বিচারঃ স্ট্যালিনের পক্ষে

stalin_1902

(llbangla.org)

আদালতের অনেক মামলায়ই স্ট্যালিন হেরে গেছেন। স্ট্যালিনের নাতি জোগাসভেলী, নোভাইয়া গেজেটার কয়েকটি দলিলের উপর ভিত্তি করে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিগত এপ্রিল মাসে লিখক এন্থ্যনী ইয়াবলোকব লিখেছেন স্ট্যালিন নাকি “রক্তচোষা” শাসক ছিলেন। তিনি নাকি তালিকা করে মানুষ মেরেছেন, খুন করছিলেন রাশিয়ার বহু নিরপরাধ মানুষকে। সেই স্বঘোষিত স্ট্যালিন বিরোধী সম্পাদক আরো বেশ কিছু ফালতু কথা বলে নানা ভাবে লিখা লিখি করছেন। আর বদনাম করছেন স্ট্যালিনের।

এই ধরনের বিচার চরম গোপনীয়তা বজায় রেখে সম্পাদন করেছে কেননা রাশীয়ায় স্ট্যালিন অনেক ক্ষেত্রেই বিতর্কিত হয়ে আছেন। গত বছরে মিখাইল গর্ভাচভ রাশিয়ার নানা জরিপে খুবি অ জনপ্রিয় হিসাবে অভিহিত হয়েছেন, তিনি সেই সময়ে স্ট্যালিনের পক্ষে কথা বলেছিলেন তবে, একটি প্রনিধান যোগ্য বিষয় হলো জরিপে দেখা গেছে যে সাবেক সৌভিয়েত আমলের সাধারন মানুষের কাছে স্ট্যালিন অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যাক্তি হিসাবে বিবেচিত হয়েছেন। উদাহরন হিসাবে উল্লেখ্য যে, একটি টিভি জরিপে দেখা গেছে যে, স্ট্যালিন একজন জর্জিয়ান লোক হওয়া সত্বেও রাশিয়ার তিন জন অত্যন্ত জন প্রিয় ব্যাক্তির মধ্যে এক জন হিসাবে পরিগনিত হয়ে আছেন। এমন কি লোকেরা স্ট্যালিনের বিচার চলাকালিন সময়ে আদালতের বাহিরে এসে জড়ো হয়ে তার পক্ষে স্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন। এটর্নী দোজগ্যাসভিল বলেছেন,

“ স্ট্যালিন হলেন সেই নেতা যিনি দেশকে হেফাজত করেছেন এবং গণতন্ত্রের দিকে নিয়ে গেছেন। তার প্রনিত সংবিধান দুনিয়ায় এপর্যন্ত লিখিত সংবিধানের মধ্যে শ্রেস্টতর। অবশ্য এটা ঠিক যে সেই সময়ে কিছু মানুষ মারা গিয়েছিলেন এবং কষ্ট করেছিলেন- তবে তার জন্য স্ট্যালিন দায়ী ছিলেন না । এর জন্য অন্যান্য কারন ও বিদ্যমান ছিলো । এখন সময় এসেছে সেই দলিল পত্র প্রকাশ করার”। (১)(২)(৩)

দুই ব্যাক্তি গননার গল্প

কেন্দ্রীয় ভাবে দোজগ্যাসভিলস দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্বের সময়ে পোল্যান্ডের ২২,০০০ হাজার মানুষ হত্যার মামলা পরিচালনা করছিলেন, তার বক্তব্য অনুসারে এই হত্যাকান্ড সৌভিয়েত ইউনিয়ন সঙ্ঘটিত করেনি। সংবাদপত্র বলছে, এটর্নী দোজগ্যাসভিলস মতানুসারে এবং সকল নথিপত্র অনুসারে দেখা যায় যে, পোল্যান্ডের বন্দ্বিদেরকে হত্যার জন্য যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তা একেবারেই মিথ্যা। এই প্রসংগে আরো অনেক তথ্যাবলী মজুদ আছে। প্রতক্ষ্য স্বাক্ষী অনুসারে ও দেখা যায় যে, এই জগন্য হত্যা কান্ডের জন্য দায়ী মুলত নাজি বাহিনী, সৌভিয়েত ইউনিয়ন নয়। (৪)(৫) তবে ১৯৯০ সালের পর থেকে সকলেই বলছেন এটা নাকি নাজিরা সংঘটিত করেনি এমন কি নীতিভ্রষ্ট গর্বাচভ ও তার পান্ডারা পর্যন্ত স্বীকার করেছেন যে, সৌভিয়েতরাই নাকি এই হত্যকান্ড করেছিলো। পোল্যান্ডে নাজিদের অভিযানের পর একটি বিশাল গন কবর “আবিস্কার” করা হয়েছিলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সৌভিয়েত, সমাজতন্ত্র এবং স্ট্যালিনের উপর চাপানো হল এই হত্যা কান্ডের বদনাম। পশ্চিমা প্রচার মাধ্যমগুলো গর্বাচভের বরাত দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কাজে আত্মনিয়োগ করে। তারা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নির্মম

ব্যবস্থা হিসাবে উপস্থাপনের প্রচার চালায়। স্ট্যালিনের মৃত্যুর পরই ইতিহাসের চাকা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। স্ট্যালিনকে একজন রক্ত পিপাসু হিসাবে দেখানো হয়েছে। তারই উত্তরাধিকারী ভ্রষ্টচক্র পশ্চিমা অপপ্রচারকারীদের সাথে যোগদান করে স্ট্যালিনের নামে বদনাম ছড়িয়েছে। পর্যবেক্ষন বলছে, স্ট্যালিনের উত্তরাধিকারীদের শাসন আমলে ভূয়া দলিল পত্র তৈরীকরে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। কেতিন গন হত্যার জন্য স্ট্যালিন ও সমাজতন্ত্রকে দোষারোপ করা হয়েছে। এমনকি বন্দী লাল ফৌজকে হত্যার দায় থেকে ও তাকে রেহাই দেয়া হয়নি। অথচ ১৯১৮ সালে পোল্যান্ডের সেনাবাহিনী প্রধান পিলসুদক্সির নেতৃত্বে রাশিয়ার নয়া বিপ্লবী সমাজ, বলশেভিক ব্যবস্থাকে সমূলে বিনশ করার জন্য ফ্রান্সের সমর্থন নিয়ে আক্রমন করা হয়েছিলো। এর ফলে সাম্রাজ্যবাদি পোল্যান্ড তার অংশ হিসাবে বেলারুশ ও ইউক্রেইনকে অঙ্গীভূত করে নিয়েছিলো। তা হলে, যুদ্বের সূচনায় কি ঘটেছিলো সৌভিয়েত বন্দ্বীদের ভাগ্যে ? ১৬৬,৫৫০ জন লোক বন্দ্বী হলেও ১৯২১ সালে প্রায় ৭৫,৬৯৯ জন মাত্র ফিরে এসেছিলেন। রাশিয়ার তথ্যসূত্র বলছে সেই সময়ে ৬০,০০০ হাজার রাশিয়ান লাল ফৌজ বন্দ্বি পোল্যান্ডের হাতে নিহত হয়েছিলেন। তবে পোল্যান্ডের সূত্র বলছে মাত্র ২০,০০০ জন লাল ফৌজ নাকি তাদের হাতে নিহত হয়েছিলেন। উভয় সূত্র বলছে পোল্যান্ডের হাতে লাল ফৌজের প্রায় ১০,০০০ হাজার সৈন্য মারা গিয়েছিলেন । এটা সত্য যে সঙ্ঘটিত হয়েছিলো তাতে সকলেই একমত যে কিতেন গনহত্যার ব্যাপারে কারো কোন প্রকার দ্বিমত নেই। এখানে মৃত্যুর কারন হিসাবে সাম্যবাদের বিরুধিতা, স্ট্যালিনকে বাঁচানো এবং ন্যায় বিচারকে বাঁধা গ্রস্থ করার বিষয়টিকে সামনে আনা হয়েছে। (৬)

িবেচ্য বিষয় হলো কিতেন গনহত্যার জন্য আসলেই কি সৌভিয়েতরা দায়ী ? স্ট্যালিনের উত্তরাধিকার ধারণকারীরা কেমন ছিলেন কি করেছিলেন ? স্ট্যালিনের সমালোচক যারা তাদের অনেকেই একচোখা নীতি নিয়ে তার সময়কালের ইতিহাসের বিশ্লেষণে মেথে ছিলেন। তারা পরিস্থিতির সঠিক বিশ্লেষণে একেবারেই সুবিচার করতে পারেন নাই। স্ট্যালিন এমন একটি সময়ে রাশিয়ার দায়ীত্ব গ্রহন করেছিলেন যা মোটেই প্রতিকোল ছিলো না । সময়টা ছিল বড্ড বেয়াড়া। যখন লেনিন মারা গেলেন তখনো রাশিয়া শিল্পে ছিলো অনেক পিছিয়ে। লেনিনের সময়ে কেবল সামাজতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মান শুরু হয়েছিলো। স্ট্যালিন হলেন সেই নেতার যার নেতৃত্বে রাশিয়ার সমাজ সাম্যবাদি অর্থনীতি পথে হাটতে শুরু করেছিলো। স্ট্যালিন প্রয়াস চালাচ্ছিলেন কিভাবে সাম্যবাদি অর্থনীতিকে একটি ঠেকসই রূপ দান করা যায়। তিনি এমন একটি অর্থণিতি দেশ ব্যাপী চালু করেছিলেন যা এর আগে কোথাও চর্চা হয়নি। তার হাতে কোন মডেল ও ছিলো না ।

স্ট্যালিনের উত্তরাধিকার

স্ট্যালিনের নেতৃত্বে বিগত শতাব্দিতে বেশ কয়েকটি মানবিক বিজয় অর্জন করা হয়েছে। এর মধ্যে সৌভিয়েত ইউনিয়ন গঠন ছিল প্রথম। স্টালিনের নেতৃত্বে সৌভিয়েত দেশ স্মূহ অনেক প্রতিকূলতা থাকা সত্বেও ইউরূপীয় দেশ সমূহের সাথে পাল্লাদিয়ে এগিয়ে যায় । তারা নিজেদেরক একটি পারমানবিক শক্তি হিসাবে বিশ্ব ব্যাপী সাম্রাজ্যবাদের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেয় ।

স্ট্যালিনের নেতৃত্ব সৌভিয়েত নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। যদিও প্রবল বিরুধীতা ছিলো দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্বের সময়ে রাশিয়াকে একটি শিল্প উন্নত দেশে পরিণত করার জন্য । তবে সাধারন

জনগণের জীবন যাত্রায় ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গৃহ নির্মানের ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সাধঅন করা হয় । মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যায় প্রায় দ্বিগুন । (৭) তার আমলে ঔষধ শিল্পের ব্যাপক উন্নতি হয়। (৮) স্ট্যালিনের আমলের একটি উল্লেখ যোগ্য বিষয় হলো যে , দেশের সাধারন নাগরিকেরা সম মর্যাদা ও অধিকার লাভ করেছিলো। নারী পুরুষ, রাশীয়ান ও অন্যান্য নাগরিকের মধ্যে কোন প্রকার ব্যবধান ছিলো না । সকলেই চাকুরী ও উপার্জনের ক্ষেত্রে সম অধিকার ভোগ করেছেন। ব্যাক্তিগত মালিকানার আমলের চেয়ে সৌভিয়েত আমলে মানুষের মাঝে আয় রোজগারের ব্যবধান তেমন ছিলোনা । তার শাসন আমলেই দেশের সাধারন মানুষ দেশ সাশনের সময় বেশী অংশ গ্রহন করতে পারত। কথা বলতে পারত নানা বিষয় নিয়ে । সমালোচনা করার সুযোগ পেত রাস্ট্রীয় ব্যবস্থার। (৯)

স্ট্যালিনের আমলেই সৌভিয়েত ইউনিয়ন দুনিয়ার নিপিড়িত মানুষের স্বপ্নের দেশে পরিণত হয়েছিল। হ্যারি হেউড একজন কালো সাম্যবাদি নেতা যাকে সৌভিয়েত ইউনিয়নের উচ্চপদে অসিন করা হয়েছিলো। স্ট্যালিনের সময়ে বর্নবাদকে ভিন্ন অঙ্গীকে দেখা হত তা কোন ভাবেই আমেরিকার মত নয় । আমেরিকায় সেই সময়ে প্রতিস্টিত ছিলো যে সাদারাই সকলের শ্রেস্ট । যার ভিত্তি ছিলো জিম ক্রো আইন

“ সৌভিয়েত ইউনিয়নে বর্ন ও জাতিয়তার কোন প্রকার রকমফের ছিলোনা । তা দেখা হতো কেবল শিক্ষা ও আইনের আলোকে । কোন ব্যাক্তি কেবল জাতীয়তা বা বর্নের জন্য কোন প্রকার সুযোগ নেবার অধিকারী ছিলেন না । কোন প্রকার বৈশম্য তৈরীর সুযোগ ছিলো না । বর্ন, জাতির নামে কোন প্রকার বৈষম্য সৃষ্টি করা সৌভিয়েত ইউনিয়নে ছিলো আইনত অপরাধ। রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে তা কোন ভাবেই প্রশ্রয় পেত না”।

আমি আমার সৌভিয়েত জীবনের সমগ্র সময়ে কেবল একটি বর্নবাদি ঘটনা দেখাছিলাম। তা হলো মস্কোর রাস্তায় বিকেল বেলা প্রচন্ড ভিড়ের সময় একটি গাড়ীতে প্রচুর রাশিয়ান লোক চড়ে ছিলো । সকলেই তখন অফিস থেকে ফিরছিলেন । সেই সময়ে তাদের মাঝে এক জন নেশাগ্রস্ত লোক ও ছিলেন। সেই আমরা ও বেশ কিছু কালো মানুষ সেই গাড়ীতে ঊঠলে এক অস্বস্থিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন আমরা এক প্রকার গাদা গাদি করেই যার যার বাসায় ফিরছিলাম । সেই সময় ঐ নেশা গ্রস্থ লোক বলছিলো আমাদের দেশে কিছু ‘কালো’ শয়তান ও বাস করছে’।

‘ সেই কথা শোনে দেখলাম এক দল রাশিয়ান মানুষ ক্ষেপে গেলেন এবং গারীর চালককে বললেন গাড়ী থামান। এটা ছিলো জনতার বন্দ্বীকরা। এটাই ছিলো আমার প্রথম দেখা। লোকজন বলছিলো, ‘তোমার এতবড় সাহস, তুমি মানুষকে অপমান কর, কে আমাদের দেশে শয়তান, উরা আমাদের মেহমান’….!

‘ না ! বন্দ্বুগন আমরা এই ধরনের আচরন মেনে নেবনা। আপনি নেশাগ্রস্ত হোন বা না হন । আমাদের দেশে এই ধরনের কথা বার্তা গ্রহবযোগ্য নয়”…। (১০)

অধিকন্তু, বর্নবাদ ও জাতীয়তাবাদের নিপিড়ন সৌভিয়েত ইউনিয়নে কোন ভাবেই গ্রহন যোগ্য ছিলোনা । এমন কি স্ট্যালিনের সেই প্রভাব উত্তর আমেরিকায় ও ছড়িয়ে পড়েছিলো। স্ট্যালিন প্রভাব খটিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি অব আমেরিকাকে ব্ল্যাক বেল্ট থিসিস গ্রহনে বাধ্য করেছিলেন। আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলে কালো লোকদের জন্য আলাদা একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করছিলেন। সেই জন্য অনেকে স্ট্যালিনকে একজন কালো জাতিয়তাবাদি হিসাবে অভিহিত করেন। আজো আমেরিকায় কালো মানুষেরা স্টালিনের সেই তত্ত্বকে ধারন করে কাজ করছেন।

স্ট্যালিনের নেতৃত্ব বহু সমস্যার মোকাবেলা করেছে। তিনি বলতেন সৌভিয়েত ইউনিয়নকে অবশ্যই শিল্প জাতি হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। তার সেই শিল্পায়ন ও যৌথকরন কর্মসূচির কারনে অনেকের কষ্ট হয়েছে । তবে তার দরকার ছিলো। ১৯৪১ সালে না যখন নাজিরা রাশিয়া আক্রমন করেছিলো তখন তার প্রয়োজনীয়তা তিব্র ভাবে অনুভূত হয়েছে। নাজিরা যখন তাদেরকে আক্রমন করে তখন তাদের প্রতিরোধ করতে প্রায় ২৭ মিলিয়ন মানুষ প্রান দিয়েছেন। যদি সেই সময়ে স্ট্যালিনের হাত এত শক্তি শালী না হত তবে হিটলারের ট্যাঙ্কের বহর প্রশান্ত মহাসাগরের আগে আর থামত না । আস্ত দুনিয়া চলে যেত এক ফ্যাসিবাদের কবলে । স্ট্যালিন দুনিয়ার মানুষকে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্বের সময় আজ্রিলের হাত থেকে রেহাই দিয়েছে।

পুজিবাদিরা সর্বদাই সমাজতন্ত্রের বিরুদ্বে নানা ভাবে মিথ্যা প্রচার করে থাকে। পুজিবাদিদের এই সম্পর্কে দির্ঘ ইতিহাস আছে। (১১) ইতিহাসের রায় হলো মিথ্যার ইতিহাস পুজিবাদের ইতিহাস। সাম্যবাদিরা তাদের সেই মিথ্যা ইতিহাস বিশ্বাস করেন না । আবার সাম্যবাদিরা কোন মিথ্যাকে অন্দ্বের মত মেনেও নেয় না । তারা সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলেন। সাম্যবাদিরাই ইতিহাসের বিজ্ঞান সম্মত বিশ্লেষণ করতে পারেন। মিথ্যাকে বাদ দিয়ে সত্যকে ধারন করার জন্য সাম্যবাদিদের মাঝে কোন প্রকার জড়তা নেই।

স্ট্যালিন তার সারা জীবন সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াই করে গেছেন। তিনি তার বাল্যকালেই নিজেকে বিপ্লবী হিসাবে তৈরী করেন, তিনি গেড়িলা যুদ্বে অংশগ্রহন করেন। তিনি তহবীল সংগ্রহের জন্য ব্যাংক ডাকাতি করার মত সাহস দেখিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি সকল প্রকার সংস্কারবাদের বিরুদ্বে সংগ্রাম করেছেন, বিশেষ করে ট্টটস্কিবাদের বিরুদ্বে। স্ট্যালিন তার পুরো সময়টাই একটি কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে গেছেন। সেই সময়টা ছিলো সত্যি বিপদজনক। সেই পরিস্থিতিতে ও স্ট্যালিন সামাজিক বিপ্লব চালিয়ে গেছেন। কোন প্রকার আপোষ করেন নি। মাওসেতুং বলেছিলেন কাজ করতে গিয়ে স্ট্যালিন কিছু ভুল করেছিলেন। তা আমাদের ও ভূল। সেই ভূলের দায় কমিউনিস্টদেরই। তার ভূল গোলোকে দেখতে হবে পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষন হিসাবে। উন্ননের পথ- সমাজতন্ত্র বিনির্মানের পথ কখনো সরল নয় । এটা সর্বদাই আঁকাবাঁকা হয়।

Advertisements