প্রেইরী ফায়ারের সাথে একটি সাক্ষাৎকার – ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৪

300px-Male-female-human (1)

(llbangla.org)

১. আপনার লিখায় আমরা দেখেছি প্রথম বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদী চক্রের উত্থান, ইহা সিরিয়া ও ইউক্রেনে এদের বর্তমান ভুমিকা কি ?

ধন্যবাদ। এই প্রশ্নের উত্তর দেবার জন্য আমাদেরকে অনেক বিষয়ে নজর দিতে হবে। প্রথমত, আমরা দেখব ঐতিহাসিক ভাবে ক্ষমতাধরদের উৎপাত কিভাবে মানুষকে নির্মূল করেছে। হয়ত অনেকেই বলবেন “ তাদের মাঝে তো আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিদ্যমান আছে” রাশিয়া ও পশ্চিমাদের মাঝে এখন ও দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। সিরিয়ার ও ইউক্রেনের ঘটনা একটি জ্বলন্ত উদাহরন। রাশিয়ায় এ ছাড়া ও আরো কিছু ঘটনা আছে । তবে এক সময়ে এর চেয়ে ও খারাপ সময় গেছে। আমি আমার জীবনে দেখছি যে আস্ত দুনিয়া এক বার পারমনবিক মৃত্যু পুরীতে পরিণত হতে চলেছিলো। তখন এক প্রান্তে সকল পশ্চিমা বিশ্ব আর অপর প্রান্তে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিলো। প্রতিটি তৃতীয় বিশ্বের দেশে দেশে চলছিলো এক প্রকারের ছায়া লড়াই। ল্যাতিন আমেরিকায় নানা স্থানে গৃহ যুদ্ব, একটি দেশ অন্য দেশের বিরুদ্বে লড়ছিলো। আমি দেখলাম এল সালবাদর, নিকারাগুয়া, এবং গুয়েতামালায় যুদ্ব। গ্রানাডা, কলম্বিয়ায় লড়াই। এই সকল দেশের মহা অশান্তির কাল টা ছিলো ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৯০ সাল এই সময়টা । এই জিনিষ ই আবার ফিরে ফিরে আসছে, তা পূর্ব ইউরূপে ও ঘটে চলেছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় সোভিয়েত ও ইন্দোচীন, মধ্যপ্রাচ্য, এবং আফ্রিকার যুদ্ব কারা লাগিয়ে ফায়দা হাসিল করেছিলো। যদি আপনি আরো পিছনে যান তবে দেখবেন, প্রথম বিশ্ব যুদ্বের আগে সাম্রাজ্যবাদের মধ্যেই নিজেরা নিজেরা পরস্পরের প্রতি মার মূখী অবস্থায় ছিলো। আফ্রিকার দখল নিয়েই না কত নাটক করেছে সাম্রজ্যবাদ। তাই ইউরূপীয়রা নিজেই সমগ্র আফ্রিকাকে ভাগ ভাগ করে দিয়েছে। সাম্রাজ্যবাদ নিজেদের মধ্যেই যে মারা মারি করবে রক্তপাত করবে সেই সম্পর্কে লেনিন ভবিষ্যৎ বানী করে গিয়েছিলেন। বর্তমান রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে যে দ্বন্দ্বের অবতারণা হয়েছে তাতে তো এরই প্রতিফলন দেখা যায়। ঐতিহাসিক ভাবে সাম্রাজ্যবাদের মানব নিধনের খেলা আগের মতই সমান তালে চলছে।

দ্বিতীয়ত, সকল জয়গায় সকল ক্ষেত্রেই সাম্রাজ্যবাদ নিজেদের মাঝে কামড়া কামড়ি করছে তা সর্বাবস্থায় সত্য না ও হতে পারে; বরং অনেক ক্ষেত্রে নিজের স্বার্থে অনেক জায়গায় তাঁরা মিলেমিশে কাজ করে। আগে সাম্যবাদিগন দ্বন্দ্বের একটি তালিকা তৈরী করতেন। তাদের তালিকায় স্থান পেত সাম্রাজ্যবাদ বনাম সাম্রাজ্যবাদ দ্বন্দ্ব, সাম্রাজ্যবাদ বনাম নিপিড়িত জাতি স্বত্বা, প্রলেতারিয়েত বনাম বুর্জোয়া ইত্যাদি। দুনিয়ার সামগ্রীক ঘটনা প্রবাহ এর আলোকেই বিচার বিশ্লেষণ করা হত। মাওবাদিরা বলতেন দুনিয়ার প্রধান দ্বন্দ্ব হলো সাম্রাজ্যবাদ বনাম নিপিড়িত জাতি সমূহ। আর এর অর্থ হলো অন্য সকল বিষয়ের থেকেই দ্বন্দ্বটি ই অতিব গুরুত্বপূর্ন। এর আলোকে দুনিয়াকে ব্যাখ্যা করা, ঘটনা প্রবাহকে বুঝা, এবং লড়াইয়ের পথ ও পন্থা নির্ধারন করা । এই দৃস্টিভঙ্গীর উপর ভিত্তি করেই প্রধানত জাতীয় স্বাধীনতার আন্দোলনের চক কাটা হয়। এর অর্থ কিন্তু এই নয় যে অন্য কোন দ্বন্দ্ব ছিলো না । তবে তা ছিলো অপেক্ষা কৃত কম গুরুত্বপূর্ন। যদি ও মাওবাদি পন্ডিতেরা দ্বন্দ্ব নির্ধারনে অধিক দক্ষ কিন্তু তাঁরা কিন্তু বলেন নাই যে এই দ্বন্দ্ব গুলির মধ্যে গুরুত্বানুসারে কোনটি প্রথম ও কোনটি দ্বিতীয় বা তৃতীয় ইত্যাদি। য়ামরা যখন বলছি যে প্রথম বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদের উন্মেষ হয়েছে এর মানে কিন্তু এই নয় যে, সাম্রজ্যবাদ বানবম সাম্রাজ্যবাদের দ্বন্দ্ব উপস্থিত নেই। তা কিন্তু অবশ্যই বিদ্যমান দেখতে পাচ্ছি। রাশিয়া ও সমগ্র পশ্চিমা বিশ্ব একে অন্যের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে। এমন কি ছোট খাট বিষয় নিয়ে ও তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে।

বর্তমান বহুজাতিক পুঁজিবাদ জাতীয় পুজিবাদকে সুরক্ষা করে থাকে, ঐতিহ্যবাহী পুঁজিবাদী দেশ গুলো সেই ভাবেই নিজেদের লুণ্ঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদী দেশ সমূহের ধনপতিরা জাতীয় স্বার্থের নামে পুজিবাদকে ঠিকিয়ে রাখে। অবশ্য এর পিছনে ও নানা কারন বিদ্যমান থাকেঃ পারস্পরিক বুঝা পড়া বর্তমান চীন ও অ্যামেরিকার সম্পর্কের বিষয়টি এই অবস্থায়ই চলছে। কিছু বহু জাতিক প্রতিস্টান, পরিচালনা পরিষদ ও অসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সমূহ ইত্যাদি। তাঁরা চূড়ান্ত বিশ্লেষণে পুঁজিবাদের সেবক ছাড়া আর কিছুই নয়।

উক্ত কাজ গুলো প্রথম বিশ্বের পকেট থেকেই পরিচালিত হয়। তৃতীয় বিশ্ব হলো এদের কর্ম ক্ষেত্র। এদের প্রধান কাজ হলো পুঁজিবাদের উপাদান গুলো ঠিকিয়ে রাখা । এই কাজ গুলোর ভালো উদাহরন হলো ব্রাজিল, সেখানে জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করে প্রথম বিশ্বের প্রতি তৃতীয় বিশ্বের যে ক্ষোভ ও ঘৃনা আছে তা প্রশমিত করার এক বিশেষ প্রয়াস। এই সকল ক্ষেত্রে ও কতিপয় দেশ প্রেমিক ধনবাদি মানুষ বিশেষ কিছু ইতিবাচক ভূমিকা পালনার চেষ্টা করে । যদি এই ভাবে ভাবা যায় যেঃ সত্যিকার অর্থেই দেশ প্রেমিক ধনবাদি বুর্জোয়ারা স্ব স্ব দেশের উন্নতি চায়, বিদেশীদের প্রভাব থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে চায়। কিন্তু এর পর ও তাঁরা দ্বন্দ্ব থেকে মুক্তি পাবেন না। মুৎসুদ্দি চক্র সর্বদাই চাইবেন যে তাঁরা বিদেশী প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের অর্থ ভিত্ত গড়ে তোলতে। তাই এই ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশ প্রেমিক পুঁজিবাদী ও মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদী চক্রের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিদ্যমান থেকেই যাচ্ছে। আর যে সকল মুৎসুদ্দি বেদেশী চক্রের সাথে সম্পৃক্ত তাঁরা তো নিজেদের আখের ভালো গোছিয়ে নিতে তৎপর থাকবেই। এই উদাহরন আমরা ইতিমধ্যে নানা দেশে দেখেছি।

তৃতীয়তঃ যারা বিপ্লবী তাদেরকে ও এই বাস্তবতা বুঝতে হবে । অগের দিন গুলোতে যারা বিপ্লব করতে চাইতেন তাঁরা চেষ্টা করতেন একটি সাম্রাজ্যবাদির সাথে অন্য একটির দ্বন্দ্ব লাগাতে, একটি মুৎসুদ্দির সাথে অন্য একটি মুৎসুদ্দির এবং দেশ প্রেমিক বুর্জোয়াদের সাথে সাম্রজ্যবাদি চক্রের দ্বন্দ্বকে উসকে দিতে। বিপ্লবীদের সেই সময়ে অনেক বস্তুগত শক্তি ছিলো, তাঁরা যেমন সাম্রাজ্যবাদিদের মাঝে কাজ করতে সক্ষম ছিলেন আবার অন্য দিকে শ্রেনী সংগ্রামকে পরিচালনা করার ও ক্ষমতা রাখতেন। উদাহরন হিসাবে আমরা এখানে চীনের বিপ্লবে দেশ প্রেমিক বুর্জোয়াদের ভূমিকার কথা মনে রাখতে পারি। তাঁরা জাপানের সাম্রজ্যবাদিদের বিপরিতে ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁরা চাইতেন নিজেদের দেশের স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে তাঁরা ই মূলত লাভবান হবেন। সামগ্রীক বিবেচনায় এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই । আগের সেই ক্ষমতা ও বিপ্লবীদের নেই। তাই আমাদেরকে ভিন্ন পথে নিজেদের দুই পায়ের উপর ভর করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে ।

২. আপনি জেন্ডার বিষয়ে বেশ গভীর ভাবে লিখেছেন। আমেরিকা সহ অন্যান্য দেশের পিতৃতান্ত্রিক অবস্থাকে কিভাবে দেখছেন ?

আমাদেরকে একটা কথা বুঝতে হবে যে, দুনিয়ার সকল স্থানের নারীরা পিতৃতান্ত্রিক অবস্থার কারনে সমান মাত্রার দুর্ভোগ বইছেন না । তৃতীয় বিশ্বের গরীব নারী সমাজ অধিক মাত্রায় কষ্টে আছেন। তাঁরা সমান ভাবেই শ্রেনী গত ও জেন্ডার গত সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তৃতীয় বিশ্বের নারীরা কল কারখানায় ও নানা ভাবে নিপিড়নের শিকার হচ্ছেন। যখন সে একজন পুরুষ বসের নিয়ন্ত্রনে কাজ করে তখন ও সে নানা ভূগান্তিতে পড়ে। সামন্ততান্ত্রিক সংস্কতির কারনে অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ সহ কর্মীর দ্বারা ও নিপিড়নের শিকার হয়ে থাকেন। পুরুষ প্রাধান্যের কারনের কারখানার মালিকেরা নারীদেরকে তাদের প্রয়োজনমত যৌন কর্মে ও ব্যবহার করে থাকে। হয়ত এক জন নারী এই ধরনে জীবন মোটেই পছন্দ করেন না। তাঁর বিয়ে সাদির এবং তালাকের প্রশ্নে ও নানা রক্ষনশীলতার শিকার। পরিবারের পছন্দেই হয়ত তাকে কোন অপরিচিত পুরুষ মানুষকে বিয়ে করতে হয়। সে তাঁর বংশ তালিকার বাইরেও যেতে পারে না । তাঁর কর্মে ও কোন প্রকার স্বাধীনতা নেই । গৃহে কাজ করবে বা পরবারের পছন্দমত কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক বিষয়। স্বামীর সংসারে শশুর শাসুরী ও দেবরদের ইচ্ছের বাইরে সিদ্বান্ত গ্রহনের ক্ষমতা এখন তাদের সিমিত হয়ে আছে। এখন ও মিলিয়ন মিলিয়ন পরিবারের মানুষ এই পরিস্থিতি থেকে তৃতীয় বিশ্বে বেড়িয়ে আসতে পারে নাই । অনেক সময় দেখা যায় পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ পরবারের ও সামাজিক ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে নারী দেরকে আরো গৃহ মূখি করতে চায় ।তাদের মতলব হলো তাদের নিকট থেকে কম মূল্যে শ্রম ক্রয় করা। মাওবাদিরা এটাকে আধা সামন্তবাদ হিসাবে অবিহিত করে থাকে। এই পরিস্থিতির শিকার নারীরা হলেন প্রলেতারিয়েত শ্রেনীর কেন্দ্রবিন্দু। তাঁরা বিপ্লবী রাজনীতির সামাহিক ভিত্তি হতে পারেন। তাঁরা প্রতিনিয়ত নানা কষ্ট ভোগ করছেন। তাদের শৃংখল ছাড়া হারাবার আর কিছু নেই।

আমরা যদি নিজেদেরকে প্রশ্ন করিঃ তৃতীয় বিশ্বে এই ভাবে নারীদেরকে নিপীড়ন করলে কারা বেশী উপকৃত হয়? তাদের শ্রম ও শরীরের নিয়ন্ত্রন করলে কারা উপকৃত হয়? উত্তর হলো সামগ্রীক ভাবে সাম্রাজ্যবাদী উপকৃত হয়ে থাকে। প্রথম বিশ্বের পুরুষ ও নারী উভয়ই উপকৃত হয়ে থাকে। আপোশ কারী চক্র এই পরিস্থিতির সম্মোখিন হতে চায় না । এক কথায় বললে প্রথম বিশ্বের কর্মজীবী সমাজ ও সাম্রাজ্যবাদের উছিলায় এই প্রক্রিয়ায় উপকৃত হয়ে চলছেন। এরা তৃতীয় বিশ্বের শ্রম জীবী মানুষের বন্দ্বু নয় এরা ও বিপ্লবের শ্ত্রুর ভূমিকায় অবতীর্ন হচ্ছে।

চলমান পরিস্থিতির কারনে আমেরিকায় এখন এক ভিন্ন পারিবারিক অবস্থার উদ্ভব হয়েছে। এখানে গতানুগতিক পিতৃতান্ত্রিকতার মাঝে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এক সময় যেমন পিতৃতান্ত্রিকতার কারনে নারী পুরুষের সম্পর্কের মাঝে একটি বন্দ্বন কাজ করত এখন তা আর আগের মত ঠিক কাজ করছে না । সাম্রাজ্যবাদী ধ্যান ধারনায় এখন এমন অবস্থার সৃজন হয়েছে যেখানে নারী সহ সকল পারিবারিক পরিবেশে ও একটি উদার গণতান্ত্রিক আবহ কাজ করছে । নতুন সামাজিক মূল্যবোধ কাজ করছে। ভাঙ্গছে পরিবার প্রতিদিন। নারীর আয় রোজগার বহু ক্ষেত্রেই এখন পুরুষের চেয়ে বেশী হচ্ছে। নারী ব্যাপক হারে স্বাধীনতা ভোগ করছে। নারী বহু মাত্রিক আয় করে প্রথম বিশ্বের বিলাসী জীবনে প্রবেশ করছেন। এরা এখন আরাম দায়ক ও নিরাপদ জীবনে অব্যস্থ হয়ে উঠেছে। অ্যামেরিকার নারীরা এখন কেবল “ রান্না ঘরে থেকে গর্ভবতী হবার জন্য” প্রস্তুত নয়। তাঁরা এই সকল সুবিধা পাচ্ছেন সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার সুবাধে। তৃতীয় বিশ্বের নারীদের শোষণ করার বদৌলতে তাঁরা আজ সকল সুবিধা উপভোগ করছেন। কিছু ব্যাতিক্রম যা আছে তা হলো আরব দেশ সমূহের নারীদের ক্ষেত্রে, এ ছাড়া প্রথম বিশ্বের নারী ও পুরুষেরা তৃতীয় বিশ্বের নারীদের শোষণের মাধ্যমেই নিজেদের বিলাশী জীবন উপভোগ করছে। প্রকৃত অবস্থা হলো তৃতীয় বিশ্বের নারী ও পুরুষেরা অনেক প্রকারের রক্ষনশীল জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এটা একটা নির্জলা মিথ্যা কথা বলা হয় যে প্রথম বিশ্বের নারী ও তৃতীয় বিশ্বের নারী একি রকম ভাবে জেন্ডার ও শ্রেনীগত বৈশম্যের শিকার হচ্ছে। আজকে আমরা যে ধরনের নারীবাদি দৃশ্য দেখি তা ও তৃতীয় বিশ্বের নারীদের শ্রমের বদৌলতেই সম্ভব হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদ বিকৃত ভাবে পিতৃতান্ত্রিক পন্থায়, সামন্তবাদি কায়দায়, নারী ও শিশু শ্রমিকদেরকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। আজ কে যখন বলা হয় প্রথম বিশ্ব ও তৃতীয় বিশ্বের নারী পুরুষেরা ভাই ভাই/ বোন বোন তা এক ধরনের প্রহেলিকার মতই শোনায়।

যদি ও আগের মত আর এখন উন্নত দুনিয়ায় নারী পুরুশের মাঝে সম্পর্ক নেই, তা ইতিমধ্যে ভেঙ্গে পড়েছে। তাঁর জায়গায় এসেছে এক নতুন ধরনের অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক। কোন কোন সম্পর্ক তো মারাত্মক ধরনের হয়ে আছে। সেই সকল জায়গায় লোভ, লালসা সাংস্কৃতি ভর করেছে, ভালোবাসা ও আদর যত্নের কোন লেশ মাত্র নেই। কার্ল মার্কস বলেছিলেন, বুর্জয়াদের ভন্ডামীর অন্যতম হলো পুঁজিবাদের আওতায় অনুস্টানিক বিয়ে শাদি এক ধরনের বেশ্যা বৃত্তিতে পরিণত হয়। ফ্রেডারিক এঙ্গেলস বলেছিলেন, পুঁজিবাদের আওতায় বিহাব একটি বেশ্যাবৃত্তির নামান্তর। এই পর্যবেক্ষন কিন্তু একেবারে নতুন নয়। ইম্যানুয়েল কান্ট লিখেছিলেন, বিয়ের মাধ্যমে নারী পুরুশের শরীর ও সম্পদ পরস্পরের ভেতরে প্রবেশ করে । সেখানে নারীরা একটি সামন্তবাদি ও পিতৃতান্ত্রিক এক নির্মম অবস্থার শিকার হন। কান্ট ও এক ধরনের উদারনৈতিক অবস্থার ভেতর দিয়ে লক্ষ্য করেছিলেন নারীরা হলো পারিবারিক পরিবেশে ক্ষমতা ও সম্পদের বাহন। মার্কসের ভাষ্য হলো, পুঁজিবাদের আওতায় বিয়ে বিষয়টি একটি বিশাল পবিত্র হিসাবে দেখা হয়ে থাকে।

এখন আমেরিকায় এমন কিছু সংশোধনবাদির জন্ম হয়েছে যারা মনে করেন জেন্ডার ভিত্তিক আন্দোলন সংগ্রামের সুচনা করে বিপ্লবের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হতে পারে। রাজনীতিতে এরা আসলেই শিশু সুলভ আচরন করে থাকেন। তাঁরা উদারতা বাদের অনুসরী হয়ে ভিন্ন এক ধরনের উদারতাবাদের জন্ম দিতে সচেষ্ট রয়েছেন। তাদের সাথে ঘটছারা বেধেছেন কতিপয় বুদ্বিজীবী ও বাম ঘরনার মানুষ। তাঁরা নিজেদেরকে আবার প্রলেতারিয়েত শ্রেনীর প্রতিনিধি হিসাবে ও দাবি করে থাকেন। অবশ্য এরা ইতিমধ্যেই নিজেদের জনপ্রিয়তা হারিয়ে এক ঘরে হয়ে পড়েছেন। এমন কি তাদের জেন্ডার ভিত্তিক আন্দোলনে নারীদের ও সমর্থন নেই। আসল কথা হলো সাম্রাজ্যবাদের হাতের পুতুল হয়ে রাজনীতি করতে চাইলে এই পরিস্থিতিই হবে । যদি সত্যিকারের মুক্তি কামী ও বিপ্লবী আন্দোলনের সূত্র

পাত করতেই হয় তবে অবশ্যই আলোকিত সাম্যবাদের পথ ধরতে হবে। যাদের কথা হলো প্রথমে তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে বিপ্লবের পথে সহযোগীতা করতে হবে। তারাই এখন সত্যিকার অর্থে নিপিড়িত মানুষ। সেই নিপীড়িত মানুষকে বিশ্ব ব্যাপি পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতির আড়াল থেকে বেড় করে আনতে হবে। আমরা নিপিড়িত মানুষ নিয়ে কাজ করি নিপিড়কদের প্রতি আমাদের কন মায়া নেই ।

৩. আপনি ঐতিহ্যবাদ, উদারতাবাদকে বর্জন করেছেন আর প্রলেতারিয়েতকে উর্ধে তুলে ধরেছেন। তা কি আরো একটু বিস্তারিত বলবেন ?

আমরা ফ্যাসিবাদের কালো পথাকা এবং উদারতাবাদের ও সামন্তবাদের পতাকাকে ত্যাগ করছি। আমরা সাম্রাজ্যবাদের রংধনো কচিত পতাকা কে বাদ দিয়েছি। সাম্রাজ্যবাদ ও উদারতাবাদ উভয়কেই আমরা বাদ দিয়ে দিয়েছি। তা মানুষের জন্য কাঙ্ক্ষিত নয়। আমরা প্রলেতারিয়ান নারীবাদ সমর্থন করি, প্রলেতারিয়ানবাদ কায়েম করতে চাই। আমাদের আগের বিপ্লব গুলো এই ধারার জীবন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলো, যদি ও তাঁরা তেমন অগ্রসর হতে পারেন নাই। যদি আপনি সৌভিয়েত বা চীন বিপ্লবের দিকে এক জলক দেখেন তবে দেখতে পাবেন সেখানে কেমন করে পুরাতন ধ্যান ধারনাকে পরিবর্তন করেছিলো তাঁরা। তাঁরা ঐতিহ্য তন্ত্রের বিনাশে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন। এটা দেখার বিষয় যে, তাঁরা উদারতার নামে কোন প্রকার অপব্যভারকে স্থান দেন নাই। নারীদেরকে শিল্পের জন্য সক্ষম মানুষ, যোগ্য যুদ্বা, যোগ্য নেতা হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছিলো। নারী ও পুরুষকে সম ভাবে শক্তি শালী, বুদ্বিমান, নায়কোচিত ভাবে সমাজে হাজির করা হয়েছিলো। পাশা পাশি এটা ও বলা হয়েছিলো যে নারী রা হলেন মা, সুন্দর ও স্নেহ ও মমতার প্রতীক । নারী ও পুরুষের লক্ষ্য এক একই সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ন সদস্য তাঁরা । তাদের মধ্যকার যত বাঁধা বিপত্তি আছে তা দূর করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। আমরা নারীদের সকল প্রকার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি তাঁর সাথে সাথে সামাজিক বন্দ্বনকে ও আমরা বাদ দিতে চাই না । আমরা সকলের জন্য সমান সুযোগ সৃজনের জন্য আলোকিত সাম্যবাদের পথে এগোতে চাই।

৪. আমাদের সময় কম। আমাদেরকে শেষ করতে হবে। কেহ কেহ বলেন জিব বিজ্ঞান একটি সামাজিক প্রক্রিয়ারই ফলাফল। তাঁরা বলেন কেবল জেন্ডার নয়, যৌন ব্যবস্থার ও পরিবর্তন করা দরকার। আপনি এই বিষয়ে কি বলেন ?

নারী ও পুরুষের মাঝে অবশ্যই জৈবিক ফারাক বিস্তর। বিবর্তন আমাদেরকে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে উন্নিত করেছে। এর মধ্যে অন্যান্য বিষয়ের মত যৌন অঙ্গ ও একটি উল্লেখ যোগ্য বিষয়। কিন্তু এটাও সত্য যে নারী ও পুরুষের মাঝে মানিসিক ও নিউরোলজিকাল পার্থক্য বিদ্যমান আছে। কিছু উদারতাবাদি বলেন যে, যারা নারী ও নয় আবার পুরুষ ও নয় যারা মাঝা মাঝি অবস্থায় আছেন এটা ই ভালো। আহ, আহ, এরা নারী ও হলো না আবার পুরুষ ও হলোনা ! এতে এরা উল্লাসিত হয়। এটা অবশ্যই হাস্যকর একটি বিষয়। আসলে এরা একটি জটিল প্রজাতির মানুষ। এরা এক ভিন্ন রকমের জীবনে অভ্যস্থ। এরা সংখ্যায় নগণ্য। এরা পুরুষ/নারী কিছুই নয়।

আমরা একটি সুস্থ্য ধারার উদারতাবাদের সূচনা করতে চাই, যেখানে নারী পুরুষের স্বকীয়তা বজায় থাকবে। এর অর্থ এই নয় যে একজন অন্য জনের মাথার উপর উঠে নাচবে। বা জৈবিক পরিবর্তন সাধন করে অন্য লিঙ্গের রূপ ধারন করবে। আমাদের উচিৎ একটি বুদ্বিবৃত্তিক জেন্ডার চেতনার বিকাশ করা, একে অন্য কে নিপিড়ন করা নয়, বা জৈবিক পরিবর্তন সাধন করা নয়। যা হবে সত্যি বাস্তব সম্মত। # শিহাব

Advertisements