কিছুই না করার নীতি – প্রতিবিপ্লবেরই নামান্তর…

(llbangla.org)
দুনিয়া জোড়ে চলছে এক দুঃসহ পরিস্থিতি। পৃথিবীর প্রায় অধর্কেরও বেশী মানুষ এখনও তিন ডলারের কম রোজগার করেন এবং মানবেতর জীবন যাপনে নিপতিত আছেন। আমেরিকায় যত লোক আছে, তাঁর চেয়ে ও বেশী মানুষ ভারতে আছেন, যারা দিনে এক ডলারের ও কম আয় করে থাকেন। ২২,০০০ হাজার শিশু প্রতিদিন মারা যায় দারিদ্রতার কারনে। প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মানুষ তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমুহে অপুষ্টিতে ভোগছেন। এই বৈষম্য ধনিক দেশ ও গরীব দেশের মানুষের অনুপাত দাঁড়ায় ৭২ ঃ ১ জনে। বিশ্বের অধিকাংশ গরীব মানুষের বাস হলো তৃতীয় বিশ্বে। যাদের নুন আনতে পান্তা ফোরায় । পক্ষান্তরে, সুখি জীবন, সমৃদ্বির জীবন ও নানা ভাবে ভোগের জীবন হলো বিশ্ব বুর্জোয়াদের আবাস স্থল প্রথম বিশ্বে। তারা যা খায়- পড়ে তাঁর চেয়ে বেশী নষ্ট করে। প্রথম বিশ্বের এই সম্পদের উৎস হোল – তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলো। প্রথম বিশ্বের মানুষের বিলাসিতা তৃতীয় বিশ্বের মানুষের জিবনকে নানা ভাবে দুর্বিসহ করে তুলছে। তাদের বেঁচে থাকাই আজ হুমকির মুখে।বিশ্ব বুর্জোয়ারা আজ বিলাশ বহুল জীবন যাপন করছে – সারা তৃতীয় বিশ্বের মানুষ ও তাঁদের শ্রম শক্তি এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে শোষণ করে। তাঁরা ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক অসচেতন ভাবেই  একটি ব্যবস্থার ভেতর দিয়ে চলছেন। তাঁদের জিবনে ও এর কি প্রভাব তা তাঁরা নিজেরা ও জানেন না । প্রথম বিশ্বের কেঊ কেঊ সেই বিষয়ে সাধারণ ভাবে দৃষ্টি  আকর্ষন করলেও – তা তেমন কোন গুরুত্ব পাচ্ছে না । তবে এটা এখন প্রায় সকলেই বুঝতে পারছেন যে, তাঁদের বর্তমান সুযোগ সুবিধা গুলো সম্পুর্ন ভাবেই নির্ভর করছে – দুনিয়ার সম্পদের লুন্ঠন ও সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষের শোষণের উপর। তাঁরা যদি ও এই বিষয়টি বুঝতে পারছেন কিন্তু তাঁরা কিছুই করতে পারছেন না। সচেতন ভাবেই তাঁরা বিষয়টিকে উপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন, নিস্কৃয় থাকছেন। নানা কারনে  তাঁদের অপরাধ সম্পর্কে পূর্বের তোলনায় পরবর্তী দল ও গ্রুপ গুলো নৈতিক ভাবে অনেক দুর্বল । উভয় গ্রুপ ও দল গুলো অপরাধ করলেও বর্তমান দল গুলো জেনে বুঝে অপরাধ করছে।  আজ যারা মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখচ্ছেন – তাঁরা নিরবতা পালন করে মুখ ঘুড়িয়ে চলে যাচ্ছেন। তাঁরা সেই অসচেতন অপরাধীদের চাইতেও বড় অপরাধী। যারা বিশ্বের চলমান দুঃখ – বেদনার কথা স্বীকার করেন, তাঁরাও এর বিরুদ্বে কিছু করতে পারছেন না। এমন কি যারা কিছু করতে চাইছে তাঁদের প্রতি, তাঁদের সস্থার প্রতি সমর্থন দিচ্ছেন না – তাঁরা কিছুই না করার অপরাধ করছেন।

প্রথম বিশ্বের যারা চলমান সমস্যা সম্পর্কে সচেতন থেকে ও কিছু করছেন না, দুরত্ব বজায় রেখে চলছেন, আর সু-সজ্জিত ড্রইং রুমে বসে সাম্রাজ্যবাদের গুষ্টি উদ্দার করছেন, তাঁরা ও কিছুই না করার জন্য অপরাধী। আজকের দুনিয়া কিছুই না করার নীতি হলো মোটাদাগের সংশোধনবাদ।

আমাদের সামনে যে বাস্তবতা বিরাজ করছে তা থেকে আমরা দুরে থাকতে পারিনা । উন্নত আগামীর জন্য লড়াই করা থেকে বিরত থাকার কোন প্রশ্নই থাকতে পারেনা । আমরা নেতৃত্বের বুঝা কাধে নিব। আমরা সংকির্নতা ও এগুয়েমি বর্জন করব। আমরা যখন যা করা দরকার তা করা থেকে পিছপা হব না । আমরা জানি, বিপ্লব কোন সহজ কাজ নয়। সমগ্র দুনিয়ায় শান্তি, প্রগতি, ন্যায় বিচার, সুন্দর পরিবেশ কায়েম করা রাতা রাতি সম্ভব নয়। তবে  সফলতা আসবেই যদি আমরা লৌহ কঠিন একতা গড়ে তুলতে পারি – এক হয়ে দাঁড়াতে পারি। বিজয় আসবে সংগঠনের মাধ্যমে, শৃঙ্খলার মাধ্যমে, আনুগত্য ও দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে।  লিডিং লাইট কমিউনিজমের জন্য মরে যাওয়াই যতেস্ট নয়, দুনিয়ার মানুষের মুক্তির জন্য প্রান বিশর্জন দেওয়াই যতেস্ট নয়। আমরা অবশ্যই বাচতে চাই, ধৈর্য সহকারে প্রতিটি দিন – কেবল মহান বিপ্লবের জন্য। আমাদেরকে ছোট ছোট কাজের দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদেরকে আমাদের সময় ও সম্পদ খরচ করতে হবে । কেবল অঙ্গীকার ব্যক্ত করাই যতেস্ট নয়। তা আমাদেরকে কাজের মাধ্যমে প্রমান করতে হবে। আমাদের প্রতি দিন ই দায়িত্ব আছে। আমাদেরকে চলমান সমস্যার সমাধান দিতেই হবে। আমাদেরকে দুঃস্বপ্ন ভেঙ্গে জেগে উঠতেই হবে। আমাদেরকে সকল সময়েই মনে রাখতে হবে যে বিপ্লবীরা সব সময়ই আশাবাদী । জয় হোক সকল মেহেনতি জনতার !

Advertisements