লিডিং লাইট ঃ সংস্কার পন্থীরা হলো ভীরুসিংহের মত !

(llbangla.org)
কিছুই না করার মতবাদ হলো সবচেয়ে বড় সংস্কারবাদ । এটা এখন  প্রায় সর্বত্র ই একটি  সাধারণ ঘটনা ।  অনেকেরই ধারনা – কোন একটি  চালু ব্যবস্থা হলো অলঙ্ঘনীয় বিষয়।  তাই, তাঁরা এর সামনে নিষ্ক্রিয় এবং আত্মসমর্পিত। তাই তাঁরা কোন প্রকার আন্দোলন সংগ্রামে শরিক হতে চায় না । এমন কি সাহায্যের জন্য ও হাত বাড়ায় না । তাই তাঁরা আরাম কেদারায় বসে বিশ্ব বুর্জোয়াদের সহযোগী হিসাবে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা সমূহ উপভোগ করছেন। তাঁরা নিজেরা নিজেদের বিবেকের সাথে বুঝা পড়া করেন এই বলে যে, তাঁরা তো কোন সমস্যার সৃষ্টি করছেন না । বরং কোন কোন সময় নিজেদেরকে শোষন মুক্তির সৈনিক হিসাবে ‘কমিউনিস্ট’ হিসাবে পরিচয় ও দিয়ে থাকেন। উন্নত বিশ্বের উপকার ভোগী হিসাবে তাঁরা নির্লিপ্ত জীবন যাপনে  অভ্যস্থ হয়ে উঠছেন – তাঁরা প্রচলিত সমস্যা সম্পর্কে জানা বা সেই বিষয়ে কিছু করার তাগিদ ও অনুভব করেন না । তারা আসলেই ভূল পথে চলছেন। এর মানে হলো – তাঁরা ক্রমে অধপতনের পথে যাচ্ছেন। এই ধরনের সংস্কারবাদী ধারা চলতে থাকলে এটা নিশ্চিত যে, ইতিহাসের অমোঘ নিয়মেই সীমাহীন অশান্তি ও ঝামেলা নেমে আসবে। আর তাঁর জন্য দায়ি হবে এই কাপুরুষতাবাদ বা ভীরু সিংহবাদ ।এই ভীরু সিংহ রা কখন ও  কখন ও বিপ্লবী বানী প্রচার করেন, তাঁরা খুব কমই বিপ্লবী কাজে ভূমিকা পালন করেন। এই কাপুরুষ গুষ্ঠি গেরিলা পর্ণগ্রাফী ছবি প্রকাশ করে, তাঁরা কোন দিনই সরাসরি মাঠের যোদ্বে অংশ গ্রহন করেন নি। তাঁরা ইন্টারনেটে, ফেইসবুকে ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু চটকদার ছবি, ভিডিও ক্লিপ পোস্টিং দিয়ে আত্মপ্রসাদ রচনা করে থাকেন। আরো হাস্যকর হলো – এই ভীরু সিংহরা ফেইসবুকে এ কে – ৪৭ এর ছবি নিজের টাইমলাইনে প্রকাশ করে বিপ্লবীপনা জাহির করেন। অথচ তাঁরা মাত্র ৫০ গজ দূরত্বে কিভাবে লক্ষ্য স্থির করে গুলি করতে হয় তা ও তাঁরা  জানেন না ।

এই ভীরু সিংহের দল মাঝে মাঝে বিশ্ব ব্যাপী গনযোদ্বের কথা ও বলে তর্যন গর্যন ও করেন, তাঁদের এই তর্যন গর্যন সত্যিকার বিপ্লবীদের উদ্যোগকে ও বিফল করে দেয়। সেই ভীরু কাপুরুষের দল এমন যে, তাঁরা সত্যিকার বিপ্লবীদেরকে সম্মান ও করেন না – যারা নিজেদের আরাম আয়েশ বিসর্যন দিয়ে জীবন বাজি রেখে লড়াই সংগ্রামে সার্বক্ষনিক ভাবে নিয়োজিত আছেন। যারা রক্ত দিচ্ছেন, জেল জুলুম খাটছেন। এই কাপুরুষ গুলো লালা পতাকা উড়াতে পচ্ছন্দ করেন, কিন্তু যখন দরিদ্র নিপিড়িত দেশে লালা পতাকার সংগ্রাম চলে তখন তাঁদের প্রতি সঙ্গহতি প্রকাশ করতে কার্পন্য করে। সেই ভীরু সিংহের দল নিজেদেরকে “কমিউনিস্ট” পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করে, কিন্তু দরিদ্র দেশ ও অঞ্চলে সত্যিকার সাম্যবাদী আন্দোলনে কার্যকরি সহায়তাদিতে অনিহা প্রকাশ করে থাকে। মুলত সেই কাপুরুষ চক্র প্রকৃত নেতা নয়, কমিউনিস্ট নয়, এমন কি তাঁরা কোন অগ্রগামী দলের সদস্য হবার ও যোগ্য নয়। তাঁরা চায় না ঝুঁকি পূর্ণ কোন ভূমিকায় অবতির্ণ হতে। নিজেদেরকে একজন সমাজ কর্মী, সমাজ সেবক ও সমাজ হিতৈষি হিসাবে দেখাতে আগ্রহী। দরিদ্র দেশ ও অঞ্চল গুলোতে এধরনের কিছু কাজ ও তাঁরা করে থাকেন। ৮০ র দশক ও ৯০ এর দশক থেকে এই ধরেন একটা মেকী উন্নয়ন ও সমাজ পরিবর্তনের ধারা তাঁরা চালু করেছেন। তাঁরা মাঝে মঝে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী কথা ও বলে একটি ধুম্রজাল তৈরীর প্রয়াস পান। সেই কাপুরুষ বিপ্লবীরা অর্থ হীন ভাবে সুর চিৎকার করে থাকে । তাঁরা যতটা সুর চিৎকার করেন ততটা কার্যকরী ভাবে কর্মে যুক্ত নয়। যদি কোন সংকট তৈরী হয় এবং সামনে এসে ভূমিকা রাখতে বলা হয় তখন তাঁরা লেজ গুটিয়ে নি্রাপদ আশ্রয়ের সন্ধ্যানে চলে যান। তাঁরা প্রয়োজনে তখন সব কিছুই করতে রাজি হয় – নিজেদের মতামত ও বক্তব্য গোপন করে গর্তে চলে যেতে ও তাঁদের লজ্জা লাগে না। তাঁরা সাধারনত দল বেঁধেই চলতে পছন্দ করেন।

এই ভীরু সিংহগন সাধারনত তেমন ক্ষতিকারক নন। তাঁরা ও তাঁদের ই মত ভীরু লোকদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন এবং বোকা লোকদের নিয়ে নানা প্রকার কল্পনা বিলাসে মত্ত থাকেন। তাঁরা লড়াইকে খুবই ভয় পান। তাঁরা নানা প্রকার মিথ্যার বেশাতি সাজায়, গাল গল্প ছড়ায়, তাঁদের মধ্যে যারা কিছু করতে সক্ষম তাঁরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে অগ্রনী ভূমিকা ও রাখেন। তাঁদের মধ্যে যারা অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন তাঁরা আবার সেই ভীরুদের তেমন গুরুত্ব দেন না । সেই ভীরু দেরকে প্রভাবিত করতে সেই সাহসী মানুষদেরকে আমাদের সাথে সম্পৃক্ত করতে চাই। কোন কোন সময় সেই ভীরুরা ও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন । যদি তাঁরা মনে করেন যে তাঁদের পেছনে বিশেষ কোন শক্তি কাজ করছে বা তাদেরকে কোণঠাসা করার প্রয়াস চলছে। ভীরুতার মাঝে ও তাঁরা প্রয়োজনে মরন কামড় দিতে পারেন।  অন্যতায় তাঁরা যেমন তেমন ই থেকে যান।

ভীরুসিংহ শব্দটি হলো একটি রুপক বিশেষ । ইহা এক ধরনের ব্যাঙ্গাত্বক পরিস্থিতির প্রকাশ মাত্র। ইহা এক ধরনের প্রতিবিপ্লবী শক্তি , তবে অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা নক ও দন্ত হীন প্রনীর মত তেমন বিপদজনক নয়। পক্ষান্তরে, প্রকৃত বিপ্লবী হলো সত্যিকার সিংহ । তাঁরা বাচে, মরে কেবল মানুষের জন্য। তাঁরা তাঁদের জীবন আংগুলের মাথায় ধারন করে চলেন। তাঁরা তাঁদের ইগু কে পাত্তা দেন না। তাঁরা তাঁদের মতপার্থক্যের উপর তেমন গুরুত্ব দেন না – ভোগেন না পরশ্রীকাতরতায়। তাঁরা তাঁদের স্বীয় দুর্বলতাকে স্বীকার করেন। তাঁরা সময় উপযোগী ভূমিকা রাখতে কুন্ঠিত হন না। তাঁরা তাঁদের কর্তব্য পালনে, আনুগত্যে, এবং অন্যান্যদের প্রতি শ্রদ্বা প্রদর্শনে কার্পন্য করেন না । লিডিং লাইট আন্দোলন হলো সত্যিকার সিংহদের আন্দোলন। যারা সর্ব প্রকার ত্যাগ স্বীকারে কুন্ঠিত নয়। তাঁরা যে কোন দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। তাঁরা নতুন পৃথিবী গড়তে সকল প্রকার বাঁধা অতিক্রম করতে বদ্বপরিকর। লিডিং লাইট অনুসরন করুন ! লিডিং লাইট হোন ! লিডিং লাইট দির্ঘজিবী হোক ! আমাদের সূর্য্য উঠছে ! আমাদের সূদিন আসছে ! – শিহাব

Advertisements