ইসলামী রাষ্ট্র প্রসঙ্গে…

beheading

(llbangla.org)

সম্প্রতি ন্যাটোর এক সম্মেলনে অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক ঘোষনায় বলেছেন, অন্যান্য দেশের সাথে মিলে ইসলামিক রাষ্ট্র তথা আই এস আই এস বা আই এস আই এল কে “দমন করবেন এবং তাদের স্বপ্ন বিলাশ ধুলায় মিশিয়ে দিবেন”, এর সাথে সাথে উত্তর ইরাক ও সিরিয়ার মানুষের নিরাপত্তা ও নিশ্চিত করবেন। ব্রিটেন ইতিমধ্যেই এই আহবানে সাড়া দিয়েছেন। ওবামার সাম্প্রতিক এই ফাঁকা বুলির কারনেই অ্যামেরিকার দুই জন সাংবাদিকের শিরোচ্ছেদের ঘটনা ঘঠেছে। এই শিরোচ্ছেদের ঘটার জের ধরেই ইসলামিক রাষ্ট্রের সেনাসামরিক স্থাপনা গুলোতে অ্যামেরিকা ব্যাপক বোমা বর্ষন করেছে। তাদের উপর বোমা নিক্ষেপের অভিযান এখন ও অভ্যাহত আছে। অতি সম্প্রতি ইরাকের হাদিত ডেমের উপরে ও তাঁর আশে পাশের সামরিক স্থাপনা গুলোতে বোমা বর্ষন চলছে। অধিকন্ত, অ্যামেরিকা সেখানকার সাধারণ জনগেনের জন্য ত্রান সামগ্রীর বহর পাঠাচ্ছে। অ্যামেরিকার সাম্প্রতিক কার্যক্রম দেখে একথা ভাবার কোন অবকাশ নেই যে, ইসলামিক রাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বা প্রগতিশীল কোন দলের নাম।

তাদের এই দ্বান্দ্বিক অবাস্থা কেবল ইরাক ও সিরিয়ার দৃশ্য দেখে পুরোপুরি বুঝা যাবে না । ইস্লামিক রাষ্ট্র মুলত একটি আঞ্চলিক লড়াই পরিচালনা করছে। সাধারণ ভাবে দেখলেই আমরা দেখতে পাই যে, এক দিকে ইরান, আসাদ, হিজবুল্লাহ, ইরাকী শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা, পক্ষান্তরে, অন্য দিকে অ্যামেরিকা ও তাঁর আঞ্চলিক বন্দ্বু রাষ্ট্র সমূহঃ আরব দেশ, সুন্নি সম্প্রদায়ের মানুষ, জর্ডান ও তুরষ্ক এবং ইসরায়েল ইত্যাদি। এছাড়া বাহরাইনের রাজকীয় ব্যবস্থার বিরুদ্বে বিদ্রোহিরা ও এর সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছেন।

যদিও এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি যে সাম্রাজ্যবাদ ইসলামিক রাস্ট্রকে ধ্বংস সাধনের জন্য এক দিকে কাজ করছে কিন্তু অন্য দিকে তাঁরাই আবার এদেরকে লাই দিয়ে মাথায় তুলছে। নানা ভাবে এদেরকে দুধ কলা দিয়ে পুষছে। ইসলামিক রাষ্ট্র সৃজনের মূল কারন হলো ইরানকে প্রতিরোধ করা এবং তাদের সহযোগী হিযবুল্লাহ, আসাদ, সিরিয়া, ইরাকের শীয়াদেরকে খতম করা। সাম্রাজ্যবাদের জন্য ইরান ইসলামিক রাষ্ট্রের চেয়ে বেশী ভয়ংকর শত্রু । সাম্রাজ্যবাদ ভয়ে আছে এই ভেবে যে, ইরান পারমানবিক শক্তি নিয়ে একটি ভিন্ন মাত্রার পরাশক্তিতে পরিণত হতে চলেছে। ইরানীদের প্রভাব বলয়কে সঙ্কুচিত করতে সাম্রাজ্যবাদ পিছনের দরজা দিয়ে আরব দেশ সমূহ, তুরষ্ক, ইসরায়েল ইত্যাদির মাধ্যমে ইসলামিক রাস্ট্রকে সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মুহাম্মদ জাবেদ জাফরী সাম্রাজ্যবাদিদের ফাঁকা বুলি সম্পর্কে বলেছেন,

“ এখন ও মার্কিনীরা তাদের হুমকি বা শত্রুর বিরুদ্বে তেমন কোন ভূমিকাই গ্রহন করেন নি……. বরং তারা ইসলামিক রাস্ট্রকে প্রকারান্তরে সাহয্যই দিয়ে যাচ্ছে”।

সামগ্রীক বিবেচনায় আজ সাধারণ মানুষকে ইসলামী রাষ্ট্র এক ভয়ঙ্কর অতংকের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। চরম নিস্টুরতা, নির্মুমতা তারা দেখাচ্ছে। তারা সাধারণ সুন্নি, শীয়া, খৃস্টান, কুর্দি, আরব কাঊকেই নির্মমতা থেকে রেহাই দিচ্ছে না। সাম্রাজ্যবাদ নিজেদের বাঁচানোর জন্য তারা গৌত্রে গৌত্রে, জাতিতে জাতিতে, সম্পদায় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবেধ সৃষ্টি করেই থাকে। এটা সাম্রাজ্যবাদের পুরাতন খেলা । ইরাক এবং সিরিয়ায় এখন নানা ভাবে জনগণ বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। সেই বিভক্তি জাতিয়তার প্রশ্নে, ধর্মের ইস্যুতে, বা আঞ্চলিকতার ইস্যু প্রধানত কাজ করছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাবে ভাগ করতে পারলে সাম্রাজ্যবাদের জন্য নিয়ন্ত্রন করা অতি সহজ কাজ। এখন ইসলামিক রাস্ট্রকে সাম্রাজ্যবাদ এই বিভক্তির কাজে ব্যবহার করছে। উদ্দেশ্য হলো – এই অঞ্চলকে জয় করা আর নির্বিবাধে শাসন করা ও শোষণ চালানো।

ীমাহীন বর্বরতা, নিস্টুরতা ইসলামিক রাষ্ট্রকে একটি নায়কোচিত ইমেজ দান করেছে।ইসলামিক

রাষ্ট্রের দ্রুত বর্ধন, বিশেষ ধরনের পোষাক আশাক, গন কবর, মুন্ডু বিহিন লাশের স্তূপ, নানা প্রকার ভীতিকর ভিডিও চিত্র, মানুষ খতমের দৃশ্য, শিশুদের কান্নার ছবি, মানুষকে দাসে পরিণত করা ও গন হত্যার দৃশ্যাবলী এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে যাতে মানুষ সহজেই সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দোসরকে স্বাগত জানায়। তাদের বর্বরতার দৃশ্যাবলী কেবল গন মাধ্যম নয় বরং তা সাধারণ মানুষের মাঝে ও সাম্রাজ্যবাদের হস্তক্ষেপ কে সমর্থন যোগাচ্ছে । বিশেষ করে যারা সংখ্যা লগু তারা তাদের আশ্রয়ের জন্য সাম্রাজ্যবাদ ছাড়া আর কাঊকেই দেখছেন না। এমন কি তারা সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে অস্ত্র নিয়ে লড়ায়ে নামতে ও দ্বিধা করছেন না । সাম্রাজ্যবাদিদের উদ্দেশ্য ও কৌশল খুবই সহজ। তারা পেছনের দরজা দিয়ে ইস্লমিক রাস্ট্রকে সাহায্য করছে আর অত্যাচারের মাত্রা বৃদ্বি করছে। যাতে তাদের হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে কোন প্রকার অসুবিধা বা কোন প্রশ্ন না উঠে।

আমাদের উচিৎ উপরের ঘটনা প্রবাহের গভীরে নজর দেয়া । ইসলামিক রাষ্ট্র সাম্রাজবাদ বিরোধী কোন জোট নয়। সামগ্রীকভাবে তারা পরস্পরকে সাহায্য করছে। যখন ইসলামিক রাষ্ট্র তাদের পারস্পরিক বুঝা পড়ার ক্ষেত্রে কোন সীমা লঙ্গন করছে তখনই তাদের মাঝে কিছুটা দ্বন্দ্ব আমরা দেখতে পাচ্ছি। সময় ই সকল কিছু পরিস্কার করে দিবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এটা এখন দিবালোকের মতই পরিস্কার যে, ইসলামিক রাষ্ট্র মধ্য প্রাচ্যের দেশ সমূহের মানুষের মাঝে ব্যাপক বিভক্তি আনয়নে বিশাল ভুমিকা পালন করেছে। যা সাম্রাজ্যবাদকে হস্তক্ষেপ করতে আর কোন প্রকার চিন্তা করতে হবে না । ইসলামিক রাষ্ট্রের মুখে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বক্তব্য একটি ভাওতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এগুলো আসলেই একটি সস্তা বুলি ছাড়া আর কিছুই নয়। ইসলামিক রাষ্ট্রের এই লড়াইয়ের চুরান্ত ফলাফল কোন মানুষের মুক্তির পথ নয় , ইহা দাসত্ব আর বর্বতা, গন হত্যা, এবং অধিক মাত্রায় সাম্রাজ্যবাদী শোষণের সহায়ক। তাদের ধর্ম কোন ভাবে ই মানুষের মুক্তির বার্তা এনে দিতে পারবে না। কোন জাতিকেই মুক্ত করবে না। সাম্রাজ্যবাদকে মোকাবেলা করার জন্য আর বিভক্তি নয় বরং একতা বদ্ব হও! কেবল বিজ্ঞান, কেবল লীডিং লাইট কমিউনিজম ! সাম্রজ্যবাদকে বিনাশ করতে পারে। কেননা বিজ্ঞান বাস্তবতার সাথে সম্পৃক্ত। ইহা সকল মানুষের জন্য , সকল দেশের জন্য, সকল জাতির জন্য এক মাত্র মুক্তি পথ!

Advertisements