লিডিং লাইটের ইতিহাস সম্পর্কে উত্তর অ্যামেরিকায় কথোপকথনের সার-সংকলন…

Questions

(llbangla.org)

সম্প্রতি আমরা লিডিং লাইট সম্পর্কিত কতিপয় প্রশ্নের সম্মোখিন হয়েছি। আমরা সাধারনত এ সকল বিষয়ে নিরব থাকি, তবে এই প্রশ্নের উত্তর কিছুটা খোলাসা করার মনস্থ করেছি। এই প্রশ্নের সকল উত্তর দেয়া সম্ভব নয় কেননা তাঁর সাথে এমন কিছু ব্যাক্তি জড়িত যাদের সম্পর্কে না বললে তা পরিস্কার হবে না । অথচ তাঁদের নিরাপত্তা জনিত কারনে তাঁদের কথা এখানে বলা মুশকিল। আমরা চাই সত্যিকার ইতিহাস বলতে কিন্তু বাস্তবতার কারনে তা সম্ভব নয়। আমরা এখানে লিডিং লাইটের প্রেইরী ফায়ারের কাছ থেকে প্রাপ্ত কিছু ইতিহাস তোলে ধরছি।

১. আপনি কখন থেকে মিম বা আন্তর্জাতিক মাওবাদি আন্দোলনের বিরুধিতা শুরু করেছিলেন ?

ইহা সম্ভবত ১৯৯০ সাল থেকে, ল্যাতিন অ্যামেরিকায় এবং আমার বিদ্রোহের অধিকার কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা থেকেই শুরু হয়েছিলো। আমি নিজেকে এখন মাওবাদি মনে করি না। ১৯৯০ সালের পর থেকেই আমি আর মাওবাদি হিসাবে পরিচয় দেই না। আমি প্রথম একটি তথ্য সংক্রান্ত দোকান থেকে মিম বিষয়ক একটি দলিল প্রাপ্ত হই। তখন থেকে আমি রিম ও মিম এর বই পুস্তক পড়তে শুরু করি। আমি মিম কে পত্র লিখলে তারা আমাকে বিনা মূল্যে তাঁদের দলিলাদি দিতে থাকেন। আমি নিজে পড়ছিলাম আর শহরে তা বিতরন ও করছিলাম। তারা ঘটনা চক্রে আমাকে জানালো আমি যথার্থ ভাবে তাঁদের কাজ করছি না। আমি তাঁদের এই কথার প্রতিবাদ করলাম। তাঁদের আচরন বন্দুসুলভ ছিলো না। তারা আমাকে কাগজ দেয়া বন্দ্ব করে দিলো। এই বিষয়টি আমাকে বেশ নাড়া দেয়। তবে সেই সময়ে আমি আরো বেশ কিছু বিপ্লবী বই পুস্তক ও দলীল পত্র পড়তে থাকি। আমি নিজেকে কখনও মিমের সদস্য হিসাবে পরিচয় দেই নাই বা তাঁদের চিন্তা ধারা উন্নয়নে কোন কাজ ও করি নাই।

২. মিম সম্পর্কে আপনার অভিযোগ গুলো কিকি ?

ইতিমধ্যেই অনেকেই মিম সম্পর্কিত আমার মতামত জানতে পেরেছেন। মিম সম্পর্কে আমার অনেক সমালোচনা আছে । এখানে সব কিছু বলার মত সময় ও সুযোগ নেই। এই সমালোচনা গুলো একটি সুদির্ঘ সময়ে তৈরী হয়েছে। নিম্নে কিছু উল্লেখ করলাম-

১. প্রথম বিশ্ববাদ মিম জাতিয়তার পক্ষে উকালতি করে, পরিচিতির রাজনীতি করে, তারা প্রথম বিশ্ববাদের সুবিধা ভোগী এবং প্রথম বিশ্ববাদ চর্চা করেন ইত্যাদি হলো তাঁদের প্রধান সমস্যা।

২. মিম এর নিরাপত্তাবাদ- মিম সাধারনত আর সিপি র পক্ষে কথা বলে, তারা বব এভাকিয়ানের ও ভক্ত। আবার মিমের ও নিজস্ব নিরাপত্তা বলয় আছে। নিরাপত্তা বিষয়ে তারা আরচিপির সাথে ও আলোচনা করে এবং আরসিপি নিরাপত্তার দিক টি ব্যাক্তি পুজার সাথে ও একেই ভাবে দেখে থাকে। মিম সর্বদা এমন একটি ভাব দেখায় যেন সে প্রতি মুহুর্থেই আক্রন্ত হতে যাচ্ছে। যদি একটি দল সর্বদা আক্রান্ত হবার ভয়ে থাকে তবে নিজের দুর্বলতা বা নেতৃত্বের সিমাবদ্বতা আবস্কার ও সংশোধন করা সম্ভব হয় না। যদি ধরে নেই যে, মিম সর্বদা আক্রান্ত হবার পরিস্থিতিতে আছে তবে তারা পালটা কি ব্যবস্থা রেখেছেন ? তা কি ডিম্ব বোমা নিক্ষেপ ? তাঁদের এই আভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি আমার একেবারেই ভালো লাগেনি।

৩. মিম এর মতান্দ্বতা- এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো মিম এর কাজের ইতিহাস। মিম মুলত আর সিপির বই অনুসরন করে থাকে। মিম এবং আর সি পি স্ট্যালিনের মত একই পদ্বতী অনুসরন করে। তবে আর সি পি তাঁর অবস্থান ইতিমধ্যেই পরিবর্তন করে ফেলেছে। তাঁদের পদ্বতি আসলেই ইতিহাস ভিত্তিক নয় তারা যে ইতিহাস গড়ে তুলেছেন তা হলো মাও ও স্ট্যালিনকে আরো উপরে তুলার ইতিহাস। তাঁদের পক্ষে উকালতির ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের ভিত্তি হলো পিকিং এর ভেজাল তথ্যাবলী। সত্যিকার অর্থে আমি যখন লিন বিয়াও সম্পর্কে অনুসন্দ্বান করি তখন তা মিম কে ও বিভ্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়আমি দেখলাম মিম দ্বন্দ্ববাদের পরিবির্তে মতান্দ্বতাকে বেশী পছন্দ করছে। তাঁদের রাজনৈতিক অর্থনীতির ভিত্তি ছিলো শ্রমিক তত্ত্ব – এখানে উৎপাদনকারী শ্রমিক না কি অনুতপাদনকারী শ্রমিক ইত্যাদি। তারা অন্দ্বের মত এর পার্থক্য নিয়ে বিশ্লেষণে মত্ত্ব ছিল। তারা লিঙ্গ ভিত্তিক শ্রমিক

তত্ত্বের বিশ্লেষণে ও ভুল পথ অনুসরন করেছেন।

৪. মিম এর মাঠের কাজ ও পার্টি গড়ে তুলতে অনিহা আর সিপির সাথে বনি বনা না হওয়ায় মিম তাদেরকে তিব্রভাবে ঘৃনা করতে থাকে। তারা একে ‘দলপূজা’ বলল। অথচ সেখানে দল গড়ে তুলার মত কোন শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তি ই নেই। এই পুরো বিষয় টি ছিলো একটি প্রহেলিকার মত। মিম কর্মী সংগ্রহে তেমন আগ্রহ ই দেখায় নি। তারা বলতে শুরু করলেন যে, আমাদের প্রধান কাজ হলো আন্দোলন করা আর আলোড়ন তুলা পার্টি গড়ে তুলা প্রধান কাজ নয়। আমি লিডিং লাইট গড়ে তুলার সূচনায় তাঁদের এই নীতির সমালোচনা করেছিলাম। আমি লিখে ছিলাম “ আপনি ১০ জন লোকের চেয়ে ১০০ জন লোক নিয়ে বেশী আন্দোলন করতে পারেন”। পরবর্তীতে আমি এই দাবী ও জানিয়েছিলাম যে, কেহ যদি মনে করেন যে তাঁদের প্রধান কাজ আন্দোলন করা, তবে সংগঠন গড়ে তুললে তা তাঁদের জন্য অধিক কার্যকরী হবে। আর সদা কর্মী সংগ্রহের ব্যবস্থা না থাকলে যারা নানা কারনে দল ত্যাগ করবেন সেই জায়গা পুরন হবে কেমন করে। মিম এর দল গড়া ও কর্মী সংগ্রহের বিরোধী মনোভাব তাদেরকে হেনরী পার্কের ( মিম-৩,এমসি-৩) এর পর্যায়ে নামিয়ে দেয়। আর এটা ছিলো তাঁর সম্পুর্ন ব্যাক্তিগত একটি প্রকল্প যার ভিত্তি ছিলো কারাদন্ড প্রাপ্ত লোকজন। তা ছাড়া ও আরো কিছু বিষয় ছিলো । যেমন মিম সর্বদা ই আরসিপিকে ধ্বংস করতে চাইতো, তাঁদের ব্যাক্তি পূজা নিয়ে কথা বলত, আর তাঁদের সেই মনোভাবের কারনে আর সিপির ভালো কাজ গুলো ও তাঁদের নজরে পড়েনি। সংগঠন গড়ার ক্ষেত্রে আর সিপি যা পেরেছে মিম তা মোটেই পারনি। যেহেতু, প্রথম বিশ্বে সামাজিক শক্তিশালী ভিত্তি নেই তাই সেখানে ব্যাক্তি পূজা বা গ্যাং ইত্যাদী গড়ে তুলতে হবে। যেহেতু, সামাজিক ভিত্তি নেই তাই কয়েক ডজন বুদ্বিজিবীর একটি শক্ত ঐক্যের শক্ত ভীত রচনা করা দরকার। সামাজিক প্রতিক্রিয়াশীল চক্রকে মোকাবেলা করতে আপনার প্রয়োজন শৃখলা ও আনুগত্যের শক্ত ভিত। আমি আবার আমার লিখার একটি লাইন বলছি-“ শ্রদ্বাবাদ আমরা কেন গড়ে তলব না ? ব্যবসায়ী গ্রুপ বা গ্যাং গড়ে তুলব না ? এই গুলো ও বিশ্ব গন লড়াই গড়ে তুলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। মিম এর চিন্তাধারা এখন ও প্রথম বিশ্ববাদের আচলে বন্দ্বি হয়ে আছে। কতিপয় বুদ্বিজীবীর মাঝেই আবর্তীত হচ্ছে তাঁদের কর্মসূচি। আমার দৃষ্টিতে মিমের কার্যক্রম যতটা না আন্দোলন ভিত্তিক তাঁর চেয়ে তারা বিতর্ক মূলক লেখালেখিতেই বেশী সিমাবদ্ব। প্রথম বিশ্বের গতানুগতিক কর্ম ততপরাতায় তাদেরকে তেমন চোখেই পড়েনা। তাই, অমি চাইলাম যে সত্যিকার ভাবে কিছু একটা করি। তাই মিম কোথায় কি লিখল যে, লিডিং লাইট “শ্রদ্বাবাদী” বা “গ্যাংস্টারবাদী” তা আমরা তুড়াই কেয়ার করি।

৫. মিম এর সাধারণ জ্ঞান আছে বলে আমাদের মনে হয় না মিমের লোকেরা সাধারণ মানুষের সাথে মিশতে ও জানেন না । তাঁদের মানুষকে আকর্ষন করার ও ক্ষমতা নেই। কোন বিষয় কিভাবে উপস্থাপন করতে হবে সেই যোগ্যতা ও নেই। ভাবমুর্তি গড়ার কৌশল তো এদের একেবারেই নেই ।

মিম সম্পর্কে সর্বশেষে বলতে হয়, আমি যখন কিছু দলিলাদি তৈরীর কাজ করছিলাম, তখন মিম এর প্রকাশিত কাগজ পত্র দেখছিলাম । সেই সময়ে আমার মনে হয়েছে তাঁদের সম্পর্কে বলার তেমন কিছু ই নেই। সেই গুলো তেমন কোন গুরুত্ব ই বহন করে না । তারা ও তাঁদের নিজস্ব দল বাড়াতে তেমন কোন আগ্রহ দেখায় না। বরং তাঁদের কেউ কেউ আমাকে টিটকারী করে বলেছেন, জেনারেল পি এফ। সত্যি কথা বলতে কি তা একেবারে মিথ্যা ও নয়। আসলে আমি ও মিমের বিনাশ চাহি না । আমি চাই তারা যৌক্তিক ভাবে বিপ্লবের পথে আসুক। যারা ইতিমধ্যে তাঁদের সম্পর্কে জানতে পেরেছেন তারা তাঁদের ও আমাদের পার্থক্যটা ও বুঝতে পারবেন।

. ‘বিদ্রোহের অধিকারকার্যক্রম কি ?

বিদ্রোহের অধিকার’ – একটি সংস্থার নাম। ইহা মিমের একটি অংশ যা মূলত কতিপয় চিন্তক শ্রেনীর মানুষ নিয়ে গঠন করা হয়েছিল। আমি ই এর প্রতিস্টাতা চেয়ারম্যান ছিলাম। এর লক্ষ্য ছিলো মাওবাদিদের জন্য একটি ফোরাম গড়ে তুলা। আমি প্রস্তাব দিয়েছিলেম একটি ধারাবাহিক আলোচনার, যেখানে মিমের চিন্তক ব্যাক্তিরা ও ভারতীয় মাওবাদীদের প্রতিনিধি এতে অংশ গ্রহন করবেন।

মজার ব্যাপার হলো আমাদের এই গ্রুপে ভারতীয় যে কমরেড ছিলেন তিনি একটি স্ক্যানার কিনে দিয়েছিলেন। সেই স্ক্যানার দিয়ে বেইজিং রিভিউর অনেক কপি পিডিএফ আকারে স্ক্যান করে ইন্টার নেটে ছাড়া হয়। আমি ও অন্যান্য কমরেড গন সেই কাজে ব্যাপক পরিশ্রম করি। এটা ছিলো এক ধরনের প্রথম বিশ্ব থেকে তৃতীয় বিশ্বে সম্পদ সঞ্চালনের উদাহরন। সেই স্ক্যনার টি এখনো আমার কাছে আছে। সেই সময়ে প্রধানত সকল কার্যক্রম আমার নেতৃত্বেই পরিচালিত হত। সেই গ্রুপে মিম ও রিম উভয় দল থেকেই কমরেডগন এসে কাজ করতেন। হঠাত পুলিশের হুমকির কারনে ভারতীয় কমরেড আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন। আমরা সেই সময়ে সকলেই একই রকম করে চিন্তা ভাবনা করতাম। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো পরর্বতীতে মিমের সাথে আমাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। মিমের চেয়ারম্যান নানা ভাবে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে, সন্দ্বহের জাল বিস্তার করে বিলুপ্তিবাদের দিকে আমাদেরকে ঠেলে দেন এমন কি সেই সময়ে আমাকে মেরে ফেলার ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছিলো। সন্দ্বেহের জাল মারাত্মক আকার ধারন করে। আমি তখন নিজেকে মিম থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করি। সেই সময়ে আমাদের গ্রুপে ও নানা বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়। ফলে আমাদের মাঝে ও বিভক্তি অনিবার্য হয়ে পড়ে। ফলে একটি গোপন কমিটি গঠন করতে বাধ্য হই। সেই গোপন কমিটি নতুন কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়ে তাঁর সমন্বয় সাধন করতে থাকে। সেই কমিটি অন লাইন পত্রিকা ‘বানর বিনাশ করল ধরনী’ ও সেবুল মর্গানের ভিডিও প্রকাশ করে। সাথে সাথে কিছু অফ লাইন কাজ ও করা হয়। আমি নিশ্চিত ভাবেই বলছি যে, সেই সময়েই “ মাওবাদি-তৃতীয় বিশ্ববাদি” শব্দ সমূহ ব্যবহার করা হয়েছিলো। উদ্দেশ্য ছিলো নতুন লাইন রচনা করার। সেই সকল পত্র পত্রিকায় যে সকল প্রবন্দ্ব প্রকাশ করা হয়েছিলো তাঁর ৯০% ই আমার নিজের লিখা। সেবুল মর্গান ভালো ভিডিও বানাতে পারত সে ও তখন কিছু নতুন ভিডিও চিত্র প্রকাশ করে । সেই সময়ে নিক ব্রাউন একজন আলাদা ব্যাক্তি ছিলেন। তাঁর নিজস্ব একটি সংস্থা ছিলো যার নাম রিয়ান। আমাদের গোপন কমিটি সেই সময়ে ও ব্যাপক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলো। একসময় নিক ব্রাঊন, আমাদের অন্যান্য কমরেড ও বন্দুরা মিলে আনুস্টানিক ভাবে একটি সংগঠনের জন্ম দিলেন । যার নাম রাখা হলো লিডিং লাইট কমিউনিস্ট অর্গানাইজেশন । লিডিং লাইটশব্দটি আমরা এখানে প্রথম ব্যবহার করলেও তা লেনিন তাঁর লেখনি ও বক্তব্যে বহুবার ব্যবহার করেছেন। তা সাবেক সৌভিয়েত সাহিত্যে উল্লেখিত আছে। ইহা প্রধানত জ্ঞান বিজ্ঞানে আলোকিত নেতৃত্বকে বুঝানো হয়েছে। আমরা সেই নেতৃত্ব সৃজনে কাজ করছি।

. আপনি কি আমাদেরকে একটি সময় কালের ক্রমধারা জানাবেন ?

সেই সময় টা সত্যি আমার জন্য ছিলো এক উত্তেজনা কর পরিস্থিতি। আমি সেই সময়ে উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সাথেই সময় কাঠাতাম। ১৯৯৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ছিলো রাজনৈতিক গ্যাং গড়ে তুলার সময়। সেই সময়ে আমি লাতিন অ্যামেরিকার কমরেড দের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলার জন্য মেক্সিকো থেকে লাতিন অ্যামেরিকায় সফর করেছি। এটা ও ২০০৭ সাল পর্যন্ত। এর মধ্যেই আবার কারাগারে আটক বন্দ্বিদের সাথে যোগাযোগের কাজ ও করেছি ২০০৫-২০০৮ পর্যন্ত। আমাদের সকল কার্যক্রম গোপন কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে এসেছে ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত। এর পর গোপন কমিটি বাদ দিয়ে এম এস এইচ ওয়েব পেইজ উন্নয়ন করি। সেবুল মর্গান অল্প সময়ের মধ্যেই সেই ওয়েব পেইজটির উন্নয়ন ঘটান। আমরা নিক কে বহিস্কার করি। সে রেইম নাম নিয়ে আরো একটি ওয়েব পেইজ চালু করে । আমরা আমাদের সকল কার্যক্রম লিডিং লাইটের আওতায় এনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। ইহা আমাদের আন্দোলনের নতুন যাত্রা। ইহার সময় কাল হলো ২০১১ ও ২০১২ সাল। আমরা এখন জাতিয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ও কাজ করছি।

৫. ‘বিদ্রোহের অধিকার’- এর কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা আমাদেরকে বলবেন ?

এখন আমার মনে হয় বিদ্রোহের অধিকার কে মিম এর সাথে মিলিয়ে কাজ করার চিন্তা আমার একটি বিরাট ভূল ছিলো। মিমের সাথে কাজ করতে গিয়ে যে সময় ও মেধা খরচ করছি তাঁর জন্য নিজেকে অপরাধী মনে হয়। তবে, সূচনা থেকেই আমার ভেতরে একটি সন্দ্বেহ দানা বেধে ছিলো তাঁদের কার্যক্রমের ধরন দেখে। আমি ই সেই প্রথম ব্যাক্তি যে, তাঁদের নেতৃত্বের সাথে বিতর্ক করি ও মিমের মুল নেতৃত্বকে ধাক্কা দেই। আর সেই জন্যই আমি মনে করি সেই অভিজ্ঞতা আমার কোন না কোন কাজে

আসবে, তবে সেই সময়ের রাজনীতি ছিলো খুবই অন্দ্ব এবং ধংসাত্মক। তবে সেই সময়ে আমি অনেক কিছু শিখেছি ১৯৯০ সালের মাঝামাঝিতে আমি লিডিং লাইটের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করি। তবে তা ছিলো খবই অপরি পক্ষ। বিদ্রোহের অধিকার- ও মিমের কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা আমাকে তীক্ষ্ণ ও গভীর ভাবে চিন্তা করতে শেখায়। আমি তাঁদের চিন্তার প্রবাহ গতিকে পর্যবেক্ষন করি। সেই পর্যবেক্ষন আমাকে উন্নততর বিপ্লবী বিজ্ঞান সম্পর্কে সচেতন করে। আর তা থেকেই লিডিং লাইট কমিউনিজমের ভিত্তি রচিত হয়। তা অনেকটা সক্রেটিসের ডায়লগ এর মত। থিসিস-এন্টি থিসিস-সিন থিসিস। লিডিং লাইট হলো একটি সিন থিসিস।

৬. প্রকাশ্যে লাল পতাকা উড়ানো সম্পর্কে আপনার মতামত কি ?

আপনি যদি প্রথম বিশ্বের কোন গতানুগতিক অন্দোলন সংগ্রামী হন তবে প্রকাশ্য আপনার কমিউনিস্ট পার্টি করার দরকার কি। আপনি বরং লোকদেরকে সংগঠিত করার জন্য “শ্রদ্বাবাদ” গড়ে তুলুন। তাঁর জন্য কমিইনিস্ট সুলভ শ্রদ্বার দরকার আছে কি ? কেবল এক ধরনের শ্রদ্বাবাদ হলেই হলো জনগনকে বলুন যুদ্বের বিরোধিতা করার জন্য, বলুন সেনা শাসনের বিরুধিতা করতে ইত্যাদি। আপনি যদি মনে করেন আপনার কাজ কেবল প্রথম বিশ্বেই সিমাবদ্ব রাখতে চান তবে লাল পতাকা আপনার কাজের ক্ষতি করবে। ইহা প্রকারান্তরে তৃতীয় বিশ্বের কাজের ও ক্ষতি করবে। যেখানে বিপ্লবের কোন সামাজিক ভিত্তি নেই সেখানে লাল পতাকা উড়িয়ে কোন লাভ নেই। তাতে আপনার কাজের কার্যকারিতা কমে যাবে। আর সেই কারনেই লিডিং লাইট লাল পতাকা গোপন করে প্রথম বিশ্ব নানা প্রকাশ্য সংগঠন নিয়ে কাজ করছে। মিম কোন কোন সময়ে সেই সত্যটা বুঝতে পারে। তবে তারা তা অনুসরন করতে পারেন না। তাঁর কারণ হলো তারা তাঁদের পরিচিতির জন্য ব্যাপক সাধনায় লিপ্ত হন। মাওবাদি বলে পরিচয়দেবার একটা প্রবনতা তাঁদের মধ্যে কাজ করে। লিডিং লাইট প্রকাশ্য কমিউনিস্ট। তবে কাজ করছে তৃতীয় বিশ্বে বিপ্লবের ক্ষেত্র প্রস্তুতের জন্য।

৭. অল্প, অল্প কিন্তু ভালো করে– এ বিষয়ে আপনার মতামত কি ?

সত্যি গুনাগুন সম্পন্ন কাজের কোন বিকল্প নেই। আমি এ বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত। কিন্তু প্রশ্ন হলো গুনা গুন বলতে কি বুঝায় ? আপনার যদি লক্ষ্য হয় বুর্জোয়া আদর্শকে বুদ্বি বৃত্তিক প্দ্বতিতে পরাজিত করা – তবে আপনাকে বুদ্বিজীবি ধরনের লোক সংগ্রহ করতে হবে। আর প্রথম বিশ্ব এখন সেই কাজটি ই চলছেএখানে গুনাগুন বলতে বুঝায় যিনি উচ্চ শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা। যিনি লিখতে পারেন এবং ভালো ভাবে যুক্তি তর্কের মাধ্যমে আপনার লাইন টি তোলে ধরতে পারেন। আপনি যদি চান যে, কলেজ ক্যাম্পাসে পত্রিকা বিক্রি করাবেন – যা গতানুগতিক ভাবে প্রথম বিশ্ব হচ্ছে, কিছু প্রতিবাদ সভা করা, মানব বন্দ্বন করা তবে – সেই রকম উৎসাহী লোকদেরকেই বেশী করে সংগ্রহ কবেন। উপরে উল্লেখিত উভয় পন্থায় ই চিত্তাকর্ষক বা ক্যারিশমেটিক লোক পাওয়া কঠিন। এটা একটি ভিন্ন ব্যাপার। যদি আপনি লিডিং লাইটের রাজনৈতিকগভীরতাটা খেয়াল করেন তবে দেখবেন, এখানে ভিন্ন রকমের গুনাগুনের সাক্ষাৎ পাবেন। যেমন শৃঙ্গখলা, সমর্পন, কোন প্রকার নিষ্কৃয়তা নেই বরং লড়াই করার জন্য যেকন ধরনের ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা বিদ্যমান রয়েছে। কাপুরুষের মানসিকতা থেকে কোন কিছুই করা সম্ভব নয়নেটে ব্লগ লিখে আর রাস্তায় পত্রিকা বিক্রি করে কিছুই হয়না। আমরা এক ভিন্ন ধরনের লিডিং লাইট কমিউনিজমের বিকাশ ঘটিয়েছি। তাকে আমরা বলছি উচ্চতর বিজ্ঞান বা নিচের স্তরের বিজ্ঞান। এখানে বহু সিংহ হ্ররদয়ের মানুষ আছেন, উরা দায়িত্ব পালনে কুণ্ঠিত নন। তারা তেমন মেধাবি না হলে ও সাহসিকতায় উচ্চ স্তরে রয়েছেন। তারা সাধারণ শ্রমিক তত্বের নামে কিছু দাবী দাওয়া আদায়ের জন্য গতানুগতিক সভা সমাবেশ না করে একটি নতুন পৃথিবী গড়ার জন্য লড়াই করতে জলে, জঙ্গলে ও বস্তিতে প্রস্তুত হচ্ছে। তারা উদ্দেশ্য হাসিলে মৃত্যুকে ভয় পায় না। তবে যারা মার্ক্স পড়েন তারা সকলেই মাওয়ের লিবারেশন আর্মির সদস্য নয়। এর মানে এই নয় যে, তারা বিজ্ঞানের নিচু স্তরে সংগঠিত হতে পারবেন না। অনেকটা প্লাটোর ‘ মহান অলস’ দের মতই। সেন্দ্রো প্রায় ই বলতেন আমরা অমাদের জীবনকে বন্দুকের নলের মাথায় নিয়ে ঘুরি”। এর অর্থ হলো- জীবন ও অর্থ বিলিয়ে দেবার মানসিকতা পোষণ করা। আমরা সেই গুনাগুন সম্পন্ন মানুষকেই খুজচ্ছি।

৮. সাম্রাজ্যবাদিদের মধ্যে পারষ্পারিক দ্বন্দ্ব সম্পর্কে আপনার চিন্তা ভাবনা কি ?

লেনিন তাঁর সময়ে সঠিক কথাই বলেছিলেন, সাম্রাজ্যবাদিদের মধ্যে পারস্পারিক দ্বন্দ্ব ক্রমে বাড়ছিলো। তারা একটি বিশ্ব যুদ্বের চক্র ও গড়ে তুলেছিলেন। কাউটস্কি ই ভূল ছিলো। তবে, আজ, সামাগ্রীক অর্থেই সকল কিছু বিশ্বায়ন হতে চলেছে। আমাদেরকে এই পারস্পরিক বিরোধ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। এমন কি রাশিয়া ও পশ্চিমাদের মধ্যকার রাডারের একটি ক্ষুদ্র বিন্দু থেকে আমরা শিখব। একটা সময় ছিলো যখন আমরা পারমানবিক আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। তা বর্তমানের চেয়ে ভয়াবহ ছিলো। সারা তৃতীয় বিশ্বে চলছিলো একটা ছায়া যুদ্ব। আমি আমার এই ক্ষুদ্র জিবনেই তা দেখলাম। সাম্প্রতিক কালে, আমরা রাশিয়া ও পশ্চিমা দুনিয়ার মাঝে যে পরিস্থিতি চলছে তাতে আবার সেই পুরাতন জায়গায় ফিরে যাওয়ার কোন লক্ষন নেই। অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদের একটা বিশ্বায়নীয় রূপ আমরা দেখতে পাচ্ছি। সেটা অনেকটা লিন বিয়াও যেমনটা লিখেছিলেন, সে রূপভাবেই সাম্রাজ্যবাদ সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের সাথে যুক্ত হয়েছে। তারা যৌথ ভাবে বিশ্ব পল্লীর দেশ সমূহকে শোষন করার পথ বেঁছে নিয়েছেন। আরো যারা এই সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন তারা হলেন- হার্দিত ও ন্যাগ্রী। তাঁদের কথায় তেমন কোন নতুনত্ব ছিলো না ।

আমাদের মধ্যেই উনেকেই লিডিং লাইট কে আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসাবে বলে থাকেন, আমি যদি ও তা মনে করিনা । তৃতীয় বিশ্বের বন্দ্বু এরূপ আরো আনেক অভিধা দেয়া হয় যা মিমের চিন্তা চেতনার মতই। জাতীয় মুক্তি, জাতীয়তাবাদের অনুসরণ, জাতীয়তাবাদের বন্দ্বু ও পরিচিতির রাজনীতি ইত্যাদী। এই সকল ক্ষেত্রে আমাদের সাথে অন্যদের বেশ কিছু পার্থক্য বিদ্যমান আছে। বিশেষ করে মিম এবং লিডিং লাইটের মধ্যে। এছাড়া পেন্থারিজম অন্যতম। তারা এখন প্রথম বিশ্বে নিপিড়িত জাতির পক্ষে কথা বলেন – পক্ষান্তরে আমরা তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমূহে সংগঠন গড়ে তুলার চেষ্টা করছি। প্রচেস্টা চালাচ্ছে গনলড়াইয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে। লিডিং লাইট প্রথম বিশ্বে তার প্রতিরোধ আন্দোলন বিলুপ্ত করে নাই। তবে প্রধান গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাপী গন লড়াই তৈরির জন্য। আমরা প্রথম বিশ্বে আন্দোলন করলেও তৃতীয় বিশ্বে নানা সম্পদ সরবরাহের চেষ্টা করে যাব। তবে বিষয়টি সমস্যা সংকুল ও জটিল।

৯. আপনি কি বলবেন বিগত বছর গুলোতে বিশেষ কি অগ্রগতি হয়েছে ?

আমি মনে করি ১৯৯০ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত যে পরিমান রাজনৈতিক কার্যক্রম আমরা করেছি তাঁর তুলনায় এখন তাঁর গতি বেশ বৃদ্বি পেয়েছে। আমরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশী ভালো অবস্থায় রয়েছি। কাজ গুলো চমৎকার। ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। সূর্য উঠছে ! আমাদের দিন আসছে!

১০. আপনি কি আরো কিছু বলতে চান ?

আমি আরো যে বক্তব্যটি রাখতে চাই তা হলো – এখানে সব কিছুই সঙ্গকিপ্ত আকারে বলা হয়েছে। বহু বিষয় এখানে বাদ পড়েছে। বিশেষ করে নানা দেশে আমাদের কাজ কর্ম সম্পর্কে। আমাদের কোন তিক্ত বা পলায়নের ইতিহাস নেই। আমাদের সাথে যারা আছেন তারা সকলেও গুনাবলী সম্পন্ন লোক। আমি বিশ্বাস করি তারা প্রত্যেকেই স্ব স্ব স্থানে থেকে সুন্দর দুনিয়া গড়ার লড়াই করছেন। এই বিশ্ব কাজ না করে অলৌকিক ভাবে কিছুই অর্জন করার উপায় নেই। আত্ম সমর্পনের কোন পথ নেই। হাটুর উর ভর দিয়ে বাঁচার চাইতে- পায়ের পাতার উপর ভর দিয়ে মরা ভালো আমি প্রতিক্ষায় থাকি সেই লোকদের জন্য যারা সত্যিকার অর্থেই বিপ্লব করতে চান। যারা সত্যিকারে ত্যাগী মানুষ। যারা বন্দুকের ট্রিগারের উপর আঙ্গুল দিয়ে বাঁচেন।

Advertisements