সম্পদ কি ? প্রথম বিশ্বের দেশে সমূহে ঋণ কি ?

(llbangla.org)
নাগরিকদের ব্যক্তিগত সম্পদের যে পরিসংখ্যান দেয়া হয় তা সাধারণ মানুষ সত্যিকার ভাবে তাঁদের দারিদ্রতা ও জীবন যাত্রার মান সঠিক ভাবে বুঝাতে পারে না। ফুটে উঠেনা সম্পদের প্রকৃত চিত্র। সম্পদ সাধারনত পরিমাপ করা হয় যে পদ্বতীতে তা হলো- মূলসম্পদ থেকে  ঋণ বিয়োগ করে যা থাকে তাই সম্পদ। ধনিকদেশ সমূহের বহু মানুষ আছেন যারা অতি অল্প নিজস্ব সম্পদ দিয়ে উচ্চতর জীবন যাপন করে থাকেন। এর প্রধান কারণ হলো ঋণ গ্রহন । ঋণী হওয়াটা ধনিক দেশের জন্য সূখকর না হলে ও তা তাঁদের জীবন যাত্রায় তেমন প্রভাব ফেলে না। উদাহরন হিসাবে ডোন্যাল্ডের কথা উল্লেখ করা যায়। ১৯৮০ ও ১৯৯০ এর দশকে তাঁদের বিশাল অংকের ঋণ ছিল। এমন কি তাকে ব্যাংক ঋণ খেলাফী বলে ঘোষনা ও করেছিলো। কিন্তু এর পর ও তিনি তার নিজস্ব হেলিকপ্টারে  ঘোরে বেড়িয়েছেন। বিলাস বহুল জীবন যাপন করেছেন। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশের এবং পেরুর  একজন কৃষক হয়ত ঋণ মুক্ত – কিন্তু তারা অনেক অনেক নিম্ন মানের জীবন যাপন করছেন। বাস্তবত, সেই কৃষকদের সম্পদের পরিমান সেই সময়ে ডুন্যাল্ডের চেয়ে বেশী ছিলো। কিন্তু সেই সময়ে ও কৃষকগন নিম্ন মানের জীবন যাপন করেছেন।
এই ঋণ মানে হোল – প্রথম বিশ্বের একজনের গড় ঋণ এবং তৃতীয় বিশ্বের একজনের গড় ঋণ। একজন তৃতীয় বিশ্বের মানুষের একটি ক্ষুদ্রে ঋণ ও তাকে এমন অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে, যাতে তিনি তার ছেলে মেয়েকে লেখা না করিয়ে দাসত্বের মত পরিস্থিতিতে কর্মে  নিয়োজিত করতে পারে। এমন কি দেহ ব্যবসার মত জগন্য কাজে ও তাকে নিয়োজিত করতে পারে।  কিন্তু অন্য দিকে, প্রথম বিশ্বের একজন মানুষের ক্ষুদ্র ঋণ বড় জোর তার জীবন যাত্রার মান কিছু টা কমিয়ে দিতে হতে পারে। আরো একটি বিষয় হলো, প্রথম বিশ্বের মানুষের মাঝে মধ্যবিত্তদের কাছে ঋণ মানে কি ? এই ঋণ কি তাদেরকে রাস্তায় ঠেলে দেয় ? না কি তাঁদের সন্তানদেরকে দাসত্বের মত কাজে নিয়োজিত হতে বাধ্য করে ? তাকে তাদেরকে অনাহারে রাখে ? অবশ্যই না, প্রথম বিশ্বে ঋণের ভিন্ন ভূমিকা রয়েছে। এখানে মোটা অংকের ঋণ গ্রহনের সুযোগ রয়েছে। প্রথম বিশ্ব ঋণ গ্রহনের জন্য যে সমস্ত সুযোগ সুবিধা সমূহ রয়েছে তৃতীয় বিশ্ব সেই সমস্ত সুযোগ সুবিধা একেবারেই অনুপস্থিত। কেবল তাঁরাই এখানে ঋণ পান যাদের উচ্চ স্তরে সুসম্পর্ক ররেছে, স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা আছে, এবং যাদের জীবন যাত্রা উন্নত। অথচ প্রথম বিশ্বে, তারা জীবন যাত্রার মান উন্নত করার জন্য ঋণ ব্যবহার করে থাকেন। তারা বাড়ি কিনেন যারা এককালিন অর্থ দিয়ে বাড়ী কিনতে পারেন না, সে খানে কিস্তির পরিমান এত কম যে অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে ও তা কম। তারা দৈনিন্দিন ব্যবহারের জন্য বিশাল অংকের জিনিষ পত্র ক্রয় করে থাকেন। যেমন – গাড়ি, মোটর সাইক্যাল, ইলেক্ট্রনিক্স পন্য ইত্যাদী। তারা শিক্ষার জন্য চাহিদা মত ঋণ অতি সহজেই নিতে পারেন। যা তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমূহে এখন ও সহজ লভ্য নয়। সেখানে নানা প্রকার পন্য সামগ্রী ক্রয় করার জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার ব্যাপক হারে ব্যবহার করা হয় । প্রথম বিশ্বে জনগনের জন্য ঋণ গ্রহন করা একেবারেই একটি সহজ বিষয় – যা তৃতীয় বিশ্ব অনেক কঠিন । তবে, ঋণ কত টুকু প্রভাবিত করে মানুষের জীবনে ? ঋণের পরিমান কি বাস্তবতাকে প্রতিনিধিত্ব করে ? সাধারনত তা করে না। ঋণের পরিমান দেখে কারো জীবন যাত্রার মান বুঝা সম্ভব নয়। সকল জনগণের  মধ্যে যারা মধ্যবিত্ত শ্রেনী। তাঁদের জীবন যাত্রার মান পরিমাপ করলে সকল জনগণের জীবন যাত্রার  মানার একটি চিত্র পাওয়া যেতে পারে।
যখন প্রথম বিশ্বের লোকেরা সারা দুনিয়ার ঋণের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন। তখন অনেকে তাঁদের এই পরিসংখ্যান বুঝতে পারেন না – আসলে তারা এই তথ্যাবলী দিয়ে কি বুঝাতে চান। সত্যিকথা বলতে কি তারা নিজেরা ও জানেন না যে, কোন তথ্য কি কি বুঝায় ? এটা এক ধরেন আভিজাত্য, জাহির করার মাধ্যম ও প্রথম বিশ্বের আত্মপরিচয় তোলে ধরার ব্যবস্থা। যখন ই কোন তথ্য তোলে ধরা হয় তখন ই মানুষের উচিৎ তা বিশ্লেষণ করা। অন্ধভাবে কিছুই গ্রহন করা উচিৎ নয়। প্রথম বিশ্ব হলো একটি বালির বাঁধ। যা অল্প বৃষ্টিতেই বিলিন হয়ে যেতে পারে। তাঁদের নিরাপত্থার চাদর একটু শিতিল হলেই তা তচনচ হয়ে যেতে পারে। প্রথম বিশ্ববাদ হলো একটি সাধারণ মতান্দ্বতা বিশেষ। এর সাথে মার্ক্সবাদের কোন সম্পর্ক নেই। মার্ক্সবাদ ভেসে যাবার মত কোন আদর্শ নয়। মার্ক্সবাদের রক্ষক হলো সাধারণ জনগণ। এখন ও মার্ক্সবাদের কর্তৃত্বের সমস্যা রয়েছে। সময়ে সকল প্রকার মতান্দ্বতা বিদূরিত হবেই। বিজ্ঞানের আগমন ঘটবেই। ইহাই সত্যিকার গণতন্ত্রের চর্চার সময়। এখন ই আলোকিত সাম্যবাদের আগমনের সময় । #শিহাব
Advertisements