অক্সফামের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য- ধনী ৮৫ জনের “সম্পদ” ৩৫০ কোটি মানুষের সম্পদের সমান !

richest-300x169(llbangla.org)

আমরা শোনলাম, পড়লাম, বুঝলাম এবং  নানা ভাষায় দেখলাম। আমরা নানা ভাষায় উত্তেজনাকর তথ্যমালায় দেখলাম -অক্সফামের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য- ধনী ৮৫ জনের “সম্পদ” ৩৫০ কোটি মানুষের সম্পদের সমান । এই তথ্য গুলো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অক্সফাম প্রকাশ করার পর নানা পত্র পত্রিকায় ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। তারা ২০১৪ সালে ও প্রকাশ করা হয়েছিলো। এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যমালার বিরোধিতা করা আলোকিত সাম্যবাদিদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা সকল সময়ই এই ধরনের কার্যকরমের বিরুধিতা করে থাকি। তারা বয়ান করেছেন, “বিশ্বের ধনী ৮৫ জনের “সম্পদ” ৩৫০ কোটি মানুষের সম্পদের সমান”। তা হলে আলোকিত সাম্যবাদিরা কেমন করে বলেন যে, প্রথম বিশ্বের মধ্যবিত্ত শ্রেণি প্রচুর অপচয় করেন, প্রচুর ভোগ করেন ও বিলাশী জীবন যাপন করেন। তারা হয়ত তখন বলবেন, আলোকিত সাম্যবাদিরা ভূল কথা বলছেন। সাম্যবাদিরা বলছেন, কেবল উচ্চ শ্রেনীর  জীবন যাত্রার মানই কমাবে না বরং শ্রমিক সহ নিম্ন শ্রেনীর মানুষের ও জীবন মান কমাতে হবে। অক্সফামের কথা অনুযায়ী যদি ধরে নেয়া হয় যে, ৮৫ জন ব্যাক্তিই প্রধান সমস্যা তা হলে তো তাদেরকে পতন ঘটালেই নাটকীয় ভাবে সারা দুনিয়ার সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে । এই ক্ষেত্রে ও প্রথম বিশ্ববাদিরা বলবেন, আলোকিত সাম্যবাদিরা ভূল। ওরা বলবে, মধ্যবিত্ত শ্রেনী সমাজতন্ত্র থেকে বস্তুগত ভাবে কোন ভাবে উপকৃত হতে পারবেন না । প্রথম বিশ্বের শ্রমিক শ্রেনী ও সাধারন মানুষ প্রলেতারিয়েত নন। এরা প্রলেতারিয়েতের শত্রু। তা হলে কে সঠিক ?

অক্সফাম থেকে মুলত একটি উত্তেজনাকর তথ্যাবলী প্রকাশিত হয়েছে। অক্সফাম সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন ভাবে বিশ্বের বিভিন্ন এলাকা থেকে তথ্যাবলী সংগ্রহ করেছে, সাজিয়েছে প্রকাশ করেছে। তবে তা হয়েছে একটি হাস্যকর বিষয়। তাকে চমৎকার কৌতুক ও বালা যায়। অধিকন্তু, এই তথ্যাবলীর ডানা ও আছে। নানা কিসিমের ব্যাক্তি ও সংগঠন তাদের সুবিধামত এইসকল তথ্যাবলী ব্যবহার ও করবে। এই তথ্যাবলীর জীবন চক্র ও আছে। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তা হয়ত পরবর্তী ১০ বছর পর্যন্ত নানা জায়গায়, নানা স্থানে এই তথ্যাবলী সম্পর্কে শোনতে পাব। এই তথ্যাবলী আসলেই মারাত্মক বিভ্রান্তিকর, এবং মিথ্যার নামান্তর । ফেলিক্স সালমান, চমৎকার ভাবে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং এর ঐতিহাসিক বিষয়াদি তুলে ধরেছেনঃ

“ ২০১৪ সালের প্রতিবেদনের চেয়ে মিমির বয়স বেশী। ইহা ওয়াল্টনে ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করেছেঃ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছয়, আমরা তা বরাবরই বলে আসছি, সকল মার্কিনীদের মধ্যে নিচের দিকে ৩০% এর মধ্যে এদের স্থান।  অক্সফামের ভাষ্য অনুসারে, বিশ্বের উচ্চ পর্যায়ে ৮০ বা ৬৭ বা ৮৫ জন মহা ধনী মানুষের হাতে দুনিয়ার নিচের দিকে অর্ধেকের সম্পদ কুক্ষিগত হয়ে আছে । সম্প্রতি প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন হলো তাঁদের নব সংযোজনঃ এরা  পুনরায় ঘোষনা করেছে, ১% লোকের সম্পদ ৯৯% মানুষের সম্পদের চেয়ে বেশী।

অক্সফাম কেমন করে কোন পদ্বতী অনুসরন করে এই সিদ্বান্তে এলো ? এটা একটা  সহজ বিষয় যে কিছু লোককে শির্ষে বসিয়ে দেয়াঃ তারা ফর্বেস বিলিয়নিয়ার্সদে তালিকা তৈরীর মত আর কি, এই কাজটিই তারা শুরু করেছেন। তাদের এই তথ্য সম্ভার ও বিশ্ব সম্পদের তথ্য ভান্ডার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এই কর্মটি অক্সফামের কোন মৌলিক কাজ নয় । তা তারা শুধু অন্যদের কাজ থেকে ধারকরা কর্ম”।

সত্যিকার অর্থে অক্সফাম কতিপয় ফালতু তথ্যই মানুষের নিকট তুলে ধরেছে। তাদের এই কর্মের মধ্যে মৌলিক কিছু দুর্বলতা রয়েছে। তাদের দুর্বলতার মধ্যে বড় দুর্বলতা হলো তারা “সম্পদ” শব্দটি যথাযথ ভাবে ব্যবহার করতে পারেন নাই। জনগণের কাছে পরিস্কার করতে পারেন নাই “সম্পদ” এবং মানুষের জীবন মান কোন ভাবে এক নয়। “সম্পদ” হলো সকল মালিকানাধীন সম্পদ থেকে সকল প্রকার ঋন বাদ দিলে যা থাকে তা । উদাহরন হিসাবে বলা যায় যে, আমেরিকার একজন নাগরীকের বিশাল ঋন থাকা সত্ত্বেও তার প্রচুর অর্থের সম্পদ থাকতে পারে যেমন বাড়ী, গাড়ী, ক্রেডিট কার্ড, ছাত্র ঋন ইত্যাদি। প্রকৃত হিসাব করতে গেলে দেখা যাবে তার নেতিবাচক সম্পদই বেশী। কিন্তু এই ধরনের একজন আমেরিকান ও আরামদায়ক ও সমৃদ্বশালী জীবন যাপন করে থাকেন। তিনি প্রথম বিশ্বের একজন “মধ্যবিত্ত শ্রেনীর” লোক হওয়ার কারনে সেই সুযোগ পেয়েছেন।  অন্য আরেক জন লোকের দিকে যদি আমরা থাকাই, যেমন বাংলাদেশের একজন সাধারন কৃষক যার হয়ত কোন ঋন নেই বা খুবই স্বল্প মাত্রায় ঋনী। তিনি হয়ত তার পরিবার পরিজন নিয়ে প্রায়স উপোষ করে থাকেন। তিনি  হয়ত তার শিশু সন্তানকে নিজের পরিবার পরিজনের খাবার দাবারের জন্য রোজগার করতে অন্যের জমিতে কাজ করতে পাঠাচ্ছেন। তারা বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন হয়ত খুবই স্বল্প খাবার খেয়ে থাকেন। যদি ও সেই বাংলাদেশী পরিবারটি  অতি কস্টে বেঁচে আছেন, যদি ও তাদের  ঋন নেই, কিন্তু কৌশলগত কারনে উদাহরনে উল্লেখিত আমেরিকান পরিবারটির থেকে বেশী সম্পদের অধিকারী। এখানে একটি বিখ্যাত উদাহনের কথা বলতে পারিঃ ডোন্যাল্ট ট্রাম্প ১৯৮০ এবং ১৯৯০ সালে প্রচুর ঋন গ্রস্থ হয়ে পড়েন। তিনি দেউলিয়া হয়ে পড়েন। তারা সম্পদের পরিমান ছিলো খুবই কম। কিন্তু এর পর ও তিনি সুরম্য প্রসাদ তুল্য বাড়ীতে থাকতেন, তারা বিলাশ বহুল গাড়ী বহর ও ছিলো সেই সময়। তিনি প্রায়স হেলিকপ্টারে নিউইয়র্কে যাতায়ত করতেন। কৌশলগত ভাবে বলতে গেলে, বলতেই হয় যে, সেই সময়কার ডোন্যাল্ট ট্রাম্প বাংলাদেশী সেই কৃষকের চেয়ে অবশ্যই “সম্পদের” মালিক।

অক্সফামের সংগৃহিত তথ্যাবলী নিরিক্ষা করলে বুঝতে পারা যায় তারা কি ভাবে তথ্যের অপব্যহার করেছেন । নিচের গ্রাফটি দেখুনঃ

Screen-Shot-2014-04-04-at-2.02.31-PM

এতে ভৌগলিক-অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকার রং ব্যবহারে এই চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এখানে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত ক্রমহ্রাসমান । “১” নং চার্টে সম্পদের বন্ঠন এ ১০% দেখাচ্ছে। “২” নং চার্টে ২০% নিচের দিকে দেখাচ্ছে। গ্রাফটির বামদিকে নিচের দিকে দেখুন তা নিচের দিকে নেমে এসেছে। কি সেখান থেকে বেড়িয়ে আসলো ? ফেলিক্স সালমান সুন্দর উত্তর দিয়ে অক্সফামের বক্তব্যের অসারতা প্রমান করেছেন এই ভাবেঃ

“ আমাদের চিন্তার বিষয় হলো ত্রিকোনের উপর দিকে বাম কোনটিকে নিয়ে । আপনি যদি ক্রডিট সুইস তথ্য ভান্ডারের টেবিলের দিকে নজর দেন তবে দেখতে পাবেন বিশ্ব জনমিথির নিচের দিকে ১০% এর মধ্যে মানুষ নেইঃ চিনের মানুষের মাঝে  সম্পদের দিক থেকে সকলেই উপরের দিকে ৯০% এর মধ্যে অবস্থিত,  সেখান কার জন সংখ্যার অধিকাংশ মানুষ সম্পদের বিবেচনায় বিশ্বের অর্ধেক সম্পদ ধারন করে আছেন। যদি ও ভারত কিছুটা নিচের দিকে, তবুঃ একটু খেয়াল করলে দেখবেন বিশ্ব দরিদ্রতম ১০% এর মধ্যে সেখানে আছে ১৬.৪%। বাকী ৪.৪% বাংলাদেশে। পাকিস্তানে আছে ২.৬%। কিন্তু নাইজেরয়ায় ৩.৯% এছাড়া সেখানে আরো আছে দরিদ্রতমদের মধ্যে দরিদ্রতম ৭.৫% মানুষ – আর দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত। প্রথম যে দেশটি আছে সেটা কোনটি ? আমেরিকা” ।

নিম্নে ফেলিক্স সালমানের মূল্যবান কাজের একটি পূর্নাংগ চিত্র তুলে ধরছিঃ

“ প্রথমে নিম্নের স্তরের দিক থেকে আমেরিকা ৭.৫% । এক সময় ইহা ছিলো ০.২১%  দ্বিতীয় স্তরে  এবং তৃতীয় স্তরে ছিলো ০.১৬% হিসাবে ? এর উত্তরে কি বলা যায়ঃ আমরা মূল্যায়নের দিক থেকে বিবেচনা করছি, এই ক্ষেত্রে পরিসম্পদ থেকে ঋন বাদ দিলে যা থাকে তা । আমরা যদি বিশ্ব সম্পদের প্রকৃত বিশ্লেষণ করি তবে দেখবো নিচের স্তরে দিকে যে সম্পদ দেখানো হয় তা থেকে এক ট্রিলিয়ন ডলার কম হবে । দরিদ্র বিশ্বের মানুষেরা ক্রডিট সুইশ পদ্বতী অনুসরন করে থাকেন, তবে তা ভারত, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ মানে নাঃ তারা হলেন জেরেমি কারভিলের মত যারা এখন ও আঞ্চলিক ভাবে ৬ বিলিয়ন সম্পদের নেতিবাচক মালিকা অবস্থায় আছে ।

আমেরিকা এখন দুনিয়ার সবচেয়ে বেশী ঋন গ্রস্থ দেশ – মানুষ  মর্ডগেজের এক ধরনের প্রহেলিকায় নিমজ্জিত, এখন যারা স্নাতক করে বেড় হচ্ছেন তারা প্রায় সকলেই ঋনের বুঝা নিয়ে বেড়োচ্ছেন, বাড়ী গাড়ীর ঋন ও ক্রেডিট কার্ডের বুঝাতো মাথায় আছেই। অনেকেই যাদের নামে ইনস্যুরেন্স নেই তাদের স্বাস্থ্য সেবা নেবার মত নিশ্চয়তা নেই। আপনি যদি সত্যিকার ভাবে নেতিবাচক সম্পত্তির মালিকানার বিষয়াদি নিরিক্ষন করেন তবে দেখবেন দুনিয়ার সবচেয়ে ১০% মানুষের মাঝে ৭.৫% মানুষ হলো আমেরিকান। যদি সম্পদের মালিকানায় নিম্ন ১০% বিশ্লেষণ করতে থাকেন তবে দেখবেন – বহু লোক আছেন যাদের সম্পদের পরিমান একে বারেই শূন্যের কোটায়।  

বিশ্ব সম্পত্তির মালিকানার দিক থেকে নিচের ৩০% মানুষের অবস্থা নিরীক্ষণ করলে – সমগ্র বিশ্বে আপনি দরিদ্রতম মানুষ পাবেন ২ বিলিয়ন-  তবের তাদের সামগ্রীক সম্পত্তির পরিমান খুব কম বলে মনে হবে না – তা কিন্তু শূন্য নয়- ইহাকে আমরা নেতিবাচক বলতে পারি। তবে চূড়ান্ত ভাবে দেখলে দেখা যাবে তারা প্রায় অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার ধারন  করেন। একটি ছোট স্কুল বালক যে আজ তার পকেট খরচ হিসাবে মাত্র এক ডলার পেল। তা কিন্তু সম্মিলিত ভাবে বিশ্ব জনসংখ্যার হিসাবে  প্রায় ২ বিলিয়ন মানুষের আয়ের চেয়ে বেশী।

অথবা  আমরা যদি জেরিমি কারভিন যিনি বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্রতম ব্যাক্তি, যার দৈনিক আয় মাত্র এক ডলার । এই ধরনের  মানুষেরা আনন্দের সাথে ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করে থাকেন,  তারা বূহেমিয়ান জীবনে অভ্যস্থ বিদায় ঋন গ্রহন বা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের নেতিবাচক সম্পদের ও ভাবনা তাদের নেই।

এতে কোন সন্দেহ নেই যে বিশ্বের উচ্চ স্তরের ১% মানুষ ট্রিলিয়ন সম্পদের মালিকঃ আমাদের অবাক  হবার ও কিছু নেই যে এখন বিশ্বের অসমতা একটি সাধারন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি সকলকে নাড়া দেয় যখন খবর হয় যে, মাত্র ৮০ জন মানুষের হাতে ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার পুঞ্জিভূত হয়ে আছে । যদি এই অর্থ নিচের দিকে ‘এক বিলিয়ন’ মানুষের মাঝে বিতরন করা হয় তবে প্রত্যেকে পাবেন ১৯০০ ডলার করেঃ ফলে তারা বিশ্ব সম্পদের মালিকানার স্তরে উঠে আসতে পারবেন।

অক্সফাম দাবী করছে ১.৯ ট্রিলিয়ন পরিমান সম্পদ বিশ্বের মাত্র ৮০ জন লোক ধারন করে আছেন। যা সারা বিশ্বের ৫০% জন সংখ্যার হাতে রক্ষিত সম্পদের সমান। কিন্তু লক্ষ্য করার বিষয় হলো উচ্চ স্তরের ৩.৫ বিলিয়ন মানুষের মাঝে  মাত্র পাঁচ ভাগের দুই ভাগ মানুষের কথা তারা উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে ১.৪ বিলিয়ন মানুষ আছেনঃ যারা  ২.২ ট্রিলিয়ন সম্পদের মালিক। এবং আরো আছেন এমন সম্পদের মালিক যাদের সংখ্যা হলো ৩.৫ বিলিয়ন যাদের মধ্যে ১.৯ ট্রিলিয়ন সম্পদ রয়েছে। যদি সম্পদের বিতরনের প্রশ্ন  তোলা হয় তবে আমরা দেখতে পাই অক্সফাম উপরের দিকে যেতে চায় না, তারা নিচের দিকেই যেতে চায়।

এত কথা বলার অর্থ হলো – প্রথম শিক্ষা  এটা একটি সহজ কাজ যে, পরিসংখ্যান ব্যবহার করে মানুষকে বিপথে পরিচালিত  বা বিভ্রান্ত করা সহজ কাজ। যেমন ‘ উচু স্তরের ক সংখ্যক মানুষের নিকট যে পরিমান সম্পদ আছে খ সংখ্যক মানুষের নিকট ও সেই পরিমান সম্পদ আছে’।

দ্বিতীয় শিক্ষা হলোঃ আপনি যখন দরিদ্র মানুষ সম্পর্কে কথা বলেন, এই গুলো আসলে অর্থহীন ও গন্তব্যহীন ভাবে সম্পদ নিয়ে যোগ বিয়োগের খেলা । কিছু গরেবের  সঞ্চয় আছে; কিছু গরীব আবার মারাত্মক ভাবে ঋন গ্রস্থ; আবার কিছু গরীব আছে যাদের একেবারেই কিছু নেই।( তবে কিছু ধনী ও ঋন গ্রস্থ, যাদেরকে পরিসংখ্যানে যুক্তই করা হয় নাই)। এরা ইতিবাচক নেতিবাচক  সকল কিছুকেই একটি জগা কিচুরী পূর্ন বিষয়ে পরিনত করেছে। পরিসংখ্যান নিয়ে বিশ্লেষণ করলে স্বাভাবিক ভাবেই সম্পদের হিসাবে নিচের দিকে আসতে থাকে, কিন্তু তা সত্যিকার ভাবে কোন অর্থই বহন করে না ।

চীনের জনগনের মাঝে স্বাভাবিক প্রবনতা আছে পারিবারিক আয় থেকে কিছু সঞ্চয় করার, কিন্তু তাদের ভাগ্য ফেরাতে পারেনাই। অন্যদিকে আমেরিকানদের মাঝে সঞ্চয়ের কোন প্রবনাতাই নেই – এমন কি তা নেতিবাচক অবস্থায় আছে । অথচ এরা ধনী। আসলে আমরা সাধারন ভাবে ‘ধনী’ এবং ‘দরিদ্র’ শব্দ গুলো বুঝি । সম্পদ ও প্রকৃত সম্পদ  কথা গুলোর বিশেষ অর্থ হয় যখন আমরা ধনীদের সম্পর্কে আলোচনা করি। কিন্তু তারা সেই সকল শব্দ হারিয়ে যায় যখন আমরা দারিদ্রতা নিয়ে আলোচনা করি”।

পুঁজি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা যদি থাকে তবে দারিদ্র, ঋন ও নেতিবাচক সম্পদ থাকলে ও কোন সমস্যা হয় না । সেখানে দারিদ্রের লক্ষন ও ফুটে উঠে না । প্রথম বিশ্বের মানুষ ঋন করে এত এত টাকা খরচ করতে পারে যা তৃতীয় বিশ্বের একজন মানুষ সারা জীবনে ও দেখে নাই। ঋন প্রাপ্তির সুযোগ সুবিধাই তাদেরকে সেই ব্যবস্থা করে দেয়। ঋন তো হলো সেই জিনিস যা একজন মানুষকে সামিয়ক আপদ কালিন সময়ে ঠিকে থাকতে সহায়তা করে মাত্র । তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ ঋনে কোন প্রকার সুবিধাই নিতে পারেন না । তাদের জন্য ঋন হলো একটি বিপদজন জিনিস। তৃতীয় বিশ্বে ঋন মানুষের জন্য উপোষ ডেকে আনে, অনেক ক্ষেত্রে তাদের জীবনে নেমে আসে কৃত দাসের মত পরিস্থিতি ।  আক্ষরিক অর্থেই অনেককে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। যদি ও তাদের নিজস্ব প্রকৃত সম্পদ একজন আমেরিকানের চেয়ে অনেক বেশী। একজন আমেরিকান যত বিলাশী জীবন যাপন করতে পারেন পক্ষান্তরে, তৃতীয় বিশ্বের একজন মানুষ সেই জীবন কল্পনা ও করতে পারেন না । আর সেই সকল কারনেই আমরা বলি, বিশ্ব দারিদ্রতা বিশ্লেষনের জন্য সম্পদ কোন মানদন্ড হতে পারে না । বরং আয় হচ্ছে অনেক বাস্তব সম্মত মানদন্ড যা বিশ্ব দারিদ্রতা পরিমাপে ভূমিকা রাখতে পারে ।

প্রথম বিশ্ববাদিরা ভাবেন যে, তারা অনেক বেশী চালাক। তারা অক্সফামের উত্তেজক পরিসংখ্যান প্রচার করে “আহ  আহ ! আমরা লিডিং লাইটকে এবার স্তব্দ করে দিলাম!” তারা বুঝতে পারেনাই যে সেই বিতর্ক করতে গিয়ে তারা যে তাদের পায়ের নিচের মাটি হারিয়ে ফেলেছেন। তাদের সেই ফাঁকা পরিসংখ্যান যুদ্ব একেবারেই বিফল হয়েছে। সত্যি কথা বলতে কি অনেক প্রথম বিশ্ববাদি লোক আছেন যারা তাদের নিজেদের পরিসংখ্যান নিজেরাই বুঝতে পারেন নাই । যদি ও প্রথম বিশ্ববাদিরা মূর্খ, কিন্তু অক্সফামের অর্থনীতিবিদেরা জেনে শোনে সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন, মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন মানুষকে।

পরিস্কার ভাবে বললে বলতে হায় অক্সফাম আলোকিত সাম্যবাদিদের বক্তব্যকে খন্ডন করতে পারেন নাই। আলোকিত সাম্যবাদ চায় বিশ্ব মানুষের জীবন যাত্রার মানের পুনবন্ঠন,  যেখানে থাকবে না কোন দরিদ্র,ধনী, প্রত্যেকেই প্রত্যেকের সহভাগী হবেন, সকলেই সমান তালে এগিয়ে যাবেন, সকলেই সুখী জীবন যাপন করবেন, প্রতিটি মানুষ তাদের নিজস্ব ক্ষমতানুসারে জীবন যাপন করতে পারবেন। সেখানে জীবন মানের জন্য সম্পদ কোন ভূমিকা রাখতে পারবে না । মানুষ অত্যন্ত স্বল্প সম্পদের মালিক হয়ে ও এমনকি নেতিবাচক সম্পদের মালিকে হয়ে  ও ডোন্যাল ট্রাম্প ও জেরেমি কেরভিনের মত অত্যন্ত উচ্চ মাত্রায় উন্নত জীবন যাপন করতে পারবেন।

যারা বলে বেড়ান যে উঁচু শ্রেনীর নিকট থেকে নিচের দিকে  সম্পদের পুনবন্ঠনের মাধ্যম্যে একটি ন্যায় সঙ্গত ও সামাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে চান এবং সাধারন মানুষের জীবন মান উন্নত করতে প্রতিজ্ঞা বদ্ব, তারা আলোকিত সাম্যবাদিদের আবার বিরুধিতা ও করেন,  আবার ব্যাপক পরিবর্তন ও চান না। পক্ষান্তরে, তাদের ভীতি হলো যদি সম্পদ সংক্রান্ত পরিসংখ্যানের ইমারত  একবার ভেঙ্গে পড়ে তবে, আলোকিত সাম্যবাদিদের বিশ্ব শ্রেনী বিশ্লেষণের বক্তব্য যথাযত ভাবেপ্রমানিত হয়ে পরবে। এই সকল তথ্যাবলী মার্কিন জনগনের জীবন যাত্রায় ঋন কি কি ভূমিকা পালন করছে তা আমাদের সামনে এখন প্রকাশিত হয়ে পড়ছে। ঋন কিন্তু কেবল একজন মানুষের জীবনে পুঁজিতে প্রবেশাধিকার নয়, ইহা বরং মার্কিন সমাজের মাঝে একটি ভিন্ন মাত্রার ঐক্য ও পরগাছাবাদের বিকাশে সহায়ক হয়ে উঠে। ঋন একজন মানুষকে মার্কিন সমাজের বৃহত্তর পরিসরে অন্তরভূক্ত করে দেয়, যেমন- প্রথম বিশ্বে, ইহার ব্যাংকে, ব্যবসায়, অর্থনীতিতে সে একাত্ত হয়ে পড়ে। ঋন তাদেরকে সমাজের মালিকানা দান করে, সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা, সামাজিক উৎপাদন ও গনতন্ত্রায়ন করতে সহায়তা করে। মাওবাদি চীন এখন নিজেদেরকে একটি বুর্জোয়া দেশ হিসাবে প্রকাশ করে যাচ্ছে। নয়া বুর্জয়ারা ব্যাক্তিগত মালিকানায় এখন পুরাতন বুর্জয়াদের মতই পুঁজি ধারন করছেন। নয়া বুর্জোয়ারা এখনো যৌথ ভাবে সকল প্রকার মুনাফা ও অর্থনীতির উপর প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন। প্রথম বিশ্বের কর্মজীবী বুর্জয়ারা অনেকটাই সেই নয়া বুর্জোয়াদের মত। আসল কথা হলো নাটকীয় ভাবে মানুষের শ্রেনী পরিবর্তিত হয়ে গেছে। তা এখন আর কার্ল মার্ক্সের সময়ের মত নয়।

সমাজতন্ত্র ব্যাক্তিগত ইতিবাচক “সম্পদের” পুন বন্ঠন নয়, বরং সেই বিশাল নেতিবাচক সম্পদের ও পুন বন্ঠন করতে চায়। সত্যিকার অর্থে পুঁজিবাদ প্রতিনিয়ত তৃতীয় বিশ্বের মানুষের শ্রম শক্তিকে শোষণ করছে। এর মধ্যমে এরা নেতিবাচক সম্পদের সুযোগ বৃদ্বি করছে, প্রথম বিশ্বের মানুষ ও সেই সুযোগ সম্ভাবে ভোগ করতে পারেন না। যখন ধনী দেউলিয়া হয়ে যায়, যখন ব্যাংক আর টাকা ফেরত পায় না, যখন তাদের সম্পদ নেতিবাচক স্তরে নেমে আসে, তখনই এরা তৃতীয় বিশ্বের সাধারন মানুষের উপর সেই চাপ স্থানান্তরের প্রয়াস পায়। সত্যিকার অর্থে সাধারন মানুষের উপর দিয়েই প্রথম বিশ্বের লোকেরা বা “মধ্যবিত্ত শ্রেনী” বা কর্মজীবী মানুষেরা নিজেদের বেইল অউট করিয়ে নেয়। অথচ এরাই হলো নেতিবাচক সম্পদের মালিক। সাম্রাজ্যবাদের সামগ্রীক ব্যবস্থাটিই হলো দরিদ্র ও সাধারন মানুষের উপর দিয়ে নিজেদের ফায়দাটা উঠিয়ে নেয়ার এক ব্যবস্থা। তৃতীয় বিশ্ব থেকে প্রথম বিশ্বের দিকে সম্পদের সঞ্চালন করা । আমরা পরিবর্তনটা আনতে চাই, আমরা বৈজ্ঞানিক অর্থনীতির উপর বিত্তি করে এগোতে চাই । তা কেবল নেট ভিত্তিক হবে না । বাস্তবসম্মত হবে। সমাজতান্ত্রিক পরিবর্তন মানেই হলো বিশ্বব্যাপী অর্থ সঞ্চালনের গতিপথ পালটে দেয়া। ইহা সামগ্রীক ভাবে সকল কিছুর পুন বন্ঠন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায়। সকল নিপিড়নের অবসান ঘটাতে চায়। স্বাধীনতা, স্বাধীকার ও সুখের রাজ্য কায়েম করতে চায়। আর চুড়ান্ত লক্ষ্য হোল আলোকিত সাম্যবাদ কায়েম করে মানুষকে একটি নতুন বিশ্ব উপহার দেয়া ।

তথ্যঃ-

http://fusion.net/story/39185/oxfams-misleading-wealth-statistics/

Advertisements