পুস্তক পর্যালোচনাঃ টার্নিং মানি ইনটু রিবিলিয়ন লিখক- গ্যাব্রিয়েল কুন


পুস্তক পর্যালোচনাঃ টার্নিং মানি ইনটু রিবিলিয়ন লিখক- গ্যাব্রিয়েল কুনdetail_634_turning_money_into_rebellion
টার্নিং মানি ইনটু রিবিলিয়ন বা বিদ্রোহীদের নিকট অর্থ সঞ্চালনঃ এই পুস্তকের বিষয় বস্তু হলো মার্কসবাদি- বিপ্লবীদের দ্বারা ডেনমার্কের ব্যাংক লুট (কার্স্পলেবেদভ,২০১৪) করে তৃতীয় বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদি আন্দোলনকে জোড়দার করতে অর্থ সঞ্চালন করা প্রসংগ। এরা প্রথম বিশ্বে নিজেদেরকে তথাকথিত “বাম” বলে জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রয়াস চালায়। এই বইয়ে বিপ্লবীদের উত্থান জন্ম কথা তুলে ধরে গনমাধ্যমে “ব্লেকিংগেজেড গ্রুপ” হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। প্রথম বিশ্বের এই তথাকথিত রবিনহুড চক্র নিজেদেরকে বে আইনী কর্মকান্ডে জড়িয়ে ফেলে, তৃতীয় বিশ্বে মিলিয়ন ডলার দান করার জন্য এরা ব্যাংক লুট করার কাজে জড়িয়ে পড়ে। ১৯৮৯ সালে গ্রেফতার হবার আগে পর্যন্ত কেহ তাদের অস্থিত্ব সম্পর্কে জানতেন না । তাদের গ্রেফতারের পর বুর্জোয়া প্রচার মাধ্যম তাদের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য নানা মুখরোচক গাল গল্পের জন্ম দিয়ে প্রচার চালায়। ইউরূপসহ দুনিয়ার মানুষের সামনে আন্তর্জাতিক সন্তাসবাদের নানা কাহিনী প্রচার করা হয়। তাদের এই পুস্তিকার মাধ্যমে সাধারন মানুষের সামনে কিছু ভূল ধারনা ও প্রচার করে। কিছু সাক্ষাৎকার প্রচারের মাধমে জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রয়াস ও তাদের ছিলো। কিছু প্রবন্দ্ব, সাক্ষাৎকার এবং সমালোচনামূলক আলোচনার মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারনা চালানো হয়। সেই উদ্যোগে মিথ তৈরীর ও চেস্টা করা হয়। বইটি এক কথায় পাঠকদের নিকট একটি জনপ্রিয় পুস্তিকা হিসাবে প্রতিয়মান হয়ে উঠে। আমাদের উপর ও দায়িত্ব বর্তায় যে তথাকথিত “বামের” নামে প্রথম বিশ্বে যা হচ্ছে তা অসার । তাদের কথা বার্তা আমাদের মত হলেও তা কিন্তু একরকম নয় । তাতে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান। ব্লেকিংয়েজড গ্রুপ ও লিডিং লাইট প্রতিস্টার পটভূমি একেবারেই একরকম নয়। যদি ও এরা তৃতীয় বিশ্বকে তাদের কথায় যুক্ত করে থাকে, কিন্তু তাদের সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। লিডিং লাইট একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হলেও ইহা প্রথম বিশ্ব ও তৃতীয় বিশ্বে সম ভাবে কাজ করছে।
সময় অনুসারে সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
“ব্লেকিংয়েজড গ্রুপের” লোকজন ধরা পড়ার পর গনমাধ্যম জানতে পারলো ইহা প্রায় একদশকের পুরাতন সংস্থা। যার নাম হলো কমিউনিস্টিক আরবেজকারদিস(কে এ কে)। এই সংগঠনটি ডেনমার্কে কমিউনিস্ট পার্টি, ইহা রাশিয়ার প্রতি অনুগত ছিলো, ১৯৬৩ সালে সরকার এটাকে নিষিদ্ব করে দিয়েছিলো। যার নেতা হলেন গটফিড আপেল নামের একজন মেধাবী জনপ্রিয় নেতা। তিনি চীনের প্রতি ও শ্রদ্বাশীল ছিলেন। কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ব হবার পর গটফিড আপেল এবং তার অনুসারীরা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আদলে কে এ কে গঠন করেন। তারা কোপেনহেগেনস্থ চীনের এম্বেসীর সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছিলেন। কে এ কে ভিয়েতনাম ইস্যু সহ নানা প্রকার সাম্রাজ্যবাদ বিরুধী কার্যক্রম গ্রহন ও বাস্তবায়ন করছিলেন। তারা একটি প্রকাশনা সংস্থা ও সংবাদ পত্র প্রকাশ করেন। কে এ কে মাওসেতুংয়ের “লাল বই সমূহ” চটি আকারে প্রকাশ করেন। একটি গুরুত্ব পূর্ন বিষয়ে তারা গটফিড আপেলের সাথে সমভাবে এগিয়ে আসেন। তা ছিলো “পরগাছা রাষ্ট্র তত্ত্ব”, তার বক্তব্য ছিলো পশ্চিমা শ্রমিক শ্রেনী বিপ্লবের ধারক হতে পারেন না । যার ফলে এরা সংহতি মূলক কাজের প্রতি ঝুকে পড়ে। তারা তৃতীয় বিশ্বের স্বাধিকার, স্বাধিনতা ও বিপ্লবের প্রতি সমর্থন দিতে থাকেন। তা হোক আইনী বা বেআইনি। কে এ কে ১৯৬৮ সালে চীনের পার্টির সাথে সম্পর্ক চিহ্ন করে দেয় । কারন চীন তখন প্রথম বিশ্ব সম্পর্কে ভূল ধারনা পোষন করছিলো। প্রায় এক দশক পর কে এ কে তে আবার ভাঙ্গন দেখা দেয় । যখন দলের ভেতর লিঙ্গ বিষয়ক ইস্যূ বিতর্কের সৃজন করে। গটফিড আপেল এক সাক্ষাৎকারে সকলকে নেতৃত্ব বিষয়ে বিতর্ক না তোলার আহবান জানালে ও একটি দল তা না মেনে দলকে ভাংগনের মূখে ঠেলে দিয়েছিলো। তারা দল ভেংগে দিয়ে নিজেদের মত করে আলাদা ঘোষনা পত্র প্রকাশ করেন। দলের ভাংগনের পর কে এ কে ক্রমাগত ভাবে প্রথম বিশ্বে বিপ্লবী উপাদান অনুপস্থিত তা প্রচার করে গেছে। তারা নিজেদেরকে তৈরী করার কাজে মনোযোগ দেয় যাতে ডেনমার্কে যদি প্রলেতারিয়ান আদোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয় তবে তাতে তারা অংশ গ্রহন করবে। তারা তৃতীয় বিশ্ববাদি ভাবধারায় রাজনীতি করলে ও কে এ কে গতানুগতিক প্রথম বিশ্ববাদি আন্দোলনে জরিয়ে পড়ে।এরা গোপন সংগঠনের লাইন ত্যাগ করে ফেলে। এরা বেইজিং এর সাথে ঘনিস্ট হয়ে পড়ে। এরা চীনের আন্তর্জাতিক নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদি চক্রের অংশ হয়ে কাজ করতে থাকে। এক সময় কে এ কে গতানুগতিকতায় পরিনত হয়। কিন্তু এম-কে এ অপেক্ষা কৃত বিজ্ঞান সম্মত, সৃজনশীল ও উদার মানসিকথা সম্পন্ন হয়ে অর্থ সংগ্রহের কাজ করতে থাকে। তাদের লক্ষ্য ছিলো তৃতীয় বিশ্বের মানুষের স্বাধীকার আন্দোলনে অর্থ সাহায্য করা। তাদের অর্থ সংগ্রহের কাজ আইনি প্রক্রিয়ায় হলে ও আসলে তারা ব্যাংক ডাকাতির মত কাজে বেশী আগ্রহী হয়ে উঠে। তারা নিজেদের কার্যক্রমকে পাঠকদের চোখের আড়ালে নিয়ে যায়। তাদের অর্থ সংগ্রহের প্রধান লক্ষ্য ছিলো ফিলিস্তিনিদেরকে সাহায্য করা । এরা ১৯৯৮ সালে গ্রেফতার হয়। তখন এম-কে এ নিজেদেরকে প্রকাশ করে “ব্লেংকিংয়েজড গ্রুপ” হিসাবে।
পরগাছা রাস্ট্রতত্ত্ববাদ ও সাম্রাজ্যবাদ
লেনিনের শিক্ষা হলো, তত্ত্ব ছাড়া কার্যক্রম অন্দ্বের মত। তাদের পরিচালিত কার্যক্রম তৃতীয় বিশ্ববাদের সাথে গভীর ভাবে জড়িত, এই রাজনৈতিক লাইন বর্তমান সময়ে একটি উন্নত স্থর। এই ধারনাটি ১৯৬০ সালে গটফিড আপেল বিকাশ ঘটিয়েছিলেন। তার “পরগাছা রাষ্ট্র তত্ত্ব” তত্ত্বানুসারে, প্রথম বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষ তৃতীয় বিশ্বের শ্রমজীবীদের সহায়ক হিসাবে সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য লড়াই করবেন না । এই ধারনাটি দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্বের পর থেকে, উপনিবেশবাদের বিলুপ্তির কালে ব্যাপক ভাবে আলোচিত হয়। ১৯৩৩ সালে ভারতীয় প্রথম প্রধান মন্ত্রী জওহার লাল নেহেরু মন্তব্য করেছিলেনঃ
“ পুজিবাদ নিজের জীবনকে দির্ঘায়িত করতে পারছে যে সকল কারনে তা হয়ত কার্ল মার্ক্স ভালো ভাবে বিবেচনায় নিতে পারেন নাই। আর তা হলো পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ যা শিল্পায়নের মধ্যমে শোষণ চালিয়ে যাচ্ছে । দরিদ্র দেশ সমূহের সম্পদ শোষণের মাধ্যমে পুজিবাদ প্রতিনিয়ত নিজের শক্তি অর্জন করে চলেছে”।(৩০)
তাঞ্জানিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট কে, নাইয়ার বলেছিলেনঃ
“ সমগ্র বিশ্বে দুইটি পরিস্থিতি বিরাজ করছে তার একটি হলো ধনী জাতি সমূহের শ্রমিক শ্রেনী ও দরিদ্র জাতি সমূহের দরিদ্র শ্রেনী। পুজিপতিরা তাদের স্ব স্ব দেশের শ্রমিকদেরকে তাদের শোষণ প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত করে ফেলেছে। ফলে শোষনের মাত্রা ও তাদের প্রাপ্তিতে ব্যবধান সৃস্টি হয়েছে। যার কারনে উন্নত অর্থনীতির দেশের শ্রমিকেরা গরীব অর্থনীতির দেশের শ্রমিকদের সাথে একাত্ম হবে না”।(৩১)
এই ধরনের বক্তব্য আরো আছে। বিতর্কিত হলে ও গুরুত্বহীন নয় যে চে গুয়েভারা এবং লিন পিয়াং ১৯৬০ সালের দিকে আহবান করেছিলেন যে বিশ্ব গ্রাম দিয়ে বিশ্ব নগরকে ঘেরাও করতে হবে। এমন কি এঙ্গেলস নিজে ও এই বিষয়ে সকলের দৃস্টি আকর্ষন করেছে। তিনি বলেছেন ইংল্যান্ডের সকল মানুষ শ্রমিক শ্রেনী সহ বুর্জোয়ায় পরিনত হয়েছে। উপনিবেশ ঠিকিয়ে রাখার ও শোষন করার ক্ষেত্রে এদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এই ধরনের ধারনা প্রায় সকল স্তরেই আলোচিত হচ্ছিলো। তাই চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কালে ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে তা ব্যবহার করা হয়।
কে এ কে এর মতে প্রথম বিশ্বের শ্রমিক শ্রেনী ও শোষিত হয় কিন্তু তাদেরকে নানা ভাবে হাতে রাখার জন্য ঘুষ দেয়া হয়। সেই ঘুষের কারনে সাম্রাজ্যবাদের সাথে তাল মিলিয়ে তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে শোষন করতে ওরা ও সহায়তা করে থাকে। ১৯৭৫ সালে কে এ কে বক্তব্য দেয় এই বলেঃ
“ উন্নত বিশ্বের শ্রমিক শ্রেনী দ্বিমূখী ভূমিকা পালন করে থাকে, পশ্চিম ইউরূপ এবং উত্তর আমেরিকার শ্রমিক শ্রেনীর লোকেরা একেই সময়ে শোষিত হয় ( এটা হলো তাদের উৎপাদনের ক্ষেত্রে উদ্বৃত্ত মূল্য) অন্য দিকে এরা ঘুষ পায় ( তাদের সরকার তাদেরকে উন্নত জীবন মান দান করেছে – তাদের আর্থিক – সাংস্কৃতিক- চাহিদা মিটিয়ে দিচ্ছে। আর তা করছে তাদের সাবেক উপনিবেশিক দেশ সমূহকে শোষণ ও লুন্ঠন করে) অধিকন্ত, তাদের প্রাপ্ত ঘুষই তাদেরকে প্রভাবিত করে রেখেছে।
এই ঘুষের বিষয় টি বিবেচনার জন্য এই ভাবে হিসাব করলে হবে না যে একজন শ্রমিক কি পরিমান শ্রম মূল্য পাচ্ছেন বা কি পরিমান সুবিধা হিসাবে পাচ্ছে। এই বিষয় টি আমাদেরকে দেখতে হবে সাম্রাজ্যবাদি ধনী দেশ সমূহ কিভাবে দুনিয়ার সামগ্রীক অর্থনীতি, প্রকৌশল, সংস্কৃতি, এবং সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম কে সাজিয়েছে এবং তৃতীয় বিশ্বে কি ভাবে ডাকাতি ও লুন্ঠন চালিয়ে যাচ্ছে”।(১৯১)
কে এ কে এর দৃস্টি ভঙ্গী ও আমাদের মতামতের মধ্যে কিছু টা পার্থক্য বিদ্যমান আছে। তাদের মতে প্রথম বিশ্বের শ্রমিক শ্রেনী শোষিত হচ্ছেন, আবার ঘুষ ও পাচ্ছে এবং এরা বিপ্লবী শক্তি নয়। আমাদের বক্তব্য হলো, প্রথম বিশ্বের লোকেরা মোটেই শোষিত হচ্ছেন না। তারা তা মনে ও করেন না । এখানে দেশ প্রেম ও সুযোগ সুবিধার কথা জোড় দিয়ে বলা হয় । তাদের কথায় বলা হয় সামগ্রীক ভাবে প্রথম বিশ্বে শোষণ হচ্ছে। ওরা আসলে মার্ক্স, লেনিন ও মাওয়ের বিশেষ করে লেনিনের সাম্রাজ্যবাদ বিষয়ক তত্ত্বেই আটকে আছে। লেনিন বলেছিলেন পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তর হলো সাম্রাজ্যবাদ। তাদের ধারনায় কিছু টা মতান্দ্বতা বিদ্যমান আছে। তবে তাদের ভাংগনের পর এম-কে এ সেই মতান্দ্বতা থেকে বেড়িয়ে এসে বক্তব্য দেয় এই বলেঃ
জেনঃ কে এ কে সকল সময়ই মার্কসবাদ – লেনিনবাদ ভিত্তিক বক্তব্য প্রকাশ করে থাকে। সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কে ও লেনিনীয় তত্ত্ব হাজির করেছে। ১৯৭০ সালে যখন আমরা গবেষনা করে দেখিয়েছি যে এই তত্ত্ব বাস্তব সম্মত নয়, তখনো তারা তা থেকে সরে আসেননি। লেনিনের তত্ত্ব ছিলো মনুপলিজেশন, ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল এবং বিদেশী বিনিয়োগ ইত্যাদি। এই সকল বিষয় নিয়ে সম্পদের পার্থক্য ব্যাখ্যা করা সমিচীন নয়। এই সকল বিষয়ে ও তাদের উভয় গ্রুপের মধ্যে কোন পরিবর্তন আমরা লক্ষ্য করিনাই।
টুর্কিলঃ এটা ভাববার বিষয় যে সুইস লাইব্রেরী গুলো এই সকল বিষয় নিয়ে বেশ কিছু লেখা লেখি হয়েছে। কিন্তু এর পর ও তাদের মধ্যে অতি মার্ক্সীয় বিশ্লেষনে বিগত অর্ধ শাতাব্দি সাম্রাজ্যবাদকে ব্যাখ্যা করেছে। এই সকল কারনেই এটা পরিস্কার যে লেনিনবাদ বাম ও সোভিয়েত প্রচারনা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেনি”। (১০২)
এক সময় এম-কে এ সদস্যরা ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছেন আগের তুলনায় উৎপাদন কিভাবে বহুমূখী করা হয়ে থাকেঃ
টুর্কিলঃ আমরা যদি উদাহরন হিসাবে কোপেনহেগেনের মাত্র এক মিলিয়ন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বিষয় টি ধরি তবে দেখব যে তা তাঞ্জানিয়ার প্রায় চেচল্লিশ মিলিয়ন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার সমান। উদারতাবাদ নীতি আপনাকে বলবে যেখানে পন্যের দাম বেশী সেখানে পন্য নিয়ে যান, আর যেখানে উৎপাদন খরচ কম সেখানে উৎপাদন করুন। এই ভাবে আপনি দুই দিকেই লাভ করতে পারবেন। আপনি নাইকের জুতার ডিজাইন করে তা পিডিএফ করে ভিয়েতনামে পাঠিয়ে দিতে পারেন, সেখানে স্বল্প খরচে তা উৎপাদন করে আধুনিক পন্থায় পরিবহন করে আমেরিকার বাজারে উঁচু মূল্যে বিক্রি করে দিতে পারেন। মুনাফা অর্জন করে নেয়া কিন্তু সহজ কাজ নয়। তবে যদি আপনার উপযোগী উপকরন থাকে । যেমন- আধুনিক প্রযুক্তি, নিরাপদ পরিবহন করার ব্যবস্থা তবে মুনাফা অর্জন করা আপনার জন্য কঠিন নয়। আধুনিক বাজার ব্যবস্থায় আসল বিষয় হলো চমৎকার নক্সা ও মার্কেটিং ব্যবস্থা । ১৯৭০ সালের তুলনায় এখন প্রযুক্তি অনেক বদলে গেছে, অনেক ক্ষেত্রে তা শোষন প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী, স্থায়ী এবং গতিশীল করে দিয়েছে। আমরা একেই সময়ে ‘পরগাছা রাস্ট্রের কথা’ বলছি। এখন দুনিয়া দুই ধরনের রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে, এর একটি হলো ‘উতপাদক রাষ্ট্র’ আর অন্য টি হলো ‘ভোগী রাস্ট্র’”।(১৬৭-১৬৮)
আমাদের বিশ্লেষণে চলমান অবস্থার প্রতিফল ঘটেছে। যদি ও বিজ্ঞান সম্মত আদর্শ এবং তথা কথিত “বাম” আমাদের কাজের গতিশীলতাকে বাধাগ্রস্থ করেছে। এটা সত্য যে প্রথম বিশ্ব এবং তৃতীয় বিশ্বের প্রতিটি আন্দোলন ই নিজেদেরকে বিপ্লবী হিসাবে প্রচার করে থাকে। কিন্তু তারা কি ধারন করছেন ? তারা কি বিপ্লবী বিজ্ঞান অনুসরন করছেন, না কি আগের সেই পরাতন বিপ্লবী বানী পুনঃ পুনঃ প্রচার করেই চলেছেন। সেই সংগ্রামী দল ও ব্যাক্তিগন বুঝতেই চান না যে দুনিয়া ১৯৪৯ সাল এবং ১৯১৭ সালের মত আর নেই। তাতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেগেছে। তথাকথিত “বাম” দল গুলো বিপ্লবী বিজ্ঞান ত্যাগ করে সংশোধনবাদ গ্রহন করেছে, যা আজকের দনিয়ায় একেবারেই অচল। এম-কে এ একটি প্রাগ্রসর অর্থনীতি ও রাজনীতি গ্রহন করেছে যা বিশ্ব ব্যবস্থার বিশ্লেষণে সহায়ক। তারা হাল নাগাদ ধারনা থেকে সাম্রাজ্যবাদকে ও ব্যাখ্যা করার চেস্টা করেছে। সেই সময়ে এরা প্রথম বিশ্বের অন্যান্য দলের তুলনায় অগ্রসর রাজনীতির ও চর্চা করে। এরা আমাদের মতই উদারতাবাদ এবং গতানুগতিক শুভেচ্ছা-শুভেচ্ছা বিনিময় আন্দোলন ত্যাগ করেছে। এক সাক্ষাতকারে তারা বলেনঃ
টুর্কিলঃ যদি ও বিশ্ব থেকে ১৯৮০ সালের পরে সাম্রাজ্যবাদ বিরুধী স্বাধীকার আন্দোলন স্থিমিত হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো একটি বড় দ্বন্দ্ব বিদ্যমান আছে । তা হলো ধনী পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বনাম দরিদ্র দেশ সমূহ যেমন এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাতিন আমেরিকার দ্বন্দ্ব। এটাই হবে আগামীদিনের সাম্রাজ্যবাদ বিরুধী আন্দোলন”।(১৮১)
লিডিং লাইট মনে করে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্বের সমাপ্তি পর্যন্ত লেনিনের চিন্তাধারা সঠিক ছিলো, বিশেষ করে সম্রাজ্যবাদ সম্পর্কে তার ভাবনা চিন্তা সমসাময়িক অন্যান্যদের চাইতে অগ্রসর ছিলো। কাউটস্কির অতি সাম্রাজ্যবাদের তত্ত্ব থেকে তো অবশ্যই উন্নত ছিলো। বিশ্ব যুদ্বের পর দুনিয়ায় নতুন মেরু করন হয়েছে। যার ভিত্তি হলো স্ব স্ব উপনিবেশ কায়েম করা । তবে সামগ্রীক ভাবে পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে কিছু নড় বরে করে দিয়ে যায়। প্রথম বিশ্ব যুদ্ব পুজিবাদকে দুর্বল করে দিলে রাশিয়ায় সর্বহারাদের উত্থান ঘটে। সেখানে বিপ্লবের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদের পতন হয়। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্বের পর চীনে মাওবাদের বিজয় হয়। এই ভাবে সাম্রাজ্যবাদ দুরবল হয়ে পড়লে ক্রমে তারা স্ব স্ব উপনিবেশ থেকে বিদায় নেয়। তাদের অবস্থা এমন হয় যে এরা তাদের উপনিবেশ গলোকে ধরে রাখতে পারেনি। তারা নিজেদেরকে ঠিকিয়ে রাখার জন্য বিকল্প পন্থার উদ্ভাবনে মরিয়া হয়ে উঠে। তারা বিশ্বায়নের নতুন বার্তা নিয়ে হাজির হয়। এরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা সংস্থা গড়ে তলে । যা চলমান দ্বন্দ্বকে দমিয়ে রাখতে পারে বা তাৎক্ষনিক ভাবে সমাধান করে দিতে পারে। সাম্রাজ্যবাদি সংস্কৃতি পরস্পরের মধ্যে বিনিময়ের ব্যবস্থা করতে থাকে। নানা কিসিমের এনজিও গড়ে তুলে। অর্থনীতিকে একটি একক ছত্র ছায়ায় নিয়ে আসার জন্য কাজ করে। তারা পুজিকে নানাভাবে স্থানান্তরের ব্যবস্থা গ্রহন করে । বানিজ্যিক প্রতিস্টান গুলোকে নানা নামে পরিচিত করতে থাকে। নানা দেশে নানা ভাবে তার ব্যবহারে উদ্যোগী হয়ে উঠে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ভাবে প্রথম বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বকে শোষণের জন্য নানা কৌশল তারা প্রয়োগ করতে থাকে । এই পরিস্থিতিটা বুঝতে হলে আমাদেরকে অতীতের সকল গোঁড়ামি ত্যাগ করে মক্ত মন নিয়ে চিন্তা করতে হবে।
নিপিড়নের বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত উন্নত থেকে উন্নততর হয়ে চলেছে। নিপীড়নকারী শোষক চক্র তাদের শোষন প্রক্রিয়াকে আরো জোরদার করার জন্য সবচেয়ে উন্নত ও মেধাবী লোকদেরকে নিয়োগ করছে, ভালো যুদ্বা ও যুদ্বাস্ত্র নির্মান করছে, তাদের পক্ষে ভালো আইনজীবী ও শিক্ষক ভাড়া করছে। নিপিড়ন কারীদেরকে পরাজিত করতে হলে আমাদেরকে বিপ্লবী বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটাতে হবে, বিপ্লব সাধনের জন্য উন্নত চিন্তার বিকাশ ঘটানোর কোন বিকল্প নেই। প্রাচীন চিন্তা ধারা এদের কিছুই করতে পারবে না । যদি ও এম –কে এ র রাজনৈতিক অর্থনীতি লিডিং লাইটের বিকাশে কিছুটা সহায়তা করেছে, তবে এটা বুঝতে হবে যে, বিপ্লবী সমস্যা বা বাঁধা গুলো সমাধান করা খুব সহজ কাজ নয় । এটা ভাবার কোন কারন নেই যে জাতীয় মুক্তি আন্দোলন ও মাওবাদ যুক্ত হলেই তৃতীয় বিশ্ববাদি রাজনৈতিক অর্থনীতি সকল সমস্যার সমাধান করে ফেলবে। প্রচলিত বিপ্লবী আন্দোলন সমূহের মধ্যে যে স্থবিরতা চলছে তার পেছনে রয়েছে গভীর জ্ঞানগত সমস্যা, বিজ্ঞান ভিত্তিক নেতৃত্ব, এবং প্রচন্ড গোঁড়ামির নেতিবাচক প্রভাব। রাজনৈতিক অর্থনীতির চেয়ে ও প্রচলিত সমস্যার সমাধান আগে হওয়া দরকার। প্রশ্ন দাড়ায় “আমাদের কি করিতে হইবে”? এই জিজ্ঞাসা কেবল প্রথম বিশ্বের কমরেডদের নয় , তা সমভাবে তৃতীয় বিশ্বের কমরেডদেরও একই জিজ্ঞাসা । কেবল অর্থ বা তহবীল সংগ্রহ করলেই আন্দোলন সফল হবে না । তবে সকল আন্দোলনকারীদের প্রতি আমাদের শ্রদ্বা ও শুভকামনা আছে। কিন্তু বিপ্লবের সফলতার জন্য দরকার হলো মেধাবী বিপ্লবী, আন্দোলন হবে সমাজের সকল ক্ষেত্রে ও বিভাগে, কার্যক্রম হবে বিজ্ঞান ভিত্তিকঃ আলোকিত সাম্যবাদ হবে মূলমন্ত্র। অর্থাৎ আমরা সকলেই এক ও একক। আমাদের একটাই বিশ্ব। বিশ্বব্যাপী গনসংগ্রাম। একটি মাত্র সংগঠন। একক কেন্দ্রীক নেতৃত্ব। আদর্শ হলো আলোকিত সাম্যবাদ। অনুবাদঃ এডভোকেট শিহাব ।
Kuhn, Gabriel. Turning Money Into Rebellion (Kersplebedeb, 2014)

Advertisements