পুজিঁবাদকে বাংলাদেশের জনগন পুড়িয়ে ছাড়খার করে দিবে ঃ প্রথমবিশ্বের ফ্যাশনস

(llbangla.org)

পচিঁশে নভেম্বর, ২০১২ । দেশের রাজধানী  ঢাকা থেকে মাত্র চল্লিশ কিলোমিটার দূরে আশুলিয়ায় বাংলাদেশের একটি র্গামেন্টস কারখানায় আগুন লেগে প্রয় ১১২ জন শ্রমিক পুঁড়ে মারা গেছেন। আরো অনেককে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য ; কারো গা পুড়ে গেছে কারো ও হাত পা ভেঙ্গে গেছে । মৃতের সংখ্যা আরো বাড়ছে । বাংলাদেশের ইতিহাসে শিল্প সংক্রান্ত র্দূঘটনায় সবচেয়ে ভয়াবহতম ঘটনা এটি।
নয় তলা বিশিষ্ট তাজিন ফ্যাশন প্লান্ট এর নিচ তলায় সন্ধ্যা ৭ টায় আগুনের সূত্রপাত হয় । আগুনের সূচনা হয় নিচ তলার গুদাম ঘর থেকে এক হিসাবে দেখা গেছে এই কারখানায় প্রায় ১৫০০ শ্রমিক কর্মরত ছিলেন । যদি ও সাধারণভাবে দৈনিক কর্যদিবস শেষ হয়ে গিয়েছিল কিন্তু প্রায় ৬০০ জন শ্রমিক  অতিরিক্ত রোজগারের জন্য সেই কারখানায় কাজ করছিল । যা প্রথম বিশ্বে ঘটেনা, তাই তৃতীয় বিশ্বের মানুষের কাছে অতি সাধারণ বিষয়। যেমন তারা ১০ , ১২ এমন কি ১৪ ঘন্টা পর্যন্ত  বাচাঁর জন্য দৈনিক কাজ করে থাকে । বেশীর ভাগ শ্রমিকই মারা গেছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কারণ সেখানে থেকে বেড়িয়ে যাবার জন্য  র্পযাপ্ত রাস্তা ছিল না । আর যে রাস্তা গুলো ছিল তা ও বাহির থেকে বন্ধ থাকায় শ্রমিক গণ যথা সময়ে বেরুতে পারেন নাই । ফলে কারখানাটি মূহুর্তে একটি মৃত্যুপুরিতে পরিণত হয় । অগ্নি নির্বাপক বিভাগের পরিচালক মেজর মুহাম্মদ মাহবুব বলেন,

মূল কারখানাটি ছিল তিনটি তলা জুড়ে, যা ছিল মূলত নিচতলার সাথে সর্ম্পকযুক্ত .. ফলে যখন অগুন লাগে তখন শ্রমিকগণ বাহির হতে পারেন নাই ।

উদ্ধারকৃত মৃত দেহ গুলোকে সরকারী ভবন ও স্থানীয় মাঠে সারি সারি করে রাখা হয় । এমন ভাবে পুড়ে গেছে যে, শ্রমিকদেরকে চেনাই যাচ্ছে না । অনেকেই একেবারে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে । সরকারী কর্মকর্তারা বলছেন যে তাদেরকে চিহ্নিত করতে আরো অনেক সময় দরকার হবে।
 বেচেঁ আসা অনেকেই বলেছেন, যারা মারা গেছেন তাদের সিংহভাগই হলো নারী শ্রমিক, তারা প্রানান্তকর চেষ্টা করেছেন বাচাঁর জন্য । ৫ম তলায় কাজ করতেন একজন শ্রমিক নাম তার রাজু , বয়স ২২ বছর । সে যদি ও বেচেঁ বেড়িয়ে আসতে পেড়েছে কিন্তু সে তার মাকে বাচাঁতে পারেনি । তার ভাষ্য ঃ

পুরো কারখানাটি লোকারণ্য ও অন্ধকারে থলিয়ে যায়, সকলেই বেড়িযে আসতে চাইছিল .. বিদ্যুৎ ছিলনা, গভীর অন্ধকার,তখন আমি আমার মা কে অন্ধকারে হারিয়ে ফেললাম । আমি ১০-১৫ মিনিট প্রানান্তকর চেষ্টা করলাম কিন্তু আমি আর মাকে পেলাম না ।

আরো একজন বেচেঁ আসা শ্রমিক রবিউল ইসলাম বর্ণনা করেণ এই ভাবে,

আমি হঠাৎ ধোঁয়ার গন্ধ পেলাম, দৌড়ে আসলাম নিচ তলায় দেখলাম কালো ধোাঁয় আচ্ছন্ন হয়ে গেছে চারদিক। ইতিমধ্যেই প্রথম তলা আগুনে ছেঁেয় গেছে , তখন আনেকেই প্রান বাঁচাতে লাফিয়ে পড়তে থাকল ..।

আরো এক জন শ্রমিক বললেন, আমি যখন দেখলাম আর বাচাঁর কোন উপায় নেই তখন দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দিয়ে নিচে আছরে পড়লাম । আমার একটি হাত ভেঙ্গে গেছে। কোন রকম বেচেঁ আসলাম।

প্রান বাচাঁতে লাফিয়ে পড়ে শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন । লাফিয়ে পড়ে অনেকে মারা ও গেছেন, ঢাক জেলা প্রশাসক বলেছেন, বহু শ্রমিক লাফিয়ে পড়ে মারা গেছেন ।

দুঃখের বিষয় হলো এই ধরনের দূর্ঘটনা নতুন নয় । বাংলাদেশের তৈরী পোষাক শিল্পটি পৃথবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থান দখল করে আছে । চিনের পরই বাংলাদেশ এর স্থান অথচ এখানে নিরাপত্তার বিষয়টি বরাবরের মতই অবহেলিত থেকে গেছে। আমস্টারড্যাম ভিত্তিক কিন কথ কেম্প্যাইন ও এডভোকেসি গ্র“পের মতে, বিগত ২০০৬ সাল থেকে আজ পযর্ন্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক কেবল মাত্র আগুনে পুড়েই মারা গেছেন।
বিশেষজ্ঞগণের অভিমত হলো একটু সতর্কতার সাথে কারখানাগুলো স্থাপন করলে এধরনের দূঘটনা সহজেই এড়ানো যেত। কোন কোন কারখানা গুলো এমনভাবে নির্মিত যে, সেখানে অগ্নি নির্বাপক বাহিনী তাদের কোন অভিযানই চালাতে পারেন না । কেননা পুজিঁবাদ তো মানুষকে দেখেনা তারা তো শুধু মাত্র মুনাফা চায় । আরো আরো মুনাফা। মুনাফা খোর পুজিঁপতিরা একে অন্যের সাথে প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হয় , তারা বেশী আরো বেশী মুনাফা অর্জন করতে চায়, আর কমাতে চায় খরচ।
যখন নয়া উদার পন্থী বিশ্বায়নবাদীরা মুক্ত বাজার, বিশেষ অর্তনৈতিক অঞ্চল, কম শ্রমিক ও পরিবেশ বান্ধব আইন কানুন তৈরীর জন্য হৈ চৈ করছে তখন শতাধিক শ্রমিক পুড়ে মারা গেল বাংলাদেশের তাজিন ফ্যাশন কারখানায়।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় চার মিলিয়ন শ্রমিক তৈরী পোষাক শিল্পে নিয়োজিত আছেন, যাদের বেশীর ভাগই হলো তাজিন ফ্যাশন কারখানায়,  কর্মরত ভাগ্যহীনা নারী শ্রমিক।  কারখানা গুলো প্রথম বিশ্বের দোকান ও ব্র্যান্ডের জন্য পোষাক তৈরীর কাজ করছে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত পোষাক আমদানী কারক প্রতিষ্ঠান যেমন ওলর্মাট এর অন্যতম। এছাড়া তারা ক্যারিফোর ও আইকার জন্য পোষাক তৈরী করে থাকে।  সমালোচকগণ বহু আগে থেকেই বলে আসছিলেন যে, বিশ্বব্যাপী পোষাক শিল্পের ব্যবসায়ী যেমন টমি হিলফিগার এবং গ্যাপ যারা ওলমার্টের নিকট তাদের সংগ্রহ করা কাপড় বিক্রি করে তারা যেন পোষাক তৈরীতে নিয়েজিত শ্রমিকদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা পালন করেন বিশেষ করে বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য। যে সমস্যাটি সাম্রাজ্যবাদের সূচনা থেকেই চলে আসছে । যেটা সবারই জানা যে ব্রিটিশরাজের পৃষ্টপোষকতায় ব্রিটিশ ইষ্টইন্ডান কোম্পানী বাংলাদেশ সহ ভারতে কি করেছিল । সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশরা ভারতীয়দের কাপড় শিল্পকে বাধাঁগ্রস্ত করতে কতই না অপকর্ম করেছে একসময়। তারা শিল্পীদের হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত কেটে দিয়েছিল । র্মাক্স ও এঙ্গেলস বলেছিলেন যে, ব্রিটিসজাতি তাদের স্বার্থে পুজিঁবাদকে শক্তিশালী করতে, তারা সমগ্র দুনিয়াকে শোষন করতে, কখনই পিছ পা হবে না । তারা কোন প্রকার নীতি ও নৈতিকতার ধার ধারে না।
এবং

লোকেরা কখনও কখনও জিজ্ঞাসা করে ব্রিটিশ শ্রমিক রা উপনিবেশবাদী নীকিকে কিভাবে দেখছে? তারা তো কেবল সাধারণ রাজনীতির মতই বিষয়টিকে দেখছে। সেখানে কোন সত্যিকার শ্রমিক সংগঠন বা পার্টি নেই । আছে কেবল কনজারভেটিব ও রেডিক্যাল লিভারেলস, এবং শ্রমিকরা ও ব্রিটিশদের মতই উপনিবেশ সমূহ ও বিশ্ববাজার থেকে শোষনকরা অর্থের বখরায় ভাগ বসাচ্ছে।

আজ , প্রথম বিশ্বের সকল শ্রমিকদের মাঝে ও একই দৃষ্টি ভঙ্গী কাজ করছে। তারা বাংলাদেশে পুড়ে মরা মানুষ সহ তৃতীয় বিশ্বের মানুষের দুঃখ ও কষ্ট নিয়ে ভাবনার ছেয়ে তাদের ফ্যাশন নিয়েই বেশী ব্যস্ত রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ কি রকম শোষিত ও বঞ্চিত হচ্ছে তা নিয়ে প্রথম বিশ্বের মানুষের ভাবনার অবকাশ নেই, তারা মাস্তি করতেই ব্যস্ত। কেননা প্রথম বিশ্বের মানুষ, যাদের মধ্যে উর্পাজনকারী, বেতনভোগী কর্মচারী তারা সবাই সাম্রাজ্যবাদ দ্বরা উপকৃত হচ্ছে।
তাজিন ফ্যাশন কারখানার মর্মান্তিক ঘটনাটি মার্ক্সের ইশতেহারের আলোকে দেখলে বুঝা যায় যে,পুঁজিবাদের উৎপাদন ব্যবস্থাটি কিভাবে সামাজিক উৎপাদনের রূপ নেয় । কৃষকরাই সময়ের ব্যবধানে সৈনিক ও শ্রমিকে পরিণত হয়েছেন । পুজিঁবাদ দিনে দিনে একটি একক উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মানুষকে জড় করে। আজ, তা অবশ্য বিশ্বায়নে রূপ নিচ্ছে । সারা দুনিয়ার মানুষ এখন বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় একই সূত্রে গ্রতিত হয়েছে। যদি ও এখন পর্যন্ত পুজিঁবাদ নানাভাবে সমাজকে বিভক্ত ও দ্বান্ধিকতায় বেধেঁ রেখেছে । নষ্ট পুজিবাদের আওতায় সম্পদের মালিকানা এবং বিতরণ প্রক্রিয়াটি ব্যাক্তিগত পর্যায়ে রয়ে গেছে এবং একটি নতুন নেতৃত্ব কাঠামো তৈরী হচ্ছে। বিশ্ব পুজিবাদ গড়ে তুলেছে প্রথম বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বের মানুষের শ্রম ও রক্তের উপর। আজকের দুনিয়ার প্রধান দ্বন্ধই হলো প্রথমবিশ্ব বনাম তৃতীয়বিশ্ব । এই দ্বান্ধিকতাকে ভালোভাবে বুঝে বিপ্লবের পথ ও পন্থা নির্ধারণ করতে হবে।
তৃতীয় বিশ্বের দারিদ্রতা প্রথম বিশ্বকে করেছে ধনী ও বিলাশী ঃ এটাই বাস্তবতা
এ দুনিয়ার বুকে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত দরিদ্র ও জনবহুল ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ । প্রায় ষোল কোটি লোক এখানে বাস করে। মাথা পিছু বার্ষিক আয় মাত্র ৮৪৮ মার্কিন ডলার । শিশুর অপুষ্টির হার ৪৮% । লেখা পড়া জানা মানুষের শতকরা হার মাত্র ৫৮ %। এদেশে অর্ধেকের ও বেশী মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। কিছু মধ্যসত্বভোগী মানুষ রাষ্ট্রটিকে পুজিঁবাদী রাষ্ট্রের চরিত্র দান করেছে। সত্যিকার অর্থে দেশের সিংহভাগ মানুষই গরিবী জীবনযাপন করছেন বিশেষ করে প্রথম বিশ্বের তুলনায় ।
বাংলাদেশ এখন ও গ্রাম অধ্যুষিত একটি দেশ । প্রায় ৮০ % মানুষ এখন ও গ্রামে বাস করেন । এখন ও অনেক এলাকা আছে যেখানে স্কুল নেই।  হাসপাতাল নেই । রাস্তা নেই। ২০% মানুষ চরম ও দরিদ্রতম জীবনযাপন করছেন। তাদের খাদ্যের নিরাপত্তা নেই। কোন সম্পদ নেই । অনাহার দরিদ্র তাদের নিত্য সঙ্গী । অন্যদিকে প্রায় ২৯% গ্রামীন দরিদ্র মানুষ কিছুটা ভালো জীবন যাপন করে থাকেন।  তাদের কিছু জমি ও পশু সম্পদ আছে । সাধারণ ভাবে তারা কিছুটা ভালো খাবার দাবার পেয়ে থাকে। তবে, যদি কোন প্রকার প্রকৃতিক দুর্যোগ বা রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয় তবে তারা ও দরিদ্রদের মতই কষ্টের জীবনে নিপতিত হন। নারীরা হলো এর মধ্যে বেশী ঝুকিপূর্ণ । যদি তারা কোন পরিবারের প্রধান হন তবে তারা চরম দরিদ্র অবস্থার শিকার হন ।  তাদের আয় রোজগারের তেমন কোন ব্যবস্থাই প্রচলিত নেই । তারা পদে  পদে দুঃখ আর র্দুভোগের শিকার হন।
শহর অঞ্চলে ও দারিদ্রের হার কম নয় । প্রায় ৩৭% মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে । তবে যে সকল দরিদ্র মানুষ শহর এলাকায় বসবাস করছেন , বিশেষ করে ঢাকা, চট্রগ্রাম, খুলনা, এবং রাজশাহী তারা তুলনামূলক ভাবে একটু ভালো জীবন যাপন করছেন কেননা সেই শহর গুলো শিল্পাঞ্চল হিসাবে পরিচিত।
প্রথম বিশ্বের ভোগবাদী সংস্কৃতির কারণে বাংলাদেশ পরিবেশগত দুর্যোগের শিকার। দেশের বেশীর ভাগ মানুষ বণ্যাপ্রবন এলাকায় বসবাস করেন। তারা পদ্মা,গঙ্গা, যমুনা, মেঘনা সহ ছোট বড় নদীর কোলে বসবাস করে থাকেন। আর সেই সকল এলাকায় বসবাসরত পায় ৮০% মানুষ নানা প্রকার সংক্রমন জনিত রোগের শিকার হন। যেমন ডাইরিয়া, কলেরা, ডেঙ্গু ইত্যাদী ।  বাংলাদেশের মানুষের জীবন প্রণালী বহুলাংশেই পরিবেশগত পরিস্থিতির সাথে সর্ম্পযুক্ত।  আর এই সর্ম্পক বিশ্ব  তাপমাত্রর বৃদ্ধিই বাংলাদেশের জন্য কাল হয়ে দেখা দিবে। তাই বিশ্ব পুজিঁবাদ বিশ্ব পরিবেশকে উত্তপ্ত করলে বাংলাদেশের জন্য ভয়াভহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।
বিশ্বপুজিঁবাদের করালগ্রাসে যেমন তাজিন ফ্যাশন কারখানার শ্রমিকেরা পুড়ে মরেছে, তেমনি পুজিবাদের জন্যই দেশটি ঢুবে যেতে পারে । বঙ্গোপসাগরের লবন পানিতে। বাংলাদেশের শ্রমিকদের কষ্টের কারণ হলো তারা কাজ করেন অনিরাপদ পরিবেশ ও শোষন প্রক্রিয়ার ভেতর। তৃতীয় বিশ্বের জনগন পণ্য উৎপাদন করেন প্রথম বিশ্বের ব্যবসায়ী ও তাদের এদেশীয় বন্ধুদের জন্য। তৃতীয় বিশ্বের মানুষ কাজ করে সারা দিন, দিনের পর দিন। আর এর যত মুনাফা হয় , তা যায় প্রথম বিশ্বের মানুষের পকেটে ও তাদের চামচাদের থলেতে। তাজরীন ফ্যাশন কারখানায় ও তাই ঘটেছে। তৃতীয় বিশ্বের মানুষ পুড়ে মরেছে প্রথম বিশ্বের মানুষকে সর্বশেষ ডিজাইনের পোষাকটি সরবরাহ করবার জন্য। সেই পোষাকে যেন প্রথম বিশ্বের মানুষ আরাম আয়েশে চাকচিক্যময় জীবন যাপন করতে পরে.. আর ফুটানী দেখাতে পরে।
বিপ্লবই হলো চূড়ান্ত সমাধান ।
বাংলাদেশের যে সমস্যা, সমগ্র তৃতীয় বিশ্বে সর্বত্র সেই সমস্যা বিরাজমান, যেখানে দুনিয়ার সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের বসবাস। সীমাহীন শোষন, মানবেতর কাজের পরিবেশ ও অমানবিক জীবনযাত্রা। দারিদ্রতা, রোগশোক, দুর্যোগ মহামারী, গৃহ হীনতা, বস্রহীনতা, ঔষধপত্রের অভাব ইত্যদী মানুষের নিত্যসংগী। আর এ অবস্থার জন্য দায়ী হলো পুজিঁবাদ। পুজিঁবাদের উদ্দেশ্যই হলো ধনিক বা পুজিঁপতিদেরকে সেবা করা । পুজিবাদ চলেই মুনাফার উপর ভর করে। ইহা মানুষের সেবা বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য সৃজিত হয়নি। পুঁজিবাদ যে সমস্যার সৃষ্টি করে তা পুজিঁবাদের নিজস্ব পরিমন্ডলে সমাধান করা সম্ভব নয়। পুঁজিবাদ নিজেই সমস্যার একটি অংশ। ইহার সংস্কার ও সম্ভব নয় । মহান লেনিন শিখিয়েছেন, যদি পুজিঁবাদকে সংস্কারের জন্য রাখা হয় তবে তা সংশোধনবাদে রূপ নিবে। একটি পূর্ণাঙ্গ উত্তর যদি চাই , তবে এর একটি এবং একমাত্র উত্তর হলো সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। সমগ্র বিশ্ব ব্যবস্থাটি পাল্টে একটি নতুন ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। আর তা হলো , নয়াগণতন্ত্র, নয়া সমাজতন্ত্র, লিডিং লাইট কমিউনিজম।
বিপ্লব তো দুঃখ কষ্ট আর বেদনা থেকেই শুরু হয় । এছাড়া ও যে বড় কারণটি বিদ্যমান তা হলো পুজিঁবাদ বিশ্বব্যবস্থা হিসাবে চরম ভাবে ব্যার্থ হয়েছে । তাই বিশ্ব সর্বহারা শ্রেণী এক ঐতিহাসিক ও মহান দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসছে , সমগ্র মানুষের স্বাধিনতার জন্য এবং লিডিং লাইট কমিউনিজম প্রতিষ্টার জন্য । তাই তো লেনিন বলেছিলেন, বিশ্ব বিপ্লবের মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে প্রতিচ্যের দেশ সমূহ। আর মহান মাওসেতুং বলেছিলেন, পুবের বাতাস পশ্চিমের উপর দিয়ে বয়ে যাবেই। আর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মহান সেনানী লিন বিয়াও ঘোষণা করেছিলেন, বিশ্ব বিপ্লব হবে বিশ্ব জনযুদ্ধের ভেতর দিয়ে, বিশ্ব গ্রাম দিয়ে বিশ্ব শহর নগরকে ঘেরাও করা হবে । তৃতীয় বিশ্ব পরাজিত করবে প্রথম বিশ্বকে তা হবে চূড়ান্ত পরাজয়, আর সাম্য আর শান্তির জয় হবে, অন্য কিছু নয় ।
একটি বিপ্লব তখনই সফলতা লাভ করে, যখন এর সাবজেক্টিভ ও অবজেক্টিভ পরিস্থিতির সমাবেশ ঘটে। বিপ্লবের অবজেক্টিভ পরিস্থিতি বর্তমানে তৃতীয় বিশ্বে বিরাজমান। দারিদ্রতা, শোষণ এবং সমস্যা ইত্যাদী। যা বিরাজমান নয় তা হলো সাবজেক্টিভ পরিস্থিতি আর তা হলো, আদর্শ এবং সংগঠন বা পার্টি। আর তাই, এটা খুবই গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় যে, সবার আগে বিপ্লবের বিজ্ঞানকে সামনে আনতে হবে। লিডিং লাইট কমিউনিজম হলো গণমানুষের আকাঙ্খা। কেবল মাত্র প্রাগ্রসর বিপ্লবী বিজ্ঞানকে প্রয়োগের মাধ্যমেই আমরা পুরাতন দুনিয়াকে বদল করে এক নতুন দুনিয়া গড়ে তুলতে পারব। আমরা এক মহান জনযুদ্ধের ভেতর দিয়ে পুরাতন শক্তিকে অপসারিত করে নতুন শক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করে বিশ্ব সমতা, ন্যায় বিচার ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারব।  আজ সকল শক্তি তৃতীয় বিশ্বের মানুষের হাতে। তাই হাত মিলান লিডিং লাইটের সাথে। নিজে লিঢিং লাইট হয়ে উঠোন। মনে রাখবেন, তৃতীয় বিশ্ব আজ অপরাজেয়। -একেএম শিহাব
Advertisements