আমাদের ভাই-বোন, পিতা-মাতা ও পুত্র-কন্যাকে কেবল মুনাফার প্রথম বিশ্বের জন্য পুড়িয়ে মারা হচ্ছে।

4814bdbc25b84472a4c22e95897c2787_18-300x169

(llbangla.org)

বাংলাদেশের ঢাকায় একটি প্লাস্টিকের কারখানায় আগুন লেগে প্রায় ১৩ জন শ্রমিক পুড়ে মারা গেছেন এবং এখন ও বেশ কয়েকজন নিখোজ রয়েছেন। সেই প্লাস্টিক কারখানাটিতে শ্রমিকদেরকে সুরক্ষা দেবার মত শক্তিশালী ব্যবস্থা নেই। অথচ সেই কারখানাটির উৎপাদিত পন্য উন্নত বিশ্বের কয়েকটি দেশে রপ্তানি করা হয়। দেশের কয়েকটি কারখানায় দুর্ঘটনার জন্য বহু লোক মারা গেছে । আমাদের পরিবারের সদস্য গন প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছেন । তারা অনেকে অনিরাপদ ও দাসত্বের মত পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। আগুনে পুড়ে ২০১২ সালে তাযরিন ফ্যাশন কারখানায় ১২১ জন মারা গেছেন। ২০১৩ সালে ঢাকার অদূরে সাভারে রানাপ্লাজায় ভবন ধসে একটি কারখানায় প্রায় ১০০০ জনের ও বেশী মানুষ মারা গেছে। আমাদের দেশে এখন এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। আমরা প্রতিনিয়ত এর প্রতিবাদ করছি কিন্তু তার কোন সমাধান হচ্ছে না । আমারা চিৎকার করছি কিন্তু কেঊ শুনছেন না । যারা ক্ষমতায় তারা তাদের চোখ বন্দ্ব করে রেখেছেন। তারা তাদের কানে আংগুল দিয়ে রেখেছেন। সাম্রাজ্যবাদেয় পয়সা তাদেরকে অন্দ্ব ও বোবা বানিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশের সামগ্রীক অর্থনীতি প্রথম বিশ্বে পন্য রপ্তানি ভিত্তিক। প্রথম বিশ্ব ঠিকে আছে তৃতীয় বিশ্বের উপর নির্ভর করে। আমারা প্রায় ৮০% গার্মেন্টস তৈরী করি যার মূল্য দাঁড়ায় ২৪ মিলিয়ন ডলার। আমরা অনেক কিছু করলে ও আমরা তেমন কিছু পাইনা । আমরা সকল সামগ্রী পাঠাই প্রথম বিশ্বে কিন্তু আমাদের শিশু সন্তানরা না খেয়ে থাকে। প্রথম বিশ্বে কম দামে কাপড় পাঠানোর জন্য আমাদেরকে পুড়িয়ে মারে। আমাদের লোকেরা ধ্বংস স্তুপের নিচে পড়ে মরে আর প্রথম বিশ্বের মানুষ পায় সুন্দর প্লাস্টিক পন্য। আমাদের ভারতীয় ভাই বোনেরা ও মারা গিয়েছিলো সেই দেশের বোপালে পারমানবিক চুল্লির দুর্ঘটনার কারনে । সেই সময়ে প্রায় ১০,০০০ হাজার মানুষ তাৎক্ষনিক ভাবে মারা যায়। ১৯৮৪ সালের এই ঘটনায় জড়িত ছিল আমেরিকার ইউনিয়ন কার্বেড। কেন আজ পর্যন্ত কোন পরিবর্তন হলো না ? এই প্রকার ভাগ্য দুনিয়ার সকল গরিবেরই বরন করতে হয় । আমরা এখন ও সাম্রাজ্যবাদের কাছে কোন গুরুত্ব পুর্ন বিষয় নই। সাম্রাজ্যবাদ কেবল লাভ চায় আর কিছু নয়। তারা আমাদের জন্য একটি নিরাপদ কাজের পরিবেশ ও তৈরী করে দিতে চায়। আমরা তাদের কাছে কিছুই না ।

আমাদের তেমন কিছুই নেই। তাদের সব কিছুই আছে। আমরা কাজ করি। আমরা মরি। তারা এর কোন তুয়াক্ষা করে না । আমাদের মৃত্যুতে তারা অনুতপ্ত হয় না । মহান লিডিং লাইট কার্ল মার্ক্স লিখেছিলেন, তাদের শৃংখল ছাড়া হারা আর কিছুই নেই। আমাদের কাছ থেকে সব কিছু নিয়ে গেছে উরা। প্রচলিত ব্যবস্থায় আমদের কিছুই পাবার নেই । আময়াদের ও হারাবার কিছু নেই। লেনিন বিলেছিলেন, প্রচলিত ব্যবস্থা নিজে নিজে কোন কালেই পরিবর্তন হবে না । আমরা এটা ও বিশ্বাস করিনা যে, অর্থ ও ক্ষমতা নিজে নিজে পরিবর্তন হয়ে যাবে। তারা আমাদের মারবে, আমাদেরকে দাসের মত ব্যবহার করবে আর তারা নিজেরা রাজার হালে থাকবেন। শ্রমিকরাই কাজ করে। সমাজ গড়ে। কৃষক খাদ্য উৎপাদন করেন আমরা তা খাই। আমাদের আসলেই কিছু নেই। কেবল কথা বলার সময় শেষ।

পুজিবাদের নানা রূপ। তাদের একটি উদারতাবাদি চরিত্র আছে। বন্দ্বুত্বের মুখোশ পড়ে থাকে। ইহা ধর্মের মানবাধিকারের জিকির করে। তারা আমাদের কাছে বন্দু সেজেই আসেন। ইসলাম ধর্মকে সন্ত্রাসবাদের পক্ষে ব্যবহার করে। এমন কি পুজিবাদি চক্র আমাদের কর্ম ক্ষেত্রকে ও সন্ত্রাসের কবলে ফেলে দিতে চাইছে। আমরা এখন সকল দিক থেকে ঘড়াও হয়ে আছি। আমরা বলছি। “আর নয়”! আমরা শ্রমিক, কৃষক, দরিদ্র মানুষ, ছাত্র, শিল্পী বুদ্বিজীবি সকলেই জেগে উঠছেন। আমাদের এখন দরকার হলো পরিস্থিতির পরিবর্তন করা। আমরা একটি নতুন দুনিয়া গড়তে চাই। যেখানে থাকবে আমাদের ও আমাদের সন্তানদের চমৎকার ভবিষ্যৎ। একটি মহান বিপ্লবী ঢেঊ সকল দারিদ্রতা মুছে

ফেলতে পারে। আমাদের কষ্ট, যন্ত্রনা, নির্মমতা, লোভ লালসা সব কিছু ভাসিয়ে নিতে পারে। আমাদের মন ই হলো একটি বড় অস্ত্র। আমাদের মনকে জাগাতে হবে, কথা বার্তাকে শানিত করতে হবে। শিক্ষা ও শৃংখলা বিজয়ের মূলমন্ত্র। আমরা লিডিং লাইট অনুসরন করব। বিপ্লবী বিজ্ঞান আমাদের পাথেয়। আমরা সামগ্রীক ভাবে বিজয়ী হতে চাই। আমরা পরাজিত হতে চাই না । আগামি দিন আমাদের জন্য। লিডিং লাইট আমাদের ভবিষ্যৎ।

Advertisements