বিশ্বে বস্তির পরিমান বাড়ছেই !

(llbangla.org)
জাতি সংঘের তথ্য অনুসারে, বিগত ১০ বছরে প্রায় ৫১ মিলিয়ন বস্তি তৈরী হয়েছে। ২০১০ সাল পর্যন্ত এক হিসাবে দেখা গেছে যে, বস্তিতে বসবাস কারীদের সংখ্যা ৮২৮ মিলিয়নে উন্নিত হয়েছে। তবে অন্যান্য হিসাবে এর পরিমান আরো অধিক বলে বিশেসজ্ঞগন মনে করেন। অস্বাভাবিক ভাবে, তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমূহে বস্তিবাসীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বস্তিবাসি মানুষের এই বৃদ্বিই একটি বড় উদাহরন হলো যে, তৃতীয় বিশ্ব এবং প্রথম বিশ্ব এক নয়। তাঁরা পরস্পর আলাদা বৈশিস্ট্য ধারন করছে। এটা আমাদেরকে এও বুঝতে সহায়তা করে যে, বিশ্বপল্লী ও বিশ্বশহরের  গুরুত্ব কি । তৃতীয় বিশ্ব বনাম প্রথম বিশ্ব। শোষক বনাম শোষিত শ্রেণীর পার্থক্য ।
প্রতিবেদন বলছে, এই ঘটনা প্রবাহ একটি শরনার্থী নগরীর জন্ম দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি মূলত নগর জিবনে একটি সহিংস পরিস্থির জন্ম দিচ্ছে। কেননা বস্তিবাসী মানুষেরা একটি অমানবিক জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে। তাঁরা কোনভাবে জীবন নিয়ে ঠিকে আছেন। তাঁদের অনেকেই এখন আর কাজ ও পাচ্ছেন না । তাঁরা কোন উৎপাদনের সাথে ও জড়িত নয়। তাঁরা একটি মারাত্মক স্থবির পরিস্থিতির শিকার। তাদের সংখ্যা কিন্তু কমছে না – বরং দিনে দিনে বাড়ছে। পুজিবাদি-সাম্রাজ্যবাদিরা কিছু এনজিও তৈরী করে  সাময়িক সাহায্য করে পরিস্থির তিব্রতা কে প্রশমনের চেষ্টা করছে । এই পরিস্থিতিতে  মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ এক অন্ধকার জীবনের দিকে যাত্রা করেছেন। অনূতপাদনশীল জীবন ব্যবস্থা তাঁদের জীবনকে করে তোলছে অসহনীয়। এরাই গড়ে তুলছে একের পর এক শরনার্থী নগর। তা বড় বড় নগরীতে ও সৃষ্টি হচ্ছে।  সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির প্রভাবে সাধারণ কৃষকেরা  অধুনিক প্রযুক্তি ও বাজার ব্যবাস্থার কারনে প্রতিযোগীতায় ঠিকতে পারছেন না । সেই কারনে ও বহু কৃষক এখন বেচে থাকার জন্য শহর মূখী হচ্ছে। অনুতপাদনশীল মানুষের সংখ্যা বৃদ্বি পেলে স্বাভাবিক ভাবে এক প্রকার নৈরাজ্যের সৃষ্টি করে থাকে। এই ধরনের পরিস্থিতি  পুজিবাদিদেরকে অরো মুনাফা করতে সহায়তা করে – তা মানুষের কোন প্রকার কল্যান সাধন করে না । মানব সমাজের জন্য এই ধরনের ব্যবস্থা অযৌক্তিক ও অনাকাংখিত। তৃতীয় বিশ্বের শহর নগরে এই ধরনের বস্তির সম্প্রসারণ মানুষের মাঝে দারিদ্র, পরিবেশ দূষণ, আয় বৈষম্য, সামাজিক অস্থিরতা তৃতীয় বিশ্বের নগর ও শহর জিবনে মানুষের স্বাভাবিক বিকাশকে বাঁধা গ্রস্থ করবে । প্রতিবেদনে  বিশ্বের সবচেয়ে বেশী বৈষম্য মূলক ১০ টি নগরের মধ্যে  দক্ষিন আফ্রিকার ৩ টি শীর্ষ  নগররের ঊল্ল্যেখ করা হয়েছে। যেমন – বাফেলো, জোহাঞ্চবার্গ এবং একুরাহুলানি। ৪ টি ব্রাজিলিয়ান শহরের ও উল্ল্যেখ আছে । যেমন – গোয়ানা, ফর্থালিজা, বেলু হরিজুনেট এবং ব্রাজিলিয়া।
মানব জাতির ইতিহাসে এখন যত লোক শহরে বসবাস করছে, তা এর আগে কখনো ঘটেনি। জন সংখ্যার এই সঞ্চালন -বিশ্বে নতুন বস্তি ও নতুন বৈষম্য সৃস্টি করেছে। চীনের মহান নেতা লিন বিয়াও বিপ্লবের সুত্রায়ন করতে গিয়ে বলেছেন যে, বিশ্ব বিপ্লব হবে বিশ্ব জন যুদ্বের মাধ্যমে। যা প্রাগ্রসর  বিশ্বপল্লী থেকে বিশ্ব নগরের দিকে ধাবিত হবে। তা তৃতীয় বিশ্ব থেকে প্রথম বিশ্বের দিকে এগিয়ে যাবে। এই তত্ব এখন ও সঠিক বলেই আমরা মনে করি। প্রতিটি দেশের জনযুদ্ব নিজ নিজ দেশের জন সংখ্যার এই সঞ্চালনকে কাজে লাগাবে। তৃতীয় বিশ্বের প্রতিটি মহা নগরের পাশেই বিশাল বিশাল বস্তি গড়ে উঠেছে। তাঁরা তাঁদের স্থানীয় প্রতিক্রিয়াশীল সরকার গুলোকে বিচুর্ণ করে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটাবে। যদিও কৃষক এবং গ্রামীন উৎপাদন কেন্দ্র গুলো জনযুদ্বের জন্য গুরুত্বপুর্ন কিন্তু  বর্তমান জনসংখ্যার এই সঞ্চালন আরো একটি নব দিগন্তের উন্মোচন করলো। লিডিং লাইট ও আগামী বিপ্লবের জন্য এই তত্বের সমর্থন করে। কেননা – এরাই হোলো নতুন প্রলেটারিয়ান, নতুন ভিত্তি এলাকা, নতুন ধরনের নতুন গণতন্ত্র, নতুন সমাজতন্ত্র। আগামি দিনের  সমস্যার মোকাবেলায় তাদেরকেই সামগ্রীক ভাবে প্রস্তুত করতে হবে। বিপ্লবী বিজ্ঞানে তাদেরকে সুসজ্জিত করতে হবে – শিক্ষিত করতে হবে প্রকৃত সাম্যবাদে। লিডিং লাইট কমিঊনিজম এই অভিযানে এগিয়ে আছে। একে এম শিহাব।

 

Advertisements