লিডিং লাইট কমান্ডার প্রেইরী ফায়ারের সাথে সাক্ষাৎকারঃ দায়িত্ব- কর্তব্য, বিচ্যুতি, সংশোধনবাদ কি

0013729e47710f5a58fb18

(llbangla.org)

১. বর্তমানে লিডিং লাইটের কার্যক্রম কোন স্তরে অবস্থান করছে ?

উচ্চতর বিজ্ঞানের জগতে আমরা ইতিমধ্যেই বিজয় অর্জন করেছি।  এখন আর সেই ক্ষেত্রে দুই লাইনের সংগ্রামের দরকার নেই। আমাদের সাথে যারা প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হয়েছিলেন তারা অবশেষে পিছু হটে গেছেন। প্রথম বিশ্ববাদি, ট্রটস্কিবাদি , মার্ক্সবাদি, লেনিনবাদি ও মাওবাদিরা হেরে বসে আছেন। সেই জগতে এখন কেবল একটিই শিক্ষা আছে । তবে আমরা কিছুটা মতান্দ্বতায় আক্রান্ত লোকদেরকে নিয়ে সমস্যায় আছি । আমরা তাদেরকে সহযোগীতা  করতে চাই। কিন্তু আমরা তাদের প্রতি কোন ভাবেই ঝুঁকে পড়ব না । এই রকম ক্ষেত্রে মাও উদারতাবাদিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়েছিলেন। লিডিং লাইট, সত্যিকার বিজ্ঞান ছাড়া, মানুষের কোন ভবিষ্যৎ নেই। তারা যত তাড়াতাড়ি বুঝতে পারবেন ততই মঙ্গল। যদি  তয তারা  তা বুঝতে না পারেন তবে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। তাদেরকে আমাদের সাথে আসতেই হবে। তবে হয়ত তারা কিছুটা মেধা ভিত্তিক কাজ কর্ম করতে পারবেন – এর বেশী কিছুই করতে পারবেন না । আমাদের প্রতিযোগীতা এখন আর মতান্দ্বতার বিরুদ্বে নয় আমরা উদারতাবাদ, নয়া ফ্যাসিবাদ, এবং ইস্লামীবাদের বিরুদ্বে। দুনিয়ার সাধারন মানুষের জন্য সংগঠন গড়ে উঠছে, নেতৃত্ব তৈরী হচ্ছে, অগ্রনী বাহিনী ও লিডিং লাইট শক্তি শালী হয়ে উঠছে।

ব্যবহারিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমাদেরকে আরো কাজ করতে হবে। আমরা বেশ কিছু উল্লেখ যোগ্য পদক্ষেপ গ্রহন করেছি। আমরা মার্ক্সীয় রাজনৈতিক ধারা ও অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে বেশ কিছু মানুষকে কাছে টেনে এনেছি। ব্যবহারিক বিজ্ঞানের জগতে অবশ্যই হ্রদয় স্পর্শী কাজের প্রয়োজন।  সেই ক্ষেত্রে প্রচলিত মার্ক্সীয় রাজীনিতে ব্যাপক দূর্বলতা বিদ্যমান রয়েছে। আমাদেরকে সেই জন্য জননেতা, গন মানুষের শিল্পী ও জনপ্রীয় লোকদেরকে সংগ্রহে আরো মনোযগী হতে হবে। আমরা দুনিয়ার ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলছি। আমরা মানুষের সেবা, ত্যাগের ও পরস্পরের প্রতি যত্নশীল হবার কথা বলছি। আমরা পরিবারের গুরুত্ব ও শিশুদের আগামীর কথা বলছি। সেই ক্ষেত্রে ও ব্যাপক মাত্রায় গোড়ামীবাদের উদাহরন দেখা যায়। অনেকেই চীনের বিপ্লবের হুবহু অনুকরন করতে চায়।  আবার তাদের মাঝে তেমন কোন ভালো নেতৃত্ব ও নেই। চীনের মাওবাদিদের মাঝে একটি কথা চালু আছে যে, “আপনি ভালো সিল্ক বানাতে হলে ভালো উপাদান লাগবে”। মেক্সিকানদের মাঝে চালু আছে, “ আপনি কুকুরের লেজ সোজা করতে পারবেন না”। এমন বহু লোক এখন ও আছেন যারা অন্দ্ব ভাবেই রাজার রাজত্ব চান। চিকিৎসার জন্য টুটকা করেন। যখন কোন সমাজে বিপ্লবী বিজ্ঞান সেই অবস্থার মুখোমুখি হয়, মানুষ তখন অনেক ক্ষেত্রেই বিহবল হয়ে পড়ে। আর এটাই স্বাভাবিক বিষয়। তারা মনে করেন এই পরিস্থিতি বুঝি আর বদল করা যাবে না । কিন্তু তা বিপ্লবের জন্য মোটেই কঠিন কোন বিষয় নয় । লিডিং লাইটের নিকট সেই বিজ্ঞান আছে । আমাদের সেই পরিস্থিতি মকাবেলা করার সামর্থ আছে । বৃহত্তর পরিসরে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমরা ও সমর্থন করে গন সংগঠন গড়ে তুলতে চাই । কিন্তু কোন ভাবেই আমরা সর্বহারাদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিবনা । আমরা অগ্রসর বিপ্লবী বিজ্ঞান লিডিং লাইটকে সকলের সামনে তুলে ধরব। আমরা উচ্চতর ও ব্যবহারিক বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করব। কোন কল্প বিজ্ঞান নয় ইহা হবে কঠিন বাস্তবতা । সংগঠনের ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই কিছুটা রক্ষনাত্মক ভূমিকায় এগিয়ে যাব। সূচনায় তাই করতে হবে আমাদেরকে । আমাদেরকে এর সাথে সাথে বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে একটি ভাংগন ধরাতেই হবে । ইহা চলবে বাস্তবতার আলোকে । আমরা আমাদের লক্ষ্য স্থির করেই তা চালিয়ে যাব । আমরা বিজ্ঞানে যথা যত প্রয়োগ করব। আমরা দুনিয়া জুড়ে আন্দোলনের সুচনা করব। আমারা সংগ্রামের প্রতিটি স্থরকে অতিক্রম করে এগিয়ে যাব। আমরা বছর বছর ধরে যে বীজ বপন করেছি তার ফল আসতে শুরু করবে। তাই আমাদেরকে প্রতিটি স্তরের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করতে হবে ।

লিডিং বলছেঃ

“ আপনার চে ‘র কৌশল সম্পর্কে জ্ঞান কতটুকু আছে তা কিন্তু বড় কথা নয় বরং আপনার প্রস্তুতী কি পরিমান আছে সেটাই বড় কথা ”।

“ আরো কেউ কেউ বলেন যে,“শিশু সুলভ পড়া শোনা, ভাসা ভাসা জ্ঞান দিতে পারে, কিন্তু সত্যিকার পড়া শোনা ও একটি লড়াইয়ের জন্য বড় উপাদান হতে পারে”।

আমরা আসলেই একটি বড় ও দির্ঘ সংগ্রামে লিপ্ত। আমাদের একটি বড়  কৌশলগত পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের নেতা আছেন। আমাদের লাড়াকু মানুষ আছেন। আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ন উপাদানের ও উপকরনের জন্য কাজ করছি। আমরা যদি উপকরন পেয়ে যাই তবে অবশ্যই কিছু দিনের মধ্যেই আন্দোলনকে একটি উচ্চতর স্তরে উন্নিত করতে পারব। আমরা চিন্তা করছি আর দেখছি এক দিকে আমরা খুবই নিকটে আছি আবার অন্যদিকে  লক্ষ্য বস্তু থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছি। আমাদের লক্ষ্য আমাদের পানে হাত উচিয়ে ডাকছে। আমরা আমাদের জগতে কিছু স্বাপ্নিক মানুষ চাই। যারা প্রকৃত ভাবে অনুদান করাকে ও একটি বিপ্লবী মহৎ কর্ম হিসাবে বিবেচনা করবে। আমরা এমন কোন উপকারন চাইনা যা কোন প্রহেলিকার বিষয় । ইহা খুবই বাস্তব সম্মত জিনিষ। লড়াই সংগ্রামের জন্য অতি আবশ্যক। ইহা কোন কৌতুকের বিষয় ও নয় । আমদেরকে বিজ্ঞান বিত্তিক ভাবে পরিস্থিতি পাল্টাতে হলে অবশ্যই সেই উপকরন গুলো দরকার হবে । ইহা কোন “ফ্যাশনের” বিষয় ও নয়। আমরা সকল কঠিন কাজ গুলো করছি । আমরা ত্যাগ করছি। প্রথম বিশ্বের লোকদের বলছি দয়া করে নিজেদের ইগো কে নিয়ন্ত্রন করুন। আমাদের পার্শে এসে দাড়ান। আমাদের দরজা আপনাদের জন্য ও খোলা থাকলো।

২. আপনি কি রনকৌশল, রননীতি ও উপকরন সম্পর্কে আরো কিছু বলবেন ?

যে কোন রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামের জন্য যথাযথ পদ্বতিতে রননীতি ও রনকৌশল গ্রহন করতে হয়। নইলে সকল প্রচেষ্টাই বিফল হতে বাধ্য। সংগঠন আন্দোলন সকল কিছুই বিজ্ঞান ভিত্তিক হওয়া দরকার । যদি সেই ক্ষেত্রে আলোকিত নেতৃত্ব না থাকে, তবে আপনার সংগ্রাম একসময় স্তিমিত হয়ে পড়তে পারে, হাজার রকমের উপকরন থাকলেও কোন লাভ হবে না বরং তা রুমান্টিকতা ও হটকারিতায় পর্যবশিত হবে।

এখন ও আমরা দেখি যে কোন কোন এলাকায় সাম্যবাদি আন্দোলনের নামে ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম চালু আছে। হাতে গুনা কিছু যুবক, ছাত্র আন্দোলন শুরু করে হাতে বন্দুক নিয়ে সেলফী তুলে প্রকাশ করে, আবার নাটক গানের দলের নামে প্রচারনা করতে গিয়ে বাহা দূরী প্রকাশ করে। এই গুলো দৃশ্যত ভালোই কিন্তু এর কোন ভবিষ্যৎ নেই। এতে হয়ত গোড়া মাওবাদি আন্দোলনের কিছুটা রূপ দেখা যায় কিন্তু আসলে এতে আলোকিত সাম্যবাদি আন্দোলন হয় না। বিশ্ব জন সংগ্রাম এই ভাবে হবে না । মাও নিজেই এই ধরনের কার্যক্রমের বিরুধীতা করে গেছেন। এই ধরনের কাজ সাধারন মানুষের জন্য বা পার্টির জন্য খুবই বিপদজনক। সত্যিকার লড়াই আসলে কোন খেলা নয়।

কোন কোন সময় আবেগ মানুষের ক্ষতি করতে পারে, ইগো তাকে বিপদে ফেলতে ও পারে। সাম্যবাদ কায়েমের নামে অপরিপক্ষ অবস্থায় সরাসরি আঘাত হানা বুদ্বিমানের কাজ নয়। যখন আমরা দেখি যে কিছু ছাত্র যুবক মুখে কালো কাপড় বেঁধে বন্দুক হাতে ছবি তুলছেন তখন দেখতে ভালোই লাগে। রাষ্ট্রে সাথে সংগ্রামের নামে আত্ম হত্যার পথ বেঁচে নেয়া বুদ্বিমানের কাজ নয়। সেই যুদ্বে যাবার আগে নিজেদেরকে একটি শক্তি হিসাবে অবশ্যই প্রমান করতে হবে। পরিপক্ষ হবার আগেই আস্ত্র হাতে নেয়া দূর্বলতারই লক্ষণ, ইহা শক্তির পরিচায়ক নয় । ইহাকে আমরা বলতে পারি পেটি বুর্জোয়া মানসিকতা, বিশৃং খল সর্বহারা, গন বিচ্ছিন্ন, দির্ঘ মেয়াদি লড়াইয়ে অনিচ্ছুক ও বিপ্লবী বিজ্ঞানের ধারনার অভাব বিরাজমান। সেই ক্ষেত্রে কেবল ভাবাবেগ ও প্রথম বিশ্ববাদি মানসিকতার পরিচয়ই বহন করে। এই ধরনের কার্যক্রম মূলত তৃতীয় বিশ্বের মানুষের লড়াই সংগ্রামের পথকে বাঁধা গ্রস্তই করে থাকে। লেনিনবাদি ও মাওবাদি দের মাঝে  আমরা এমন ও হটকারী পদক্ষেপ দেখেছি যে, তারা ছোট সংগঠন গড়ে তুলুন, সন্ত্রাসী চক্র ও অপরাধী চক্র তৈরী করুন ইত্যাদি প্রকারের শ্লোগান দিয়ে নানা প্রকার তথাকথিত বিপ্লবী সংঠন গড়ে তুলেছেন। আর সেই পদক্ষেপ তাদেরকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করে ছেড়েছে। তারা সাময়িক ভাবে কিছু মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারলেও  সত্যিকার ভাবে সেই পথে অনেকেরই সর্বনাশ ডেকে এনেছে। এক সময় তাদের মাঝে এই প্রতিযগীতা দেখা গেছে যে, কারা কাদের চেয়ে বড় তা প্রদর্শনের ও চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে নিজেদের মধ্যেই প্রতিযোগীতা শুরু হয়ে যায়। যা কোন ভাবেই কাঙ্ক্ষিত ছিলো না ।

ব্যবহারিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রোমান্টিকতা একটি উল্লেখ যোগ্য দিক । সত্যিকার আন্দোলন সংগ্রামের জন্য ও তার দরকার আছে। তবে কোন ভাবেই অপরিপক্ষ অবস্থায় রোমান্টিকতার সাথে অস্ত্রের সংযোগ সঠিক কাজ নয়। তা হলে বিপ্লবের পরি বর্তে দেখা দিবে হটকারিতার। জন্ম হবে ফ্যাসিবাদের । অথবা কিছু মানুষের মাঝে “কেবলই বুদ্বিজিবিবাদের” উৎপত্তি হবে। তারা সত্যিকার নেতৃত্ব দিতে পারবেন না । তারা মাওবাদ, বিপ্লবী বিজ্ঞান সম্পর্কে অবুঝই থেকে যাবেন। তাদের মাঝে ভর করবে পেটি বুর্জোয়া হিরুইজম।

আমাদেরকে বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোকিত নেতৃত্ব সৃজন করতে হবে। আমরা সেই প্রকার নেতা চাই যারা রাতা রাতি সূনামের জন্য পাগল হয়ে উঠবেন না । আমরা সেই নেতা চাই যিনি দির্ঘ কাল ধরে দির্ঘ সময়ের জন্য এক রাজনৈতিক খেলায় অংশ গ্রহন করে বিজয়ী হতে অগ্রাহী। গন লড়াই কোন অভিযাত্রা নয় ইহা হলো একটি প্রক্রিয়ার নাম। যেখানে লক্ষ লক্ষ লোকের অংশ গ্রহন নিশ্চিত করা যাবে। বিপ্লবী বিজ্ঞানের ব্যবহারিক ক্ষেত্রে  মতান্দ্বতা ও আবেগবাদ জায়গা পাবে না ।

আজকের দুনিয়ায় বিশ্ব গন সংগ্রামের জন্য বিজ্ঞান ভিত্তিক উপকরন একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। ইতি মধ্যে বিজ্ঞানের ব্যাপক অগ্রগতি হয়ে গেছে। সময়ের সাথে সাথে কৌশলগত বিষয় ও উপকরনের তিক্ষণতা চলে আসবে, তবে এর জন্য বিশ্বব্যাপী আন্দোলনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতী এখন ও অনেক বাকী। তবে কেবল এক গুচ্ছ আধুনিক মানুষের সমাহারই যতেস্ট নয়। আমরা দুনিয়া জোড়ে গন সংগ্রাম ও লড়াইয়ের কথা বলছি। তা কিন্তু সেই গেরিলা যুদ্ব নয়। যা ফ্যাসিবাদ ও হঠকারিতার জন্ম দেয়। নৈরাজ্যবাদ ও খুন হত্যার জন্ম দিয়ে সামাজিক বিচ্ছিনতার পট ভূমি রচনা করে দেয়। জনগণই আমাদের উপকরন সর্বরাহ করবে। তারা ই আমাদের আসল নেতা। তারা ই তাদের সকল ব্যবস্থা করবেন। আমরা তাদের নিকট থেকেই সকল কিছু শিখব।

৩. সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম ও বিপ্লবী আন্দোলন কি ?

বিশ্ব ব্যাপী এখন বেশ কিছু সমস্যা রয়েছেঃ

প্রথমতঃ মানুষের উচিৎ সকল প্রকার মতান্দ্বতা থেকে মুক্ত হওয়া। তাদের দায়িত্ব হলো সকল স্তরে আলোকিত সাম্যবাদ কে কমান্ডে স্থাপন করা । বুর্জোয়া মানসিকতা পরিহার করা যাতে রোমান্টিকতা, মতান্দ্বতা ও গোড়ামী রয়েছে। আমাদের কাছে সবচেয়ে অগ্রসর বিপ্লবী বিজ্ঞান রয়েছে। আমাদেরকে ভীতিহীন ও দরদী বিজ্ঞানী হতে হবে। সত্য আমাদের নিকটই আছে। সত্যই সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

দ্বিতীয়তঃ কোন অবস্থায়ই অপরিপক্ষ অবস্থায় অস্ত্র হাতে নেয়া উচিৎ নয় । সকল প্রকার ফ্যাসিবাদের, ও নির্মমতার মানসিকতা ত্যাগ করা উচিৎ। বন্দুক সহ সেলফী ছবি বিপ্লব করে দিবে না । অস্ত্র সহ কতিপয় ছবি তুলে প্রচারনা চালানু মানুষকে বিপ্লবে আকৃষ্ট ও করবে বলে মনে হয় না । জনগণ একটি সুশৃংখল পরিকল্পনার মাধ্যমে আলোকিত বিপ্লবের দিকে এগোতে চায়। জনগণ ই বিশ্বগন আন্দোলনের সকল সম্পদের যোগান দাতা হিসাবে কাজ করবে। তারা ই সকল সংগ্রাম আর লড়াইয়ের মূল নায়ক। জনগণই তাদের নিজেদের রাজ কায়েম হওয়ার আগ পর্যন্ত সকল প্রকার উপকরনের ব্যবস্থা করবেন। তারা এই মহান বিপ্লবী কর্মের অর্থ যোগাবে।

তৃতীয়তঃ জনগণের উচিৎ হলো যারা লিডিং লাইটের সম মানসিকতা পোষন করেন তাদের সাথে একটি শক্তিশালী জোট গঠন করা । আন্দোলনের জন্য সাধারন মানুষকে দলবদ্ব করা দরকার। এই ক্ষেত্রে কেবল সাবেক “বাম পন্থীরা” নয় বরং সকল উতসাহী মানুষকে আহবান করা উচিৎ।

চথুর্তুতঃ শৃংখলা বৃদ্বি করে তার সুরক্ষা করা উচিৎ। সকল কমরেডদেরকে নিয়মিত দান করা অভ্যাস করতে হবে । সকল কমরেড ই নিয়মিত লেখা পড়া চালিয়ে যাবে। আমাদের উচিৎ বিপ্লবকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া । আমাদের ইগো থাকবে না। আমাদেরকে সত্যিকার ঐক্য গড়ে তুলা উচিৎ। আমাদের স্ব স্ব স্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করা দরকার। আমরাই আমাদের সত্যিকারের কর্মী। কোন প্রকার অভিযোগ না তুলেই আমাদের দায়িত্ব পালন করা দরকার। সকল কিছুই জনগণের জন্য, গন সংগ্রাম, লিডিং লাইট, সংঠন ও নেতৃত্ব ইত্যাদি।

পঞ্চমতঃ নিরাপত্তার দিকে নজর দেয়া দরকার। আমরা নানা জায়গায় আক্রান্ত হচ্ছি। আমাদের নিপত্তাকে শক্তিশালী করতে হবে। আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। আমাদের পরিক্ষিত প্রতিনিধি ছাড়া অন্যদেরকে সতর্কতার সাথে পরিচালনা করব। আমারা দুনিয়া জোড়ে একটি গোপন সংগঠন।

ষষ্টতমঃ উদ্যোগ গ্রহন করা খুবই গুরুত্ব পূর্ন বিষয়। যদি আপনি মনে করেন যে আপনাকে পার্টি যথাযত ভাবে কাজে লাগাচ্ছে না তবে আপনি নিজেই এগিয়ে এসে বলুন যেন জন সেবায়  আপনাকে বেশী করে কাজে লানো হয়। নিরবে বসে থাকবেন না । কথা বলুন।

সপ্তমতঃ মতান্দ্বদের মত সমালোচনাকে ভয় পাবেন না । এতে কিছু যায় আসে না । কাপুরুষ সিংহদের থেকে দূরে থাকুন। তাদেরকে সহায়তা করবেন না । যাদের কোন জন ভিত্তি নেই তাদের কথায় কান দিবেন না । তাদের রাজনীতি হিসাবের খাতায় ফলাফল শূন্য। তারা অনেক সময়েই মারাত্ম ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াতে পারে। তৃতীয় বিশ্ববাদি-সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী হিসাবে নিজেদেরকে পরিচয় দিলেও তারা উদারতাবাদেরই চর্চা করে থাকেন। তাদের সংখ্যা অতি নগন্য। নিজেদের নাম ডাকের জন্যই রাজনীতির মাঠে নেমেছেন। জন সেবা বা জন মুক্তি এদের উদ্দেশ্য নয় ।

৪. আপনার বক্তব্যে আর্থিক দিকের প্রধান্য লক্ষ্যনীয়, বলুন তো কেন ?

আমাদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি যদি দেখেন তবে দেখবেন, আমরা সর্বহারাদের স্বার্থে প্রচুর কাজ করেছি। আমরা নানা দেশে লোকদেরকে প্রশিক্ষন দিচ্ছি, বিদ্যালয় কার্যক্রম করছি, এই গুলো আমাদের ভিত্তি কাজ। আমরা বিশ্বময় ছড়িয়ে আছি। আমরা ভিত্তি এলাকা গড়ে তুলছি। সেই সকল ক্ষেত্রে অর্থ ও উপকরন লাগবেই। আমরা যদি আগামীতে এই কাজের মাত্রা বাড়াতে চাই তবে অবশ্যই উপকরন ও অর্থের পরিমান বাড়াতে হবে । আমরা বেশ উল্লেখ্য যোগ্য অগ্রগতি অর্জন করছি। আমি আপনাদেরকে অনুরুধ করছি আসুন সকলে মিলে আরো ভালো কিছু কাজ করি । আপনার ভূমিকা ও কিন্তু কম নয় ।

৫. আপনি একটি “লম্বা খেলার” কথা বলেছে সেটা কি ?

লিডিং লাইট একটি লম্বা খেলা শুরু করেছে। আমারা যখন থেকে এই কাজ শুরু করি তা পাঁচ বছর, দশ বছর, দশক  পেড়িয়ে এখন আমারা ভিন্ন একটি স্তরে এসেছি । আমরা মূলত একটি বিশাল জয়ে প্রত্যয়ে লড়ছি। এটা কে আমরা অগ্রসর দলের দায়িত্ব মনে করছি। ইহা অন্যান্য কাজের মত নয়। এটা সকল কিছুকে বদলে দিবে। এটা তার নিজস্ব লক্ষ্য অর্জন করবেই। আমরা আমাদের যাত্রা পথে কোন সাধারন কাজের জন্য দাঁড়াতে পারি না । আমরা কেবল স্থানীয় কোন বিষয়ে নিজেদেরকে জড়িত করতে পারি না । সকল কিছুই সকলের জন্য এবং আমাদের জন্য ভালো হবে । যা এখন গুরুত্বপূর্ন আমারা তাই করে চলেছি। আমাদের ও অন্যাদের মতই একটি কৌশলগত পরিকল্পনা রয়েছে । আমাদের যোগ্য নেতৃত্ব বিদ্যমান। আমাদের দৃষ্টি কেবলই বিপ্লবের দিকে । আমাদের কাজের একটাই হলো পুরস্কার। তা হলো আলোকিত সাম্যবাদ। আর তা অর্জিত হতে পারে দির্ঘ মেয়াদি আন্দোলন সংগ্রামের ভেতর দিয়ে।

৬. যারা লিডিং লাইটকে ব্যক্তি পুজাবাদ ও বন্দুক বাজ বলেন তাদেরকে আপনি কি বলবেন ?

আপনি সংস্কৃতির দিকে দৃষ্টি দিলেই দেখবেনঃ উদারতাবাদ,ফ্যাসিবাদ,সামন্তবাদ বিরাজমান। আমারা আর পরিবর্তে কি কামনা করি। আমরা তো এমন একটি চিন্তার জগতের কথা বলছি যা সকল কে সার্বিক ভাবে মুক্তির পথ দেখাবে। আমরা বলি সত্যই আসল কথা । আমরা বলি বিজ্ঞানই আসল বিষয়। আমরা বলি এই গুলো মানুষের বাঁচার জন্য এমন কি মৃত্যুর জন্য, জনগণের সেবার জন্য ও দরকার। পরিবার ও সমাজ একটি গুরুত্বপুর্ন বিষয়। আমরা সত্যিকার স্বাধীনতা চাই, সৃজনশীলতা, ন্যায় বিচার, প্রগতি, সমতা ও সকলের জন্য আনন্দ চাই। আমরা লড়াকু। আমরা আমাদের ভাই বোনদের জন্য প্রান দিতে ও প্রস্তুত আছি। আপনার কষ্ট আমার ও কষ্ট। কোন মানুষই স্বাধীন হতে পারেন যদি সকলের স্বাদীনতা নিশ্চিত করা না যায়। আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য একটি শান্তিময় দুনিয়া কায়েম করতে চাই। আমরা পৃথিবীকে সাজাতে চাই, এটা আমাদের সকলের বাড়ি, সকলের ঘর। এটা আমাদের পরিবারেরই মত। আমরা নেতৃত্বে বিশ্বাস করি, সংগঠন, ত্যাগ ও আনুগত্যে বিশ্বাস করি। অন্যদের কাছে আমরাদের পরিচয় ভিন্নরূপ মনে হতে পারে। আমরা মনে করি না যে আমরা কোন সমস্যা, বরং সাম্রাজ্যবাদ একটি সমস্যা । সমস্যা হলো উদারতাবাদ, ফ্যাসিবাদ, ও মধ্যযুগীয় চিন্তা ভাবনা। আমরা এখন এমন এক দুনিয়ায় বাস করছি যেখানে, মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ, আমাদের ভাই বোন, আমাদের সন্তান মারা যাচ্ছে যুদ্বের কারনে, খাবারের অভাবে, রোগে, অনিরাপদ পানির অভাবে, স্বাস্থ্য সেবার অভাবে ও দারিদ্রতার কারনে । এখন ও আমাদের দুনিয়া মানুষকে কেবল উপকরন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। আমরা এমন এক দুনিয়ায় বাস করি যখানে নারীদেরকে দাসের মত ব্যবহার করা হয়। আমরা প্রচলিত ব্যবস্থার অবসান চাই। আমরা এমন একটি ব্যবস্থার উত্থান চাই যেখানে থাকবে, সততা, বিজ্ঞান মনস্কতা, ত্যাগ, সাহসের চর্চা ও আনুগত্য শীল নাগরীক। আময়াদের কোন সমস্যা নেই সকল সমস্যাই হলো প্রচলিত ব্যবস্থায়।

আমাদের বিরুধীরা আমাদের বদনাম করার জন্য আমাদেরকে “বন্দুকবাজ” ও “মাফিয়া” বলে প্রচার করে। এখন তারা এমন একটি ব্যবস্থা কায়েম করেছে যেখানে মানুষে মানুষে ব্যাপক ব্যবধান তৈরী করেছে। ধনিরা আরো ধনি হচ্ছে। গরীবরা আরো গরীব হচ্ছে। ধনিরা সকল কিছুর মালিক। আমদের কিছুই নেই। তারা মানুষকে কিনে এবং বেচে প্রানিদের মত। তারা গরীবদেরকে অনন্ত যুদ্বে হত্যা করেই চলেছে। আমরা গরীব, শোষিত শ্রমিক, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বস্তীবাসী। আমরা সকলের জন্য সুন্দর

জীবন নিশ্চিত করতে চাই। আমরা সংগ্রাম করছি দুনিয়ার বেশীর ভাগ মানুষের জন্য। আমরা তো অস্ত্র হাতে নেই সকল অস্ত্র ত্যাগ করানোর জন্য। তারা লড়াই করে তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। আর আমরা লোড়াই করছি সকলের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য। তারা কেবল মুনাফার জন্য মানুষ হত্যা করে। তা হলে বলুন কারা “বন্দুকবাজ”? কারা সত্যিকার “মাফিয়া”?  প্রথম বিশ্ব ও তাদের দোষররা প্রতিনিয়ত সাধারন মানুষের সম্পদ লুন্ঠন করছে। আমাদেরকে এখানে মনে করতেই হচ্ছে মাওয়ের সেই বিখ্যাত বানীঃ “ আক্রান্ত হওয়া খুবই ভালো”। আমাদের উপর তারা অবশ্যই আক্রমন করতনা যদি আমারা এগোতে না পারতাম। আমরা যদি প্রচলিত দুনিয়ার ব্যবস্থা মেনে নিতাম তবে উরা আমাদেরকে আক্রমন করতেন না ।

সাম্রাজ্যবাদের প্রতি আমাদের কথাঃ আপনাদের যা খুশি বলুন। আপনারা যা ভালো মনে করেন। আমরা এতে ভীত নই। আপনারা এখন এমন এক শক্তির বিরুদ্বে লড়ছেন, এমন জনতার বিরুদ্ব কাজ করছেন, এমন সংগঠনের বিরুদ্বে লেগেছেন, এমন নেতৃত্বের বিনাশ চাইছে যা এর আগে কোন দিন দেখেন নি। ইহা এক টি নতুন ধরনের বিপ্লব। গন লড়াই।এটা আমাদের সময়। ভবিষ্যত আমাদেরই । আপনারা পরাজিত হবেন । এটা আপনাদের নিয়তি। আর বিজয় আমাদের নিয়তি।

৭. যারা আপনাদেকে সাহায্য করতে চায় তাদের প্রতি আপনাদের কি বক্তব্য ?

প্রথমেই সকল মিথ্যাকে দূরে সরিয়ে দিন। জঙ্গাল সারিয়ে রাখুন। রাষ্ট্রের ভূজবাজির দিকে এখন থাকাবেন না । এখন নতুন কিছুর স্পর্শে আপনি এসেছেন। আপনি  কোথায়, কোন ভষায় কথা বলেন, আপনি দেখতে কেমন, আপনার ধর্ম কি তা কোন বিষয় নয়। আমরা আপনার হ্রদয় দেখি। আপনার আত্মার রং হলো লালা।

আর সেই জন্যই আমরা বলছিঃ যাদের চোখ আছে তারা দেখবেন। যাদের কান আছে তারা শোনবেন, যাদের মন আছে তারা ভাববেন। আমরা আপনার সহায়তা চাই। আমাদের হাত আপনাদের দিকে প্রসারিত। এটা ধরুন। এটাই আপনার সুন্দর ভবিষ্যৎ। একে এম শিহাব।

Advertisements