকৃতিক জগৎ যেমন পরিবেশ ও প্রতিবেশকে ও বিশেষ ভাবে বিকেচনা করবেন । সমাজতান্ত্রিক উন্নয়ন কৌশলে ভোগের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদকে সীমাহীন হিসাবে বিবেচনা করা হয়না । আগামী দিনের নয়া শক্তি ও র্কতৃত্বকে অবশ্যই পরিবেশগত ভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ভাবে ঠেকসই হিসাবে গড়ে তুলা হবে । আমাদের নীতি হবে পৃথিবীতে প্রতিটি জীবনই সুসমভাবে ঠিকে থাকবে ।

৭.নয়া প্রযুক্তি এবং ব্যাপক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপবের নবদিগন্তের উন্মোচন করেছে ঃ চলমান পৃথিবীতে ব্যাপক যোগাযোগ ব্যবস্থা, দুনিয়াজোড়া মানুষের সহজ গতিবিধি বৈপবীক কর্মকান্ডে নতুনত্বের সংযোজন ঘটাতে পারে । বিপবের শর্তাবলী সহজেই পুরণ হতে পারে, দ্রুত অগ্রগতি এনেদিতে পারে বিপবী কর্মকান্ডে । বিপবের তরঙ্গ দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে নতুন নতুন এলাকায় । কোন একটিলোকার একটি ঘটনা পৃথিবীর অন্যান্য এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগাতে পারে । বিপব বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়লে সমাজতান্ত্রিক ভুবনায়নের গুরুত্ব বেড়ে যাবে । নয়া প্রযুক্তি বিপবের অগ্রগতির পথে বিপুল প্রভাব রাখবে । নয়া প্রযুক্তি সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব পুর্নবিন্যাসে নতুন সম্ভাবনার দরজা খোলে দিবে ।

লিডিং লাইট কমিউনিজম অনেক উন্নত ও অগ্রগামী বিপবী বিজ্ঞান নানা বিষয়ে ও পন্থায়  চর্চা করছে । লিডিং লাইট কমিউনিজম সামগ্রীক ভাবে প্রাগ্রসর বিপবী বিজ্ঞানের ধারক ও বাহক । আর এসবই হলো বিপবী বিজ্ঞানের এখন কার প্রতিপাদ্য । রাজনৈতিক অর্থনীতি হলো বিপব বিনির্মানের চাবিকাঠি । তবে, এর মধ্যেসীমাবদ্ধ থাকাই যথেষ্ট নয় বিপবী তত্ত¡কে এগিয়ে নেয়ার জন্য । প্রাগ্রসর তত্তে¡র সাথে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য আমাদের সংগঠন ও তার কাঠামোকে আজ এগিয়ে নেয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ । আমাদেরকে সাহসের সাথে নতুনত্বের দিকে এগিয়ে আসছে । আমরা এটা ভেবে ভীত নই যে, আন্দোলনে সংগ্রামে , হয়ত প্রতিটি বিষয় হুবহু আদর্শিক জগতে তেকে নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব হবে না তবে বাস্তবতার ময়দানে থেকেই আমরা আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব । আমাদের চমৎকার সব পরিকল্পনা আছে, আমাদের সংগঠন আছে, আমাদের নেতৃত্ব আছে । লিডিং লাইট অনুসরণ করুন ! লিডিং লাইট হোন !  অনুবাদ ঃ একেএম শিহাব

Advertisements