ধর্মীয় ভাবধারার অপব্যবহার রোধ প্রসংগে


ধর্মীয় ভাবধারার অপব্যবহার রোধ প্রসংগে india_-_siria_f_0902_-_pope_francis_cardinal_oswald

লিখেছেন – কমরেড রিজাল রোজা

এখন তৃতীয় বিশ্বের দেশে দেশে বিপ্লবী আন্দোলন, সাম্রাজ্যবাদ বিরুধী সংগ্রাম ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির স্বাভাবিক বিকাশকে ধর্মীয় জংগীপনা নানা ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ করছে। অনেক দেশেই মার্কিন ও ইসরাইলের সহায়তায় “উগ্র ধর্মীয় ভাব ধারাকে” কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্বি পেয়েছে। ফলে সেখানে মুক্ত চিন্তার মানুষ, রাজনৈতিক কর্মী, ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বার লোকেরা নানা ভাবে হয়রানীর শিকারে পরিনত হচ্ছে। এই প্রবনতা দক্ষিন এশিয়ায় ভয়াবহ। একদিকে উগ্র “হিন্দু” চক্র মুসলিম, খ্রীস্টান ও বুদ্বদেরকে খতমের জন্য কাজ করছে অন্য দিকে তথাকথিত “ইসলামিক” গুষ্টি নিরিহ হিন্দু, মুসলিম, খ্রীস্টান ও অন্যান্য জাতির মানুষকে খুন করার জন্য উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। সত্যিকার অর্থে এগুলো সাম্রাজ্যবাদের এক সর্বনাশা মরন খেলা। “ ভাগ কর আর জয় কর” নীতি গ্রহন করে এরা কল্পিত শত্রু সৃজন করে স্থানীয় লোকদের মাঝে খুনা খুনি লাগিয়ে দিয়েছে। তাদের আসল মতলব হলো দরিদ্র দেশ গুলোকে আরো দূর্বল করে দেয়া । তাদের আরো মতলব হলো গরীব মানুষ যেন তাদের সত্যিকার শত্রু চিনতে না পারে। তবে এই ধরনের কৌশল কিন্তু নতুন নয়। সাম্রাজ্যবাদ তাদের শোষন প্রক্রিয়াকে চালু রাখতে পুরাতন কায়দাই ব্যবহার করে যাচ্ছে। দক্ষিন এশিয়া যখন ধর্মের নামে উগ্রতাকে উস্কে দিয়ে ফায়দা হাসিলের কাজ করছে ঠিক সেই সময়েই এরা মধ্য প্রাচ্যে শিয়া, সুন্নি মতভেদ সৃস্টি করে তাদের ভূমি ও সম্পদ লুটে নিচ্ছে। এই দুষ্ট চক্রটি আফ্রিকায়, এশিয়ায় ও আমেরিকায় একেই কৌশল কাজে লাগিয়ে মতলব হাসিল করে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে দুনিয়া জুড়ে সংশোধনবাদী বাম ধারা, “ অতি বাম ধারার” উত্থানের পাশাপাশি এক ধরনের “নব্য নাস্তিকতাবাদি” আন্দোলনেরও বিকাশ ঘটেছে। এই ভাবধারার লোকেরা সরাসরি ধর্মের বিরুদ্বে কথা বলছেন, এমন কি অনেক প্রগতিশীল ব্যাক্তি ও প্রতিস্টানকে আক্রমন করছেন। এই ভাবধারার লোকেরা মনে করছেন ধর্মই সকল সহিংসতা, উগ্রতা, ও সাম্প্রদায়িকতার মূলকারণ। তাদের মতে ধর্মীয় ভাবধারা ও চেতানার অপসারণ করতে পারলেই দুনিয়া থেকে সকল অপউন্নয়ন, পুঁজিবাদ, দারিদ্রতা, সাম্রাজ্যবাদের প্রভাব প্রতিপত্তি সহ সকল দুঃখ লাগব হয়ে যাবে। অর্থাৎ “ কুসংস্কার ও অজ্ঞতা” দূরকরতে পারলেই নতুন দুনিয়ায় আমরা পৌছে যেতে পারব। তাদের কথা যদি সত্যি হয় তবে “সভ্য শিক্তি” তথা ধর্ম নিরপেক্ষ সাম্রাজ্যবাদী দেশ সমূহ কেমন করে বিশ্ব বুর্জোয়াদের পক্ষে বিশ্ব প্রলেতারিয়েতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নানা ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হতে পারে? আদতে উক্ত দুটি ধারাই বিপ্লবী লড়াই সংগ্রামের জন্য বিপদজনক ও বাঁধা। প্রকৃত পক্ষে এই দুইটি ধারাই কোন ভবিষ্যৎ নেই, তা বিলিন হতে বাধ্য। আমাদেরকে বুঝতে হবে “ধর্মীয় বিশুদ্বতার” নামে যা হচ্ছে তা সন্ত্রাস ও সাম্রজ্যবাদের লেজুর বৃত্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। এরা তৃতীয় বিশ্বের গরীব মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই সংগ্রামকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। এরা আসলে তাদের প্রভুদের লক্ষ্য অর্জনেই সহায়তা করছে। তবে, আমরা কোন ভাবেই সাধারন মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর আঘাত করায় বিশ্বাসী নই। লিডিং লাইটের লক্ষ্য হলো সাধারন মানুষকে ঐক্যবদ্ব করা, তৃতীয় বিশ্বে লোকদের অধিকার প্রতিস্টায় সচেতন করে সাম্রাজ্যবাদ বিরুধী মহা জোট গঠনে কাজ করা । আমরা জনগনকে শিক্ষিত করতে চাই তারা যেন সাম্রাজ্যবাদের সকল ছলচাতুরী বুঝতে পারেন। আমরা সকল ধর্মের লোকদেরকে বলতে চাই – আপনি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ব, খ্রিষ্টান ও শিখ যেই হোন না কেন আপনাদের সাধারন শত্রু হলো সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের বিরুদ্বে সংগ্রাম করা ছাড়া মুক্তি নেই। আমরা চাই পুরুহিত, ইমাম, পাদ্রী ও ধর্মীয় নেতারা আলোকিত সাম্যবাদের পক্ষে এসে মানব মুক্তির দিশা দিন। আমরা চাই ধর্মের ইতিবাচক ও ভালো দিক গুলো সাধারন মানুষ অনুস্মরণ করুক। আমরা ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি কোন প্রকার অবজ্ঞা দেখাতে চাই না বরং তাকে গভীর ভাবে অনুধাবন করে মানব কল্যানে ব্যবহার করতে চাই। আমরা তাদেরকেই ঐক্যবদ্ব করতে চাই – যারা ঐক্যবদ্ব হতে চান, তবে যারা সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে ধর্মের মন গড়া ব্যাখ্যা হাজির করেন এবং মানুষের রক্ত নিয়ে হুলি খেলেন তাদের সাথে আময়াদের কোন সম্পর্ক নেই। আসলে এরা সাম্রাজ্যবাদের সেবাদাস। এটা সত্যি যে রাতা রাতি দুনিয়ার বদল করে ফেলা সম্ভব নয়। আমরা প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নেব। বিজ্ঞানের সর্বোত্তম পন্থাকে কাজে লাগাব। তাত্ত্বিক ভাবে আলোকিত সাম্যবাদ হলো একটি এটম বোমা। আমরা সেই বোমা কাজে লাগিয়ে নির্মম ভাবে প্রচলিত “নয়া বুর্জোয়া ব্যবস্থাকে” বিলিন করে দেব। দুনিয়া সংখ্যাগরিস্ট মানুষের দুঃখ লাগব করব। দুনিয়াকে নতুন ভাবে আলোকিত সাম্যবাদের আদর্শে গড়ে তুলব। অনুবাদ- এডভোকেট শিহাব

Advertisements