খারিজি চক্রের আক্রমনের শিকার পবিত্র ইসলাম ও আমাদের ভবিষ্যৎ

SXC-953432_13476061-No-Restr-EARTH

(llbangla.org)

সপ্তম শতাব্দিতে, ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের মাঝে মুলত বিরোধের সূচনা হয়। কারন ছিলো ক্ষমতার শীর্ষে কে থাকবেন তা নিয়ে। উসমান ইবনে আফফান রা. তিনি ছিলেন ইসলামের তৃতীয় খলিফা, তাকে আততায়ীরা পবিত্র মসজিদে ৬৫৬ খৃস্টাব্দে শহীদ করে দেয়। এই হত্যা কান্ডের কারনও ছিলো ক্ষমতার উত্তারাধিকার। কে হবেন মুসলিমদের খলিফা ? এটাই ছিলো মূল জিজ্ঞাসা । একদিকে ছিলেন হযরত আলী ইবনে আবুতালিব রা. যিনি ছিলেন সূন্নিদের ইসলামের চতুর্থ খলিফা। আর শিয়া সম্প্রদায়ের প্রথম ইমাম । অন্যদিকে ছিলেন আমীর মুয়াবিয়া রা. তিনি ছিলেন উমাইয়া বংশের লোক। ৬৫৭ খৃষ্টাব্দে ইসলামের ইতিহাসে প্রথম গৃহ যুদ্ব বাদে, যাকে আমরা সিফফিনের যুদ্ব নামে চিনি। সেই যুদ্বে আলী রা. আপোষ করে যুদ্বের পরিবর্তে শান্তির পথ বেঁচে নিয়েছিলেন। সেই সময়ে তাঁর অনুসারী সৈনিকদের একটি দল তাঁর বিরুদ্বে বিদ্রোহ করে বসেছিলো। বিদ্রোহীরা আলী রা. কে ত্যাগ করে চলে যায়। হজরত আলি করিমূল্লাহ রা. ছিলেন নবী স. এর পরিবারের খুবই প্রিয় ব্যাক্তি। তিনি ছিলেন নবীজীর মেয়ে ফাতিমার রা. স্বামী। তিনি প্রথম ইসলাম গ্রহন কারী ব্যাক্তি। জীবনে কোন দিন মুর্তি পুজা করেননি। তিনি ইসলামের জন্য একাই লড়াই করে শহীদ হতে ভয় পেতেন না । হজরত আলী রা. এর সাথে যারা বিদ্রোহ করে তাকে ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলো তারাই “খারিজি” নামে পরিচিত। তারা ইসলাম শান্তির ধর্মকে একটি চরম পন্থী মতবাদ হিসাবে রূপান্তরিত করে ফেলে। তারা সুন্নি, শীয়া সহ সকল মুসলমানকে কাফির বলে আখ্যায়িত করেছিলো। এমনকি তারা অন্যান্য মুসলমানকে মুর্তাদ বলে আখ্যায়িত করে হত্যা পর্যন্ত করতে ঘোষনা করেছিলো। তারা কোরান সুন্নাহর বিকৃত ব্যাখ্যা হাজির করে মুসলিম সমাজে নানা ভাবে কোন্দল কলহের জন্ম দেয় ।

খারিজি চক্র এখন নতুন চেহারায় হাজির হয়েছে। এখন ইরাক, সিরিয়া, পাকিস্তান, ও আরব মুল্লুকে তারা নিজেদেরকে শক্তিশালী করতে চাইছে। বাংলাদেশে ও রাজনীতির মাঠে নানা প্রকার নাম ধারন করে দাপট দেখাতে চেষ্টা করছে। তারা বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদি রাজনৈতিক শক্তিকে নিজেদের অনুকুলে চালনা করেতে তৎপর রয়েছে । এখন তাদের নেতা হবেন সেইটা তাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। তাদের মুখোসের আড়ালে আসল রাজনীতিটা কি তা আমাদেরকে বুঝতে হবে। এই জন্যই লিডিং লাইট বিপ্লবী লিন পিয়াং বলে ছিলেন, আমাদেরকে মানতেই হবে, “রাজনীতি হলো একটি কমান্ড”। বাংলাদেশে জাতিয়তাবাদি রাজনীতির ছাতার নিচে নানা নামে খারিজী মতবাদী চক্র স্বক্রিয় ভাবে কাজ করছে। যাদের দাবী ইসলামের চর্চা বা হুকুমাতে ইলাহি কয়েমের কথা বললেও তারা সত্যিকার ভাবে ইসলামে অনুসারী নন। এরা আধুনিক খারিজী, চরম পন্থী দল। এরা ইসলামের বিদ্রোহী ও বর্বর, সামন্ততান্ত্রিক ও পশ্চাৎ পন্থার অনুসারী। এরা সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে তৃতীয় বিশ্ব আস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়। সাম্রাজ্যবাদের নিয়ন্ত্রনে তাদের কারাগারে মুসলমান ও তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র মানুষকে আটকে রাখতে চায়।

সম্পতি, ইসলামিক ষ্টেট ব্যাপক হারে ইরাকের মসূলে বোমা হামলা করেছে। তারা হাজার হাজার পুরাতন ও অতি মূল্যবান নথি পত্র পুড়িয়ে ফেলেছে। তারা ধ্বংস করেছে প্রচীন সৌধ, মাজার ও ভাস্কর্য । তারা মানুষের হাজার বছরের ঐতিহ্য বিনাশ করে ফেলেছে। মধ্যপ্রচ্যে মানব সভ্যতার অনেক কির্তি রয়েছে। তাও তারা বিনাশ করার উদ্যোগ নিয়েছে। একটি প্রচলিত কথা আছে যে, “ মুর্খতার চেয়ে আর ‘বিপদজনক’ কিছু আছে কি ? মূর্খতা একটি অস্ত্র”। এটা মুসলমান ও অন্যানদের জন্য গনহত্যার শামিল। এটা জ্ঞানের বিরুদ্বে ও একধরনের লড়াই। দেখুন বাংলাদেশে আজ কেমন করে ব্লগার, নারী ও সাধারন মানুষের উপর আক্রমন করা হচ্ছে। তাদের ভন্ডামীটা দেখুন তারা এক দিকে গণতন্ত্রের কথা বলছে – অথচ তারা সাধারন মানুষকে আক্রমন করছে, হত্যা করছে, ধর্মীয় বর্বরতা চাপিয়ে দিচ্ছে, আমাদের পবিত্রতা, জ্ঞান ও শিক্ষার উপর আঘাত হানছে। তারা নির্বাচনের কথা বলছে আবার

জনগণকে সন্ত্রাসী বানাতে চাইছে । একেই ভাবে উরা ইসলামের পতাকা নিয়ে ইসলামের বিরুদ্বে কাজ করছে। আসুন কোরান কি বলে দেখিঃ কোরান আমাদেরকে বিজ্ঞান মনস্কতা শিক্ষা দেয়, কোন অন্দ্বত্বের স্থান এখানে নেইঃ

“ তোমাদের যে সম্পর্কে জ্ঞান নেই সেই সম্পর্কে কথা বলবে না, যা শোন, চোখে দেখ এবং যা বুঝতে পার তাই বলবে । এই জন্য তোমাদের দায়িত্ব আছে, এই জন্য তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে” [১৭;৩৬]

বুদ্বিমত্তা এবং যৌক্তিকতা হলো কোরানের ভাষায় আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি উপহার স্বরূপ। তাই ইসলামের ইতিহাস ও নানা নজির অধ্যয়ন করা এবং উপস্থাপন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু আমরা যখন দেখি বই পুস্তক পুড়িয়ে ফেলা হয়, তখন প্রশ্ন জাগে কেমন করে উরা ইসলামের অনুসারী হতে পারে ? বুদ্বিমত্তা কিভাবে গ্রহন করব, যদি বুদ্বিজীবিদেরকে গুলি করে মেরে রাস্তার পার্শে ফেলে রাখা হয় ? কোন ভাবেই কোরান জ্ঞানের বিরুদ্বে যুদ্বকে অনুমোদন করে না ।

“ আমরা কিছু জিন ও মানুষকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। তারা শোনে কিন্তু বুঝতে চায় না; তাদের চোখ আছে কিন্তু দেখে না; তাদের কান আছে কিন্তু শোনতে পায় না । তারা সত্যিকার অর্থে পশুদের মত; না, তারা এর চেয়ে ও নিম্ন স্তরের। তারা মাথা হীন লোকের মত”। [ কোরান ৭;১৭৯]

“ আল্লাহর নিকট সব চেয়ে খারাপ সৃষ্টি তো সেই যে যুক্তিহীন ভাবে অন্দ্ব ও বধিরের মত জীবন যাপন করে”। [কুরান-৮;২২]

“ আল্লাহর অনুমোদন ছাড়া ইমান আনা সম্ভব নয়, যারা যুক্তিহীন তাদের হ্রদয়কে আল্লাহ কুলুষিত করে দেন”। [কুরান-১০;১০০]

“ তাদের ইতিহাসে বুদ্বিমান লোকদের জন্য শিক্ষা রয়েছে, ইহা কোন মিথ্যা রচনা নয়। যারা বিশ্বাস করবে এতে তাদের জন্য বিস্তারির ও সাত্যায়িত পথ নির্দেশ রয়েছে”। [কুরান-১২;১১১]

বহু মানুষ নিজেদেরকে খোদা বানাবার চেষ্টা করে গেছে। কুরান বলছে ;

“ তোমাদের আগেও বহু জাতির আগমন হইয়েছে; সুতরাং তোমারা পৃথিবী ঘুরে দেখ মিথ্যাবাদিদের পরিনাম কি হয়েছিলো”। [ কুরান-৩;১৩৭]

ইসলামিক ষ্টেট আর রাজাকার চক্রের মধ্যে কি কোন প্রকার পার্থক্য আছে ? আজ আই এস যা করছে তার আগে রাজাকারদের কর্ম কান্ড দেখে ও সত্যিকার মুসলমান দুঃখ পেয়েছেন। রাজাকার চক্র পাকিস্তানী ও সাম্রাজ্যবাদী সেনাদের নিয়ন্ত্রনে থেকে সকল বুদ্বিজীবি, জ্ঞানী, ছাত্র, শিক্ষক, লিখক, শিল্পী এবং জ্ঞানী লোকদেরকে একেবারে নির্মূল করার কাজ করেছে। আজকের আধুনিক খারিজী চক্র সকলের জন্য শিক্ষাকে বন্দ্ব করে দিতে চায়। উরা চায় না আমাদের নারীরা শিক্ষিত হয়ে উঠোক। তারা নারীদেরকে পশুর মত ব্যবহার করতে চায়। তারা আমাদের মধ্য থেকে সকল জ্ঞানীদেরকে নির্মূল করে দিতে চায়। কেননা বুদ্বিহীন মূর্খ মানুষকে নিয়ন্ত্রন করা অতি সহজ কাজ। গত কাল যারা ছিলো রাজাকার আজ তারা ই হলো গণতন্ত্রের নামধারী চক্র । আজ এরাই হলো জাতীয়তাবাদি ছাতার নিচে আশ্রয় গ্রহন কারী দুষ্ট চক্র।

গন হত্যার মাধ্যমে উরা আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিনশ করে দিতে চায়। খারিজী চক্র কেবল আমাদের ভবিষ্যতকেই ধ্বংস করতে চায় না, উরা আমাদের শিশুদের ভবিষ্যতকে ও বরবাদ করে ফেলতে চায়। তারা কাপুরুষ তারা সততার সাথে, তাদের ধারনা নিয়ে খোলাখুলী আলোচনা করতে ভয় পায়। আধুনিক খারিজী চক্র ভালোকরেই জানে যে, তাদের মতবাদ আজকের দুনিয়ায় সাধারন মানুষ গ্রহন করবে না । এখন মানুষ আর এত বোকা নয়। তাই তারা মানুষকে অপমান করে, তাদেরকে ভয় দেখায় বা নিরিহ মানুষকে হত্যা করে, পুড়িয়ে মারে। ইসলামিক ষ্টেট এবং তাদের জোট তারা উভয়ই মানুষকে জিবন্ত পুড়িয়ে মারছে। তারা লোহার খাচায় বা যাত্রীবাহী বাসে মানুষ মেরে চলেছে। তারা সকলকেই মৃত্যুর ভয় দেখায়। তারা অত্যন্ত উগ্র । এরা আল্লাহর কঠিন শাস্তির কথা ভূলে গেছে। জাহান্নামের আগুনের কথা ভূলে গেছে। তারা ভূলে গেছে সকল নৈতিকতার কথা, জনগণকে সেবা

করার কথা । কুরান বলছে, আল্লাহ প্রান দিয়েছেন। খোদা প্রদত্ব প্রান কেড়ে নেবার অধিকার কি তাদের আছে ? তারা কারা যে, নিরিহ শ্রমিক, কৃষক, দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ, নারী, শিশু ও বুদ্বিজীবীদেরকে হত্যা করে?

কুরান ঘোষনা করেছে আল্লাহ মানুষকে যুক্তি ও বুদ্বি শিক্ষার ক্ষমতা দিয়েছেন;

“ অতি বড় মেহেরবান আল্লাহ। তিনি কুরান শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষ সৃজন করেছেন। তিনি কথা বলা শিখিয়েছে। [কুরান- ৫৫;১-৪]

কুরান আমাদেরকে জ্ঞান বৃদ্বির নির্দেশ দেয়;

“ আল্লাহ সর্ব শ্রেস্ট, তিনি আসল বাদশাহ, আপনার কাছে আমার বানী পূর্ন মাত্রায় না পৌছা পর্যন্ত তাড়া হুড়া করবেন না । আর দোয়া করুন, হে রব আপনি আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন”।[কুরান-২০;১১৪]

বৈজ্ঞানিক অনেক নিদর্শন পাওয়া যায় স্বর্গীয় বানীর মর্ম কথায়;

“ যাদের বিবেক-বুদ্বি আছে তাদের জন্য অগনিত নিদর্শন রয়েছে আসমান ও জমিনের সৃস্টির মধ্যে, রাত ও দিনের পালা ক্রমে আসার মধ্যে, ঐ নৌকা সমূহের মধ্যে, যা মানুষের জন্য উপকারী জিনিষ নিয়ে নদি সমূদ্রে চলাচল করে, বৃস্টির ঐই পানির মধ্যে, যা আল্লাহ উপর থেকে নাজিল করেন, তার পর এর দ্বারা মরা জমিনকে জিবিত করেন, এবং এই ব্যবস্থা দ্বারা পৃথিবীতে সকল প্রকার জীব জন্তুর বিস্তার সাধন করেন, বাতাসের প্রবাহের মধ্যে ঐই মেঘমালার মধ্যে যাকে আসমান ও জমিনের মধ্যে তাকে অনুগত করে রাখা হয়েছে”। [কুরান-২;১৬৪]

এখন আবার উরা আমাদের জনগণের মাঝে জগড়া ফ্যাসাদের সৃস্টি করেছে। সাম্রাজ্যবাদ তার নোংরা খেলা আবার শুরু করেছে। একদিকে সাম্রাজ্যবাদ উদারতাবাদের নামে আক্রমন করছে । আবার অন্যদিকে উরা চরম মিথ্যা ও উগ্রতা দিয়ে সাধারন মানুষকে হয়রানিতে ফেলেছে। যখন সাম্রাজ্যবাদ জয়ি হয়, তখন আমরা হেরে যাই। যেভাবে কাপুরুষরা আলীকে ত্যাগ করেছিলো এবং বিদ্রোহ করেছিলো কোরানের সাথে। তারা জনগণকে ত্যাগ করেছিলো এখনো তারা জনগণকে ত্যাগ করেছে। কোরআন শিক্ষা দেয় জনগণের সাথে থাক। আমরা জনতার সাথে আছি। আমরা এক জনের কাছ থেকে অন্য জন সম্মান ইজ্জতের সাথে শিক্ষা গ্রহন করি। যারা সত্যিকার ধার্মিক তারা শিক্ষার বিরুদ্বে দাড়াতে পারেন না । তারা বিজ্ঞানের জন্য লড়াই করে। তারা কোন ভাবে বর্বরতাকে প্রশ্রয় দিতে পারেন না । তারা জিবনের মূল্য দেয়। তারা মানুষকে উজ্জিবিত করেন মানুষকে সেবা করেন। আমরা যখন ক্বাবার দিকে নামাজ পরে দোয়া করি তখন আল্লাহ আমাদের কথা শুনেন। আমরা যখন দোয়া করি আমরা আল্লাহর কাছা কাছা থাকি । আমরা বিশ্বময় ছড়িয়ে আছি। কিন্তু কেন্দ্র আমাদের মক্কা । আল্লহা বলেছেন, তোমরা একে অন্যকে সাম্মান কর, একতাবদ্ব হয়ে জীবন যাপন কর। কুরান বলে নিজেদেরকে শিক্ষিত কর, নিজেদের মগজ ও দেমাগকে কাজে লাগাও । আল্লাহ যে ব্রেইন দিয়েছেন তার বিকাশ ঘটাও। সক্রেটিসের মত। আমাদেরকে আল্লাহর দুনিয়া সম্পর্কে ভালো ভাবে জানতে হবে। নিজেদেরকে জানতে হবে। সৃষ্টির নানা রহশ্য নিয়ে ভাবতে হবে । এই সকলকে আল্লাহর এবাদত হিসাবে বিবেচনা করা যায়। এর ভেতর দিয়েই সৃষ্টি ও স্রষ্টার মাঝে একটি মেলবন্দ্বন খোঁজে পাওয়া যায়। কুরানে বর্নিত সত্যের সন্দ্বান এই পথেই আসতে পারে। এটাই আলোকিত সাম্যবাদের পথ।

মধ্যযুগীয় বর্বরতা আসলে কি চায় । আর আমরাই বা কি চাই । আপনি কি এমন একটি সমাজ প্রত্যাশা করেন যেখানে আপনার সন্তান দাসের জীবনযাপন করবে, আর সেখানে মানুষ মানুষের প্রভু সেজে বসবে ? না আপনি সত্যিকার একটি স্বাধীন সমাজের প্রত্যাশা করেন ? নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন; কারা আল্লাহর ইচ্ছা অনুসারে কাজ করছে? ন্যায় নীতি, দয়া মায়া ও ন্যায় বিচার কে চায় ? সাম্রাজ্যবাদকে ধ্বংস করা এখনই সময়। পুঁজিবাদের বিনাশ, ডলারের প্রাধান্য খর্ব করার এখনই উপযুক্ত সময় । আদম সন্তানদেরকে মুক্ত করার জন্য এখনই জেগে উঠার সময়। সকল প্রকার পাগলামী থেকে বেড়িয়ে এসে

আলকিত সাম্যবাদের পথে যাত্রা করুন। একটি বিশ্ব। একটি মানব সমাজ। আমরাই বাচাতে পারি আমাদের এই সুন্দর দুনিয়াকে। এই পৃথিবী আল্লাহর দান । তাকে ধ্বংস করতে দেয়া যায় না । এর খাদ্য, পানি ও বাতাস আমাদের সকলের জন্য আল্লাহ দিয়েছেন। আমরা আমাদের আগের ভূল গুলো সংশোধন করে আমাদের বিপ্লবের পথে এগোতে চাই। আমরা চরম পন্থার অনুসারী নই। আমরা মতান্দ্ব বা আধুনিক খারিজী নই। খারিজিরা ইসলামের বিকৃত কারী – আমরা এর বিরুদ্বে। তারা সাম্রাজ্যবাদের দুষর। শান্তি ও সাম্যের জন্য সাম্রাজ্যবাদের অবসান হোক। আমরা এমন একটি সমাজ চাই যেখানে আমরাই আমাদের শাসন করতে পারব। অন্য কেঊ আমাদেরকে দাসে পরিণত করতে পারবে না । সমভাবে সকলেরই কথা বলার, কাজ করার সুযোগ থাকবে অবারিত। মানুষ হবে মানুষের বন্দ্বু। শ্ত্রু নয়। একে অন্যকে দ্বিধাহীন ভাবে হাসি মূখে বলবে “আসসালামু আলাইকুম”- ‘আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক’ !

Advertisements