সাম্রাজ্যবাদ কৃষকদেরকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে

indiafarmerbadcrop

(llbangla.org)

আমাদের মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ এশিয়ায় মারাত্মক ঝুকিতে আছেন, বিশেষ করে ভারতে, নেপালে ও বাংলাদেশে। ভারতের ৭৫% মানুষ এখন ও গ্রামেই বসবাস করেন যারা কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। তারাই সেই সকল দেশে অর্থনীতির চালিকা শক্তি। তারাই এখন মৃত্যুর মুখোমুখি । ভারতের প্রায় ১০ মিলিয়ন গরীব কৃষক এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। তাদের ফসল কাটাই তাদের নিজেদের জন্য, পরিবারের জন্য এবং তাদের শিশুদের জন্য মৃত্যুর কারন হয়ে দেখা দেয়। আবহাওয়ার ভালো মন্দ এখনো ভারতীয় কৃষকদের বাঁচা মরার প্রশ্ন। এই বছরে ও অতি বৃস্টি ও পাহারী ঢল কৃষকদের ফসলের জমি নষ্ট করে দিয়েছে। বৃস্টি ও বাতাস এত প্রচণ্ড ছিলো যে তা নিমিষেই কৃষকদের সোনালী ফসল বিনাশ করে দিয়ে যায়। তাদের গম, আলু ও পেয়াজের ক্ষেত সর্বনাশ হয়ে গেছে।

কৃষকগন তাদের সব হারিয়েছেন। এখন তাদের কিছুই নেই। আমাদের নিজেদের খাদ্য নেই, আমাদের গরু ছাগলের ও খাবার নেই। আমারা সকলেই আনাহারে আছি। আমরা ভূমি মালিক, সামন্ত প্রভূ ও পুঁজিবাদী যারা সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে কাজ করে তাদের দাসে পরিণত হতে যাচ্ছি। উরা আমাদেরকে চির দিনের জন্য নানা ভাবে বন্দি করে ফেলতে চায়। তাই আমাদের অনেকেই মুক্তির জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছনঃ

“ এদের মধ্যে উত্তর প্রদেশের উজিপুর গ্রামের মুহাম্মদ সাব্বির এক জন। যিনি তার ফসলের জমির করুন অবস্থা দেখে নিজেকে স্থির রাখতে না পেরে এপ্রিলের প্রথম দিকে তার জমির পাশেই একটি আম গাছে ফাঁসিতে ঝুলে মারা গেলেন”।

৪৪ টি জেলা নানা ভাবে আক্রান্ত হয়েছে, ৭৫০,০০০ কৃষক। কেবল পাঞ্জাবেই প্রায় ৭৮৫,০০০ একর জমি যেখানে গম ও শব্জির আবাদ হয়েছিলো তা খারাপ আবহাওয়ার কারনে ধ্বংস হয়ে গেছে। হরিয়ানাতে হাজার হাজার ফসলের জমি নষ্ট হয়েছে। সেখানে ও তিন জন কৃষক আত্ম হত্যা করেছেন। এই কয়েক দিনে কেবল উত্তর প্রদেশেই কয়েক ডজন কৃষক আত্ম হত্যা করে মারা গেছেন। সরকার যদি তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা না করি তবে তাদের মধ্যে অনেকেই খাবারের অভাবে বা আত্ম হত্যা করে মরে যাবেন।

এই কি রাষ্ট্র ব্যবস্থা যার কারনে আমাদের উৎপাদনের জন্য সব চেয়ে ভালো লোকগুলো মরে যাচ্ছে ? তারাই তো সেই মানুষ যারা নিজের হাতে দুনিয়ার নারী পুরুষের খাদ্য উৎপাদন করে থাকেন। তারা মাঠে কাজ করে বলেই আমরা সকলেই বেঁচে আছি। তাদের শ্রম সকলকে বাঁচিয়ে রাখে। সকল সমাজই আমাদের সেই কৃষক ভাইদের শ্রম ঘামের উপর বেঁচে আছে। তারাই সভ্যতার নির্মাতা অথচ তাদের নিরাপত্তা, প্রগতি, মর্যাদা ও স্বাধীনতার কথা ভাবা হয় না ।

সাম্রাজ্যবাদ হল একটি ব্যবস্থার নাম, যার লক্ষ্য হলো কেবল মানুষের উপর থেকে মুনাফা অর্জন করা। এটা সেই ব্যবস্থা যা সকল ক্ষমতা কতিপয় মানুষের হাতে অর্পন করে দেয়। সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের পূজক চক্র এমন একটি ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছে, যেখানে আমাদের নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা নেই, কষ্ট আমাদের নিত্য সংগী আর মৃত্যু আমাদের নিয়তি। অথচ এখন কোথাও দারিদ্রতা থাকা কথা নয়। দুনিয়ায় এখন প্রচুর সম্পদ আছে। সেই সম্পদ বিয়োগ করলে এবং অবকাঠামো গড়ে তুললে ও প্রযুক্তির বিকাশ ঘটালে তা আমাদেরকে সকল প্রকার প্রাকৃতিক সমস্যা থেকে বাঁচাতে পারতো। সেই সম্পদ দিয়ে আমাদের খারাপ সময়ের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা ও করতে পারত সরকার। সাম্রাজ্যবাদ, সূদখোর মহাজন, সামন্ত, পুঁজিবাদীরা সকল ক্ষমতার মালিক হয়ে বসে আছেন। তারা তাদের স্বার্থে সব কিছু করেন । ওরা আমাদের জন্য কিছুই করেন না । এরা রক্ত চোষা বাদুর, এরা অন্যদের কষ্টের উপর বেঁচে থাকে। এরা অন্যদের রক্ত ও ঘাম খেয়ে বেঁচে থাকে। এরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও খেয়ে ফেলে। সাম্রাজ্যবাদ খুবই লোভী । তারাই আমাদের কৃষক ভাই বোনদের কে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদের কাছে যুক্তির কোন মূল্য নেই। সংখ্যাআ গরিস্ট মানুষের স্বার্থের কোন কানা কড়ির মূল্য নেই সেই নষ্ট মানুষের কাছে।

এটা আমাদের এখন ভেবে দেখার সময়। প্রকৃতি, ও ইশ্বর আমাদেরকে চিন্তা করার ক্ষমতা দান করেছেন। আমাদের তা কাজে লাগানো দরকার। আমারা কোন ভাবে সকল কিছু সেই রক্ত চোষাদের হাতে ছেড়ে দিতে পারি না। যারা আমাদের সকল কিছু চুরি করে নিচ্ছে, আমাদের জীবন, আমাদের শ্রম, আমাদের ভবিষ্যৎ ও আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ । আমরা তাদেরকে ধরবই। আমরা আমাদেরকে দুষারূপ করতে পারি না । আমরা আমাদের হত্যা করতে পারিনা । ওরা আমাদের সকল দুঃখের কারন। তাদেরকেই এর জন্য জবাব দিতে হবে। আমরা জেগে উঠবো। তারাই এই দুঃস্বপ্নের সৃজন করেছে। আমারা এই দুঃখের অবসান করতে চাই। আমরা ঐক্য গড়ে তুলব, একই সংগঠনে ও নেতৃত্বের আওতায় কাজ করব। আমাদের নতু

ন দুনিয়া গড়ে উঠবে পুঁজিবাদের ধ্বংস স্তূপের উপর। সত্য তো আমাদের ই নিকট। আমরাই তো সকলের চেয়ে অগ্রসর । আমরাই তো আলোকিত মানুষ। আলোকিত সাম্যবাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা গরীবের মক্তি ছিনিয়ে আনব। আমরা কৃষকের মুক্তি নিশ্চিত করব। আমরাই লিডিং লাইট। একে এম শিহাব ।

Advertisements