মুক্তির আলোয় এসো লিডিং লাইটের প্রধান পি এফ এর একটি সাক্ষাৎকার

AL03

(llbangla.org)

১. আপনার দৃষ্টিতে বর্তমান সমস্যা কি ? পৃথীবীতে কি ঘটছে ?

আমরা এখন যে বিশ্বে বসবাস করছি তাতে প্রচুর দরিদ্র মানুষ, দুঃখী মানুষ ও নানা নির্মমতার শিকার মানুষের সংখ্যা কম নয়। দুনিয়ার চারিদিকে চলছে নানা রকমের মানবতা বিরুধী সন্ত্রাস। বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ, বিশ্ব ধনিক শ্রেনী ও প্রথম বিশ্বের লোকেরা আমাদের সম্পদ, আমাদের ভবিষ্যৎ ও দুনিয়ার ভবিষ্যতকে লুন্ঠন করছে অবিরত। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ এখনো তিন ডলারের বেশী আয় করতে পারেন না । ৮০০ মিলিয়ন মানুষের এখনো নিরাপদ পানি পান করার ব্যবস্থা হয় নাই। শত শত মানুষ এখন ও দৈনিন্দিন জীবনে নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে পারেন না । ফলে নানা রোগ সূখের শিকার হয় তারা। দারিদ্রতা তাদের নিত্য সঙ্গী। তাদের খাদ্য নেই, ঔষধ নেই, কাপড় নেই, বিষাক্ত পরিবেশে বাস করে । চলছে অবিরাম যুদ্ব। গুপ্ত হত্যা, খুন, ড্রোন হামলা, বোমা হামলা ও আত্মঘাতী আক্রমন। অবিচার, অন্যায় ও নির্মমতা এখন সর্বত্র। আমাদের মানুষেরা মরছে যেখানে সেখানে। আমাদের সকলের প্রীয় জন্ম ভূমি এই প্রীয় গ্রহটি এখন ধংসের মূখে। আমারা যদি ফিরে না দাঁড়াই, কাজ না করি, তাহলে কিছুই হবে না । তা হলে আমাদের সন্তানদের এবং তাদের সন্তানদের কোন ভবিষ্যৎ নেই। আমাদেরকে অবশ্যিই যুদ্বে ফিরতে হবে। আমাদের সন্তানদের ভালোর জন্য। আমাদের সুদিনের জন্য। তবে আমরা অন্দ্বকারে গুলি ছুড়তে চাই না। আমাদের জিততে হলে আমাদেরকে বিপ্লবী হিসাবে তৈরী করতে হবে। আমরা আলোকিত সাম্যবাদের শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। জানতে হবে বিপ্লবী বিজ্ঞান সম্পর্কে। তত্ত্ব ছাড়া অনুশীলন অন্দ্ব। আলোকিত সাম্যবাদই আমাদের এগিয়ে যাবার একমাত্র পথ ও পন্থা।

২. আপনারা আসলে কি চান? কি ধরনের বিশ্ব গড়তে চান ?

বিগত দিনের বিপ্লবের ঢেউগুলো ব্যার্থ হয়েছে। আমরা আবার আমাদের অতিতের ভুল গুলোকে লালন করতে চাই না। আমরা সেই ভূল গুলো নিয়ে আবার সামনে এগোতে চাই না । আমাদেরকে অতীত সম্পর্কে ভালো ভাবে বুঝতে হবে। অতিত থেকে শিক্ষতে হবে, আমাদেরকে তার সংশোধন করতে হবে। সকল প্রকার মতান্দ্বতা পরিহার করে অগ্রসর বিপ্লবী বিজ্ঞানকে প্রয়োগে এগিয়ে আসতে হবে। নির্ধারক হিসাবে সামনে রাখতে হবে আলোকিত সাম্যবাদকে । যে সকল শৃংখল আমাদেরকে বন্দ্বি করে রেখেছে তা ভাঙ্গতে হবে। সেই শিকল একটি ই হোক বা একাধিক হোক। আমরা এখন নানা প্রকার শৃংখল দ্বারা দেয়ালের সাথে আটকে আছি। আমরা অবশ্যই শ্রেনীর, বর্নের, জাতির, লিঙ্গের ও অন্যান্যের শিকল ভেঙ্গে বেড়িয়ে আসতে হবে। কেহই স্বাধীন হতে পারেন না – সকলকে স্বাধীন না করে। আমাদের লড়াইটা ই হলো সকল পুরাতন পন্থা ও ক্ষমতা কাঠামোর বিরুদ্বে। আমরা প্রথম বিশ্বের মুড়লদের বিরুদ্বে সামগ্রীক লড়াই ঘোষণা করছি। আমারা চাই এমন একটি নতুন দুনিয়া গড়তে যেখানে থাকবে না দারিদ্রতা, কষ্ট, নির্মমতা, কোন প্রকার যুদ্ব, ধর্ষন, খুন হত্যা ও অবিচার। আমরা চাই একটি সমতার দুনিয়া। শান্তি ও ন্যায় বিচারের পৃথিবী। যেখানে থাকবে আনন্দ, ও সুখ । মানুষকে সেবা করুন। আমরা একটি সত্যিকার স্বাধীন দুনিয়া চাই। যেখানে আমাদের সন্তানেরা সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। পৃথিবীতে নতুন ফুল ফোটবে। দুনিয়ার সকল মানুষ একই উদ্দেশ্যে মহান কাজে ব্রতী হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আমরা যদি বিপ্লবী বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে সমাজের নয়া নক্সা তৈরী করতে পারি – তা হলে সকলই উপকৃত হবেন। প্রচলিত নিচু, ভোগবাদি, অর্থগ্রিদনু শ্রেনী ভিত্তিক সমাজে মানুষের দুঃখের সীমা থাকে না। আমরা আমাদের সমাজে মানুষের মাঝে সাহস, পর উপকারীতা, সহযোগীতা ও সহ ভাগীতার পরিবেশ তৈরী করতে চাই। সৃজনশীলতা, শিল্, সাহিত্য ও নায়কোচিত মানষিকতা বিকাশ ঘটাতে চাই। আমরা দক্ষ কর্মী বাহিনী, যুদ্বা, নির্মাতা ও বিজ্ঞানী তৈরী করতে চাই। আলোকিত সাম্যবাদের সত্যিকার চর্চাই আমাদেরকে তা অর্জনে সহায়তা করতে পারে।

৩. আমাদের পক্ষে কে থাকবে ? কে আমাদেরকে সমর্থন দিবে ? কে ই বা বিপ্লব সাধন করবে ?

“ কে আমাদের শ্ত্রু ? কে আমাদের বন্দ্বু ?” মহা বিপ্লবী মাওসেতুং দুনিয়ার চার ভাগের এক ভাগ

মানুষের মাঝে বিপ্লব সাধন করতে গিয়ে তিনি ও বিপ্লবের জন্য এইরূপ “প্রথম প্রশ্ন করেছিলেন”দুর্ভাগ্যবশত, মাওয়ের বিপ্লবের সামনে ছিলো বলশেভিক বিপ্লব – যা ইতিমধ্যেই ব্যার্থ হয়ে গিয়ে ছিলো। কিন্তু তিনি তা থেকেই শিক্ষা গ্রহন করেছিলেন। তাই আসুন মাওয়ের মত আমরা ও সেই প্রশ্ন করি। যদি সত্যিই আমরা বিপ্লব চাই তবে আমাদেরকে বুঝতে হবে কারা প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন চান না । কারা আমাদেরকে থামিয়ে দিতে চায় । আর কারা তা করেন না । কারা আমাদের কাজে খুশি হন। প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্বে আমাদেরকে জানতে হবে সামাজিক শক্তি কারা, কোন শ্রনী, কোন দল বা উপদলকে পরিচালনা করা যাবে। এখন দুনিয়ায় পুঁজিবাদই হলো বিশ্ব ব্যবস্থা। এবং সাম্রাজ্যবাদ হলো সর্বত্র একটি বিরাজমান ব্যবস্থা। শ্রেনী বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কেবল নিজেদের সমাজ কে, নিজেদের এলাকাকে, প্রতিবেশীকে বিশ্লেষণ করলে হবে না – তা করতে হবে বিশ্ব ব্যাপী ও বিশ্ব পরিসরে। দুনিয়ার কোন একটি অংশকে বুঝতে হলে তা ও সামগ্রীকতার ভিত্তিতে বুঝতে হবে। স্থানীয় অবস্থাকে বুঝতে হলে বিশ্বকে ও অবশ্যই বুঝতে হবে। এটাই অজকের বাস্তবতা।

উনিশ শতকে কার্ল মার্ক্স দুনিয়াকে একটি ভিন্ন বাস্তবতায় দেখেছিলেন, সেই সময়ে ইউরূপীয়ান সমাজ একটি নতুন পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছিলো। বৈজ্ঞানিক এবং প্রকৌশলগত রূপান্তর ঘটছিলো দ্রুত। কৃষকরা তাদের জামি থেকে বহিষ্কার হয়ে শ্রমিকে পরিনত হচ্ছিলেন। সেটা ছিলো আধুনিক উৎপাদনের প্রারম্ভ। নতুন নতুন কল-কারখানা তৈরী হচ্ছিলো। গড়ে উঠছিলো শিল্পবাদ। মার্ক্স দেখেছিলেন প্রতিনিয়ত সমাজে প্রলেতারিয়েত বাড়ছে। একদিকে বাড়ছে পুঁজিপতির সংখ্যা, যারা কলখানার মালিক, সম্পদের মালিক, কারখানার মালিকেরা অভিজাত সামন্তে থেকে গেলেন। কেবল নামের পরিবর্তন ঘটেছে। সামন্তপ্রভূ পরিনত হলেন কারখানার মালিক বা শিল্পপতিতে। পুরাতন শাসক চক্রই নতুন নামে আসলেন। অন্যদিকে দেখা গেল এমন একটি শ্রেনী যাদের শৃংখল ছাড়া হারাবার আর কিছুই নেই। তিনি তাদেরকে নতুন বিপ্লবী শক্তি হিসাবে বিবেচনা করলেন। যাদের নাম “প্রলেতারিয়েত”। তার সময়ের সেই প্রলেতারিয়েত, বিপ্লবী শক্তি, শিপ্ল শ্রমিক যারা কিছুই ধারন করেন না, যারা ভূমি থেকে উচ্ছেদ হয়েছে এবং শ্রমিকে পরিনত হয়েছে, যাদের কেবল শ্রম বিক্রি করা ছাড়া আর কিছুই নেই । দুনিয়ার সকল সমাজই রূপান্ত্রিত হচ্ছে। পুজিবাদ সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছে তাদের মাঝে অস্থিরতা বিরাজ করছে। পুরাতন সামাজিক কাঠামো ভেঙ্গে গেছে, পরিবার ভাঙ্গছে, অন্যান্য সামাজিক প্রতিস্টান গুলো ও ভেঙ্গে যাচ্ছে। গ্রামীন ঐতিহ্যগত নানা রীতিনীতি শুকিয়ে যাচ্ছে দিনে দিনে । নতুন নতুন শহূরে সংস্কৃতির উন্মেষ হচ্ছে। মার্ক্স বিশ্বাস করতেন পুজিবাদি ও শ্রমিক শ্রেনী এবং ধনিক শ্রেনী ও দরিদ্রদের মধ্যে দ্বন্দ্ব অনিবার্য। আর এই দ্বন্দ্বই বিপ্লব আনয়ন করবে। ফলে সমাজে সাম্য ও সমতার বিধান চালু হবে। যাকে তিনি সাম্যবাদিসমাজ বলেছেন। একেই তিনি বৈজ্ঞানিকনীতি মালার ভিত্তি হিসাবে অভিহিত করেছেন।

প্রায় দুই শতাব্দি আগে মার্ক্স দুনিয়াকে কিভাবে দেখেছিলেন। এখন কার পৃথিবী আগের চেয়ে অনেক পৃথক। ইহার ইউরূপে মত নয় বা ইউরূপীয় ধারায় ও নয়। সত্যিকার ভাবে বিগত শতাব্দিতে আমরা যা দেখলাম তা হলো সেই সকল জায়গায় ই বিপ্লব হয়েছে যাখানে সামাজিক ও রাজনৈতিক বন্দ্বন গুলো অপেক্ষা কৃত দুর্বল । আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয় । লেনিন ভবিষ্যৎ বানী করেছিলেন, আগামীতে বিপ্লবের ঢেউ পূর্ব দিক থেকে পশ্চিমে যাবে। মাওসেতুং বলেছিলেন পুর্বের বাতাস পশ্চিমের বাতাসের উপর প্রাধান্য পাবে। আজকের অর্থনীতি সারা বিশ্বে একেই নামে পরিচিত হয়েছে। আমাদের শ্ত্রু মিত্র চেনার জন্য মাওয়ের প্রথম প্রশ্ন – কে আমাদের বন্দ্বু এবং কে আমাদের শ্ত্রু? তার জন্য দুনিয়াময় শ্রেনী চরিত্র বুঝতে হবে। এর উত্তর কেবল এই নয় যে প্রথম বিশ্বের ধনিক শ্রেনীই বুঝি আমাদের শ্ত্রু আসলে তা নয়; বরং প্রথম বিশ্বের প্রায় সকল নাগরিকই এই কাতারে পড়ে। প্রথম বিশ্বের একজন সাধারন মানুষ ও চায় না তার বর্তমান অবস্থার নেতিবাচক কোন পরিবর্তন হোক- তারা তাদের শিকল ভাঙ্গতে চায় না । কেননা তাদের সম্পদ আছে, সুযোগ আছে, গাড়ী আছে, বাড়ী আছে, সকল প্রকার বিলাস দ্রব্য তাদের ঘর ভর্তি। এছাড়া তারা ভ্রমন ও আবসর কাটানোর সময় পাচ্ছেন। পুজিতে তাদের রয়েছে যতেস্ট অধিকার। তাদের সামাজিক সম্পদ, অবকাঠামো, জমি ও আধুনিক প্রতিস্টানের মালিক তারা । তাই সামগ্রীক বিবেচনায় প্রথম বিশ্বের মানুষ বিপ্লবের জন্য কোন প্রকার শ্রেনী স্বার্থ দেখতে পান না ।

কোন প্রকার বিপ্লব না করেই প্রথম বিশ্বের মানুষ যতেস্ট সুখে শান্তিতে আছেন। তারা বুঝেন যে বিপ্লব মানেই সম্পদ হারানোর ঝুকি আছে। বিপ্লবের ঝুকিতে নিজের, পরিবারের, সন্তানের ক্ষতি হতে পারে। এমন কি এতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। শ্রমিক ও প্রথম বিশ্বের মানুষ শিকল ভাঙ্গার কাজ থেকে অনেক নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করেন। ধনি দেশের দরিদ্রতম মানুষেরা ও বিপ্লবী কাজে জড়িত হতে চায় না কেননা তাদের সংখ্যা অতি নগন্য। তাদের জন্য ও সেখানে নানা প্রকারের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তাদের শ্রেনী গত সচেতনতার ও দরকার মনে করেন না বিপ্লব নিয়ে ভাবতে ও তারা আগ্রহী নয়। আমরা কি বললাম, কি করলামা তাতে তাদের কোন মাথা ব্যাথা ও নেই। প্রথম বিশ্বের বিপ্লবের জন্য কোন প্রকার বিপ্লবী সামাজিক ভিত্তি নেই। তারা কোন প্রকার বিপ্লব চায় না ।

তৃতীয় বিশ্বের ধনী ব্যাক্তিরা প্রথম বিশ্বের বন্দ্বু। তারা সাম্রাজ্যবাদের অংশ। তাদের জন্য তাদের ভাগ রেখে দেয় প্রথম বিশ্বের শোষক চক্র। তারা এরূপ একটি ব্যবস্থার সৃজন করেছেন। তারা প্রথম বিশ্বের এজেন্টের ভূমিকা পালন করে থাকে। তারা তাদের নিজেদের দেশের পিঠে নিজেরাই চাকু মারে। তারা প্রথম বিশ্বের জন্য নানা সম্পদ চুরি করে প্রথম বিশ্বের জন্য। তারা ও মুড়লের মতই কাজ করে থাকে।

তাহলে আমাদের বন্দ্বু কে ? আজকের সত্যিকার সর্বহারা কারা ? মাও বলেছিলেন, “ জনগণের সেবা করুন”কিন্তু এরা কোন মানুষ ? মার্ক্স বলেছিলেন পুজিবাদ অনেক অনেক মানুষের কস্টের কারন হবে। পুঁজিবাদই ব্যবস্থা মানুষকে ঠেলতে ঠেলতে পতনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে, তাদেরকে উচ্ছেদ করবে, পথে প্রান্তরে ঘুড়িয়ে মারবে। কেবল একটি বিপ্লবের মধ্যমেই মানুষ তা থেকে নিরাপদ হতে পারেন। বিপ্লব হলো আশাহীনদের জন্য আশার আলো। আমাদের বিপ্লবের বন্দ্বু হলো সমাজের সংখ্যা গরিস্ট মানুষ। যেমন- কর্মজীবি, দরিদ্র কৃষক, গৃহহীন, ক্ষুদ্র দোকানের মালিক, বস্তীবাসী ও তৃতীয় বিশ্বের সাধারন মানুষ। এই মানুষ গুলোই সকল কিছুকে ভেঙ্গে ঘুড়িয়ে দিয়ে বিপ্লব করতে পারবেন। তারাই হলেন সেই মানুষ যারা চরম কষ্টে আছেন –তারাই হলেন শিকল ভাঙ্গার লোক। আমাদের বিশ্ব হলো সর্বহারার বিশ্ব ও তাদের সাথীদের বিশ্ব। আমাদের সাথীরা প্রচলিত সকল ব্যবস্থার অবসান করে নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। ইতি মধ্যেই তা শুরু হয়ে গেছে। আজকের বাস্তবতায় এটা ই হলো প্রধান দ্বন্দ্ব। দুনিয়ার ধনিক শ্রেনী বনাম দুনিয়ার দরিদ্র শ্রেনী। ধনিক বিশ্ব বনাম দরিদ্র বিশ্ব। প্রথম বিশ্ব বনাম তৃতীয় বিশ্ব। আমাদের বিজয়ী হতে হলে দুনিয়ার বাস্তবতাকে আগে বুঝতে হবে।

৪. নির্বাচন সম্পর্কে আপনার মতামত কি ?

এই প্রসংগে একটি গল্প চালু আছে । গল্পটি হলো- জাহাজে এক ব্যাক্তির নিকট এক ব্যাগ ভর্তি সোনার মোহর ছিলো। ঘটনা চক্রে ব্যাগটি পানিতে পড়ে যায়। ডুবন্ত ব্যাগটির পিছনে তাকে ধরার জন্য লোকটি পানিতে ঝাপ দেয়। এখন লোকটি মোহরের ব্যাগটি পেল না কি ব্যাগটি লোকটিকে পেল?

প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্র গুলো এই ভাবেই কাজ করে। আমরা রাস্ট্রকে পরিবর্তনের জন্য চাপ দিতে পারি বা নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে পারি বা সংস্কারের পথ ধরতে পারি। আমরা ভাবতে পারি যে হয়ত আমারা এগিয়েছি। আমরা আবার নির্বাচনে জিতে ও যেতে পারি । এমন কি আমরা ক্ষমতা ও পেয়ে যেতে পারি। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন হলো আমরা আমরা কিধরনের ক্ষমতা পেলাম ? আমরা কিন্তু বিপ্লবী ক্ষমতা বিনির্মান করিনি। আমরা বরং পুরাতন ক্ষমতার অংশ, পুরাতন ব্যবস্থার, এবং পুরাতন সমাজের ক্ষমতাই অর্জন করেছি। যদিও দৃশ্যত মনে হতে পারে যে আমরা আমাদের ক্ষমতা বাড়িয়েছি, সংস্কার করতে পারছি, নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে বসেছি প্রকৃত পক্ষে আমরা আমাদের কে পরাজিত করেছি। যদি ও আমাদের উত্থান দেখছি। আমরা ভাবছি আমরা প্রচলিত ব্যবস্তার উপর নিয়ন্ত্রন কায়েম করেছি, আমাদের প্রভাব বলয় বেড়েছে । কিন্তু সত্যিকার ভাবে প্রচলিত ব্যবস্থাই আমাদের উপর বিজয়ী হয়েছে। যে ভাবে সোনার মোহরের ব্যাগটি সেই লোকটিকে পানির নিচে টেনে নিয়েগিয়েছিল – সেই রূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। অর্থাৎ এক জন বিপ্লবীকে সংস্কারবাদি পন্থা বিপ্লবের পথ থেকে সরিয়ে নিল । এই প্রসংগে লেনিন বলেছিলেন-

বিপ্লব কেবল মাত্র ক্ষমতায় গিয়ে পুরাতন ব্যবস্থার উপর ক্ষমতা কাটানো নয় বরং পুরাতন সমাজ

ব্যবস্থাকে, পুরাতন ক্ষমাতা কাটামোকে অপসারণ করে সম্পুর্ন নতুন সমাজ ও নতুন ক্ষমতা কাটামো গড়ে তুলা । বিপ্লবের দুটি দিক আছে এর একটি হলো কাটামো গত দিক অন্যটি হলো ধারনা বা আদর্শগত দিক। বিপ্লব হলো নতুন ক্ষমতা কাটামো নির্মান, পুরাতন ব্যবস্থার বিরুদ্বে নতুন ব্যবস্থার উত্থান। পুরাতন রাষ্ট্র, পুরাতন প্রতিস্টান, পুরাতন সংস্কৃতি ও পুরাতন জীবন ধারা এ গুলোর সবই পুরাতন ক্ষমতা। নতুন ক্ষমতা নতুন ধরনের প্রতিস্টান গড়ে তুলবেঃ নতুন ভাবে সমস্যার সমাধান করবে, নতুন ধরনের কমিটি গটিত হবে। যারা মানষকে শিক্ষিত করবে, জনগণের মতামতকে বিনির্মান করবে, সমাজ সংস্কৃতিকে নতুন ধারায় গড়ে তুলবে, জনগণের কল্যাণে বিপ্লবে কে এগিয়ে নিবে । নতুন ক্ষমতা কাটামোয় শিক্ষা, বিচার, গন মাধ্যম, রাজনৈতিক দল, সংস্কৃতিক কর্মকান্ড সকল কিছুই ঢেলে সাজানো হবে। বিপ্লবের মুল কথা ই হলো পুরাতনের জায়গায় নতুনের আগমন। ইহা একটি প্রক্রিয়ার নাম।

লেনিন শিখিয়ে গেছেন যে, রাষ্ট্র কোন প্রাকৃতিক বিষয় নয়, যেখানে ধনিক শ্রেনী আর সর্বহারা মানুষেরা থাকবেন। বরং পুরাতন রাষ্ট্র গুলো প্রকৃতিগত ভাবেই প্রতিক্রিয়াশীল । ইহা হলো প্রতিক্রিয়াশীলতার একটি চমৎকার যন্ত্র। আমাদের লক্ষ্য হলো সেই যন্ত্রটিকে দখল করে তাকে আমাদের কল্যানে ব্যবহার করে আমাদের নিজেদের বোকামীর অবসান করা। একটি পুরাতন রাস্ট্রকে বিপ্লবের আলোকে গড়ে তুলা সম্ভব নয়। আমরা এটাকে সংস্কার ও করতে পারব না । বিপ্লব মানেই হলো একটি সমাজের পুর্নগঠন করা, প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের নিমূল করা। প্রতিক্রিয়াশীল চক্র কোন ভাবেই রাস্ট্রকে আমাদের হাতে এমনি এমনি ছেড়ে দিবে না বরং তারা রাস্ট্রকে আমাদের বিপক্ষে ব্যবহার করবে। তারা নিজেদের রক্ষার জন্য সকল কিছুই করবে। বিপ্লব কখনও পুরাতন রাষ্ট্র ব্যবস্থার সাথে বা পুরাতন ক্ষমতা কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যশীল নয়। আমরা নির্বাচনে ও সংস্কারে বিশ্বাস করিনা । “বিপ্লব” মানে প্রকৃত বিপ্লবই।

নির্বাচন এবং সংস্কার করার কাজের মাধ্যমে কি আমরা পুরাতন রাষ্ট্র ব্যবহার করতে পারিনা? সত্যিকার অর্থে কৌশল গত ভাবে ও এই পন্থা গ্রহন যোগ্য হতে পারে না । কেননা এই পথে বিপ্লব আসতে পারে না । এটা বিপ্লবের পথ নয় । তবে কোন কোন সময়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করা যেতে পারে – বিজয়ী হবার জন্য নয় বরং আমাদের আদর্শ প্রচার এবং রাজনৈতিক ভাবে নিজেদের পরিচয় সাধারন মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য । আবার কোন কোন ক্ষেত্রে সামন্তবাদি, ফ্যাসিবাদি, সেনাসেবক, ধর্মীয় মৌলবাদী বা কোন স্বৈরাচারকে প্রতিরোধ করার জন্য কৌশল হিসাবে নির্বাচনে যাওয়া যায়। এমন কি যদি এই রূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে, কোন ডান পন্থার লোকেরা বিজয়ী হলে প্রগতিশীল শক্তির বিনাশ ঘটাবে বা শিল্প সাহিত্য, কলা, ও মুক্ত চিন্তার পথকে রুদ্ব করে দিবে তাহলে ও নির্বাচনে যাওয়া দরকার। তা না হলে ফ্যাসিবাদি চক্র বিজয়ী হলে বিপ্লবের পথ ও পন্থাকে কঠিন করে তুলতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতে নির্বাচনে যাওয়া মানে বিপ্লবকে বিজয়ী করা নয় বরং বিপ্লবের শ্ত্রুদের উত্থান আটকে দেয়া । আমাদের অবিজ্ঞতা বলে যে বিপ্লব সংস্কার বা নির্বাচনের মাধ্যমে আসতে পারে না বরং তা কেবল আসতে পারে একটি বিশ্ব ব্যাপী জনযুদ্বের মাধ্যমে।

৫. আপনি লড়াইয়ের কথা বলেছেন। সহিংসতা ও লড়াই সম্পর্কে আপনার মতামত কি ?

প্রুশিয়ার বিখ্যাত সামরিক বিশ্লেষক কার্ল ভন ক্লজ বলেছিলেন, “ যুদ্ব বা লড়াইকে ও এক অর্থে রাজনীতিই বলা যায়”। আমাদের সংগ্রাম শ্রেনী সংগ্রাম, ধনিক শ্রেনীর বিরুদ্বে দরিদ্র শ্রেনীর। দরিদ্রদের রাজনীতি সর্বদাই ধনিকদের রাজনীতি থেকে আলাদা । আমাদের স্বার্থ ও তাদের স্বার্থ ও সকল সময়েই আলাদা। তাই সত্যিকার অর্থে তাদের ও আমাদের মাঝে কোন দিন ই ঐক্য হবে না । আমরা তাদের চাপিয়ে দেয়া মনগড়া বিধি বিধান মেনে নিতে পারিনা। তাই, দারিদ্রতার প্রতি, সন্ত্রাসের প্রতি, গনহত্যার প্রতি, নির্মমতার প্রতি, দুঃখ কষ্টের প্রতি, পরিবেশ দুষনের প্রতি, ক্ষুধা ও ধর্ষনের প্রতি, দুর্নিতী ও অপমানের প্রতি আমরা বলি “না”! তা আমরা মানি না । চলতে দেব না । তারা তাদের মত করে ক্রমাগত ভাবেই তাদের “না”! বলেই যাচ্ছেন। আমরা যখনই ক্ষমতার দিকে এগিয়ে যেতে চাই তারা এর বিরুদ্বে প্রান পন লড়াই শুরু করে দেয়। তারা কখন ও তাদের ক্ষমতা ও সম্পদের মালিকা ছাড়বে না তাই দরিদ্র এবং ধনিদের মধ্যে লড়াই অনিবার্য। পুঁজিবাদই রাস্ট্রে এটাই ঘটে।

কতিপয় বিষয়ে আমাদের মত পার্থক্য থাকলেও আমরা মাওসেতুঙ্গের এই বক্তব্যের সাথে সহমত পোষণ করি। তিনি বলেছিলেন, আমাদের লড়াই হল অন্য সকল লড়াই বন্দ্বের জন্য, ন্যায় বিচারের জন্য। আমরা লড়াই করছি সকল মানুষের নিরাপত্তার জন্য। সকলের সুখের জন্য। সাধারন মানুষ ও পৃথিবীর সুরক্ষার জন্য। আমরা আমাদের ভবিষ্যতের ও আমাদের শিশুদের নিরাপত্তার জন্য। পক্ষান্তরে, ধনিক চক্র লড়াই করছে তাদের পাগলামীকে চালিয়ে যাওয়ার জন্য। তাদের দুর্নীতি, নির্মমতা, অন্যায় অবিচার ও শোষন চালু রাখার জন্য। তারা লড়াই করে মৃত্যুর জন্য আর আমরা লড়ছি মানুষের জীবনের জন্য। তারা লড়াই করে নিজেদের জন্য আর আমরা লড়াই করি মানুষের জন্য।

চুড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য সামরিক যুদ্ব ছাড়া আমাদের কোন বিকল্প নেই। বিপ্লবকে জোরদার করার জন্য, বিশ্ব জনযুদ্বকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সর্বদাই সামরিক হতে হবে এমন কোন কথা নাই। এটা অনেক ক্ষেত্রে অভিযানবাদে পরিণত হতে পারে। আমাদের লড়াইটা হবে সমন্বিত প্রকৃতির। সামারিক লড়াই সংগ্রামের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক শিক্ষা অপরিহার্য্য বিষয়। এই লড়াই সংগ্রাম হবে আরো অন্যান্য বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন- গন কমিটি, গন আদালত, গন বিদ্যালয়, গন সংস্কৃতি ইত্যাদি। এই মহান বিশাল লড়াইটা হবে সামরিক ও অসামরিক প্রকৃতির। অর্থাৎ সামরিক লড়াইটা হবে একটি মাত্র উপাদান হিসাবে। বিপ্লবের জন্য একটি অগ্রসর বিজ্ঞান অনুসরন করতে হবে। আলোকিত সাম্যবাদের পথ ধরতে হবে। আলোকিত সাম্যবাদ হবে একটি ধারালো অস্ত্রের মত। ক্ষমতা দখল করতেই হবে । তা না হলে সকল কিছুই হবে প্রহেলিকা। লেনিন বলেছেন, “ ক্ষমতা বিহীন সকল কিছুই ধোয়াশামাত্র”।

৬. আপনি পৃথিবীর কথা বলেন। পরিবেশ কি ?

আমাদের আবাস ভূমি, আমাদের পৃথিবীকে ধংস করে দিচ্ছে। আমাদের বনভুমি, পৃথিবীর ফুসফুস কে পুরিয়ে ফেলা হচ্ছে। পাহাড় পর্বত, সবুজ জমিন এখন নস্ট হয়ে যাচ্ছে – যা আমাদের মনে ভয় জাগায়। সমূদ্র এলাকায় মৃত্যু পুরী তৈরী করে মানুষ সহ সকল প্রনীর খাদ্য চক্র বিনাশ করে ফেলছে। বিশ্ব উষ্ণায়ন দিনে দিনে বাড়ছে । ফলে পানির উচ্চতা বৃদ্বি পাচ্ছে, বন্য, খরা সহ নানা প্রকার বিপদ দিনে দিনে বেড়েই চলছে। বাংলাদেশ সহ অনেক দেশ আজ হুমকির সম্মোখিন হয়ে পরেছে। যদি বাংলাদেশ বন্যায় ডুবে যায় তবে, সেখানে গৃহহীন, ভূমিহীন, ও কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়বে। পরিবেশ ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অনেক দ্বীপ মালা আমাদের চোখের সামনেই তলিয়ে যাবে। অনেকে ভাবতে ও পারছেন না আমারে দিনে দিনে কোথায় চলেছি। তারা বৈজ্ঞানিক তথ্যাবলীকে অস্বীকার করেন। তারা বলেন এসব কিছু তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না বা তাদের সন্তানদের কোন ক্ষতি হবে না । অনেকে ভাবতে ও পারেন না যে আমরা এখন এসে নির্মূল হবার দাড়প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি। যেমন ডাইনোসররা বিলুপ্ত হয়েছে সেই রূপ অবস্থা মানব জাতির জন্য ও অপেক্ষা করছে। যদি মানুষ না জাগে তবে তারা ও এক সময় দুনিয়া থেকে চীরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো কেন ? এসকল কিছুর মূলে হলো প্রথম বিশ্বের ভোগবাদ। পুজিবাদ বলছে, “ কিন, কিন, কিন” ! “ভোগ কর, ভোগ কর, ভোগ কর”! “নস্ট কর, নস্ট কর, নস্ট কর”! প্রকৃতিক সম্পদের অবাদ ভোগের হাতিয়ার হলো পুঁজিবাদ। এরা চায় সীমাহীন ভোগ আরো ভোগ। বেহায়পনা ও বেলাল্লাপনা এদের মূল মন্ত্র। পুঁজিবাদ মানব জাতির জন্য একটি অন্দ্ব মতবাদ। ইহা একটি যুক্তিহীন মতাদর্শ। এর লক্ষ্য হলো কেবল মুনাফা, ইহা মানুষ ও পৃথিবীকে শোষন করে। পুঁজিবাদ ভবিষত নিয়ে ভাবে না, আগামী প্রজন্মের জন্য এদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। প্রথম বিশ্বের আরাম আয়েশের জন্য তৃতীয় বিশ্ব প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। মানবতা এখন একটি করাতের উপর দিয়ে হাটছে। লিডিং লাইট আমাদেরকে শিক্ষা দেয় যে,আমাদেরকে আমাদের পথ খুজে নিতে হবে । আমরা একে অন্যকে সাহায্য করব। সম্মান করব। একে অন্যকে রক্ষা করব। প্রকৃতির যত্ন নেব। আমরা উন্নয়নের সাথে সাথে প্রকৃতির সামঞ্জস্য বজায় রাখব। আমরা পৃথিবীর অভিভাবক। সাগর, বন জঙ্গল, আকাশ, বাতাস ও প্রানীকুলের খেদমত করব। মানুষের সেবা মানেই হলো পৃথিবীর সেবা করা। এর সুরক্ষা করা ।

৭. আপনি বিজ্ঞানের গুরুত্বের কথা বলেছেন। ধর্ম কি ? আপনি কি তা মানেন না ?

ধর্ম আমাদের সমাজে নানা ভাবে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে। ইহা অনেক সময়ে ক্ষমতাসীন চক্রের সুবিধার্থে ও প্রতিক্রিয়াশীলদের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এরা সাধারন মানুষের উপর প্রভূত্ব করতে গিয়ে ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে থাকে। ক্ষমতা শালী ও ধনিক শ্রেনীর মানুষ ধর্মকে ব্যবহার করে গরীবদের উপর নির্মমতা চালায়। আমরা এই ক্ষেত্রে হেগেলের দর্শনের সমালোচনায় কার্ল মার্ক্সের কথা উল্লেখ করতে পারি।

“ধর্ম হলো নিপিড়িত মানুষের আশ্রয় স্থল, হ্রদয়হীন দুনিয়ার হ্রদয়, আত্মাহীন সমাজের আত্মা। ইহা সাধারন মানুষের জন্য তন্দ্রার কারন হয়ে দেখা দেয়”।

সাধারন মানুষ নিপিড়নের কারনেই ধর্মের দিকে দাবিত হয়। মানুষ বাঁচার তাগিদে একটু শান্তি পাবার আশায় ধর্মের আশ্রয় নেয়। আজকের পৃথিবীতে ও ধর্ম গিজ গিজ করছে, মানুষ ভাবছে এই জগতের পর অন্য জগতে গিয়ে সুখের জীবন যাপন করবে। তারা ভাবে তাদের সাথে অন্যায় করা হচ্ছে, তারা এখানে ন্যায় বিচার পাবেন না, তাই তারা পরকালে ন্যায় বিচার পাবেন। সত্যকে ধারন করা অবশ্যই খুব কঠিন কাজ, তাই মানুষ একটি ভিন্ন শক্তির আশ্রয় নিয়ে প্রহেলিকার পিছু নেয়। মানুষ সর্বদাই মিথের পিছনে চলতে ভালো বাসে। মিথ ও ধর্ম আসলে মানুষের সামাজিক পরিচয় ও বহন করে থাকে। আমরা এই সকল বিষয় বিনম্র ভাবে নিজেরা বুঝতে চাই এবং আলোচনা করে আগ্রহী। আমরা সাম্রাজ্যবাদিদের মত মানুষের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কে বিনষ্ট করতে চাই না ।

মার্ক্স লিখেছিলেন পবিত্র পরিবারের মাঝে যে রহস্য আছে তা অলৌকিক কোন বিষয় নয় বরং তা একেবারেই পার্থিব বিষয় আসয়। অন্য কথায় বলতে গেলে বিষয়টি হলো ইশ্বর বা ঈশ্বর সমূহ আসলেই একটি দার্শনিক বিষয়। আমরা আমাদের দৈনিন্দিন জীবনের দিকে থাকালেই এর একটি প্রতিরূপ দেখতে পাব। পিতৃতান্ত্রিক পরিবারে যেমন পিতা প্রধান হয় – তেমনি আমরা ধর্মীয় জগতে ও তাই তেখতে পাই। ইশ্বরকে ও পিতার আসনে বসিয়ে সন্তানের মতই সৃষ্টি জগতের চিত্র আকা হয়। আমরা যদি ও বিশ্ব ব্যবস্থায় এই রূপ কল্পনা করি কিন্তু বাস্তবে আমরা তা দেখি না । মানুষের ধ্যান ধারনায় ও সাংস্কৃতিক জগতে এর প্রভাব থকলে ও বস্তু জগতে এর তেমন কোন প্রভাব দেখা যায় না । এক অর্থে ধর্ম হলো একটি প্রহেলিকা মাত্রবিজ্ঞানের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই। একটির সাথে অন্যটি যায় না । বিজ্ঞানের লক্ষ্য হলো মানুষকে সকল প্রকার সমস্যা থেকে মুক্ত করে স্বাধীনতা দেয়া। আর ধর্ম চুড়ান্ত বিশ্লেষনে তা সমাজ প্রগতির বাঁধা ।

বিপ্লবের নেতৃত্ব পর্যায়ে অগ্রসর বিজ্ঞান মনস্ক মানুষের ভূমিকা কামনা করি। আলোকিত সাম্যবাদ, গনমানুষকে ক্ষমতায়ন করা ও সামাজিক পরিবর্তনের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ন বিষয়। এর মানে হলো – ক্রমাগত ভাবে মানুষকে শিক্ষিত করা, অগ্রসর করা, লিডিং লাইটে পরিণত করা দরকার। বিপ্লবী সমাজ অবশ্যই হবে ধর্ম নিরপেক্ষ। তবে সকলেই নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবেন। কাউকেই তাদের বিশ্ব ও অনুভূতিতে আঘাত করা হবে না । ধর্মীয় ব্যাক্তিদের মধ্যে যারা সমাজের পরিবর্তনে সহায়ক হবেন তাদেরকে ও বিপ্লবের বন্দ্বু হিসাবে বিবেচনা করা হবে । সহনশীল মানসিকতা গড়ে তুলার জন্য কাজ করা হবে। তবে কোন প্রকার ধর্ম ব্যবসা করতে দেয়া হবে না ।

আমরা জনি প্রকৃত শিক্ষা ও সাংস্কৃতি মানুষের মন মানসিকতাকে গঠন করে। মানুষের নানারূপ আছে। আমরা সর্বদাই বিনিত থাকতে চাই। আমরা জনতার প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে বদ্বপরিকর। বিপ্লব হলো প্লাতোর গুহা থেকে বাড়িয়ে আসা। সকল প্রকার প্রহেলিকা বা ধুয়াসা থেকে মুক্তি লাভ করা । তবে তা রাতারাতি সম্ভব নয়। ইহা এক ধরনের সুরক্ষার লড়াই। ইহা আমাদের লং মার্চের অংশ।

৮. আপনি কি আপনার মিশন নিয়ে আশাবাদি ?

একটি প্রচন্ড ঝর দানা বাঁধছে। সমস্যার পর সমস্যা ধেয়ে আসছে। দরিদ্রতা, বিরামহীন যুদ্ব, প্রকৃতিক দুর্যোগ, মানুষের বিগত বিপ্লব ব্যার্থ হওয়ার পর দির্ঘকাল নিস্কৃয় হয়ে আছেন। মানুষ তাদের একটি

চোখ খোলা রাখছে। মানুষ আবার জেগে উঠছে। আমাদের উচিৎ তাদের দুটি চোখ খোলে দেয়া। তাদের সামনে বিজ্ঞানের শিক্ষা, স্বপ্ন, ভিশন, প্রকৃত বিকল্প তুলেধরা দরকার। আলোকিত সাম্যবাদের শিক্ষা তাদের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

যারা এখন ক্ষমতায় আছেন উরা আমাদের বিরুদ্বে লড়াইয়ে নামবেন। আমরা তাদেরকে স্পস্ট ভাষায় বলতে চাই আমাদের ঝড়ের সামনে তোমাদের কোন কিছুই ঠিকবে না । আমাদের মহান লড়াই দুনিয়াকে নতুন ভাবে জন্ম দিবে। যারা বর্তমান ব্যবস্থা নানা ভাবে লাঞ্চিত ও বঞ্ছিত তারা আমাদের সাথে আসবেন। তাদের চোখ খোলা আছে।তাদের অভিজ্ঞতা আছে। আমারা আমাদের লড়াইয়ে বিজয়ী হব। আমরা মরনকে ভয় পাই না । আমরা কোন না কোন ভাবে শক্তিশালী হবই। আমরা বিজয় ছিনিয়ে আনবই। কেননা আমাদের সাথে নিপিড়িত মানুষ ঐক্যবাদ্ব।

বিপ্লবী বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অস্ত্র একটি গুরুত্ব পূর্ণ বিষয়। আমরা পুরাতন ব্যবস্থার বিপরিতে সামগ্রীক যুদ্ব চালিয়ে যাব। আমরা নতুন শক্তির উত্থান ঘটাব। মানুষের উপর থেকে নির্মমতা, দুঃখ বেদনা বিদূরিত করব। আমরাই আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব। আমরা আমাদের লড়াই থামাবো না । যুদ্ব, যুদ্ব এবং যুদ্ব চালিয়ে যাব সারা দুনিয়ায় সামগ্রীক ভাবে শান্তি প্রতিস্টা না করা পর্যন্ত। শান্তি ই আমাদের চুড়ান্ত লক্ষ্য। ভিয়েতনামের মহান নেতা হো চি মিন লিখেছিলেন-

“ আমরা সকল কিছুই পরিবর্তন করব

উন্নয়নের চাকা সামনের দিকে ঘুড়িয়ে দিব

আমরা জানি বৃস্টির পরই সুন্দর বাতাস বহে”।

ঝর থামার আগে এর রূপ হয় ভয়ংকর। সূর্য্য উঠার আগে থাকে অন্দ্বকার। কিন্তু তা কখন ও চিরস্থায়ী হয় না। তা ক্রমে উজ্জ্বল হয়ে উঠে। ইহা হলো নয়কদের সময়। নায়ক হয়ে উঠার সময় এখন। আমাদের সূর্য্য উঠছে। আমাদের দিন আসছে।

“ সকল পাখী এক সাথে গাইছে।

মানুষ ও প্রানীজগত জেগে উঠছে,

কোন সত্যিকার ও স্বভাবিক ?

দুঃখের পর সূখ”। #শিহাব

Advertisements