পুস্তক পর্যালোচনাঃ টার্নিং মানি ইনটু রিবিলিয়ন (দ্বিতীয় পর্ব), লিখক- গ্যাব্রিয়েল কুন

টার্নিং মানি ইনটু রিবিলিয়ন বা বিদ্রোহীদের নিকট অর্থ সঞ্চালনঃ এই পুস্তকের বিষয় বস্তু হলো মার্কসবাদি- বিপ্লবীদের দ্বারা ডেনমার্কের ব্যাংক লুট (কার্স্পলেবেদভ,২০১৪) করে তৃতীয় বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদি 9_turning_money_in_the_strangest_places_crop

আন্দোলনকে জোড়দার করতে অর্থ সঞ্চালন করা প্রসংগ। এরা প্রথম বিশ্বে নিজেদেরকে তথাকথিত “বাম” বলে জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রয়াস চালায়। এই বইয়ে বিপ্লবীদের উত্থান জন্ম কথা তুলে ধরে গনমাধ্যমে “ব্লেকিংয়েজড গ্রুপ” হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। এটা মলত মাওবাদি একটি সংগঠন (কে এ কে), যা ১৯৬৩ সালে জন্ম লাভ করেছিলো। পরবর্তীতে এটায় ভাঙ্গন দেখা দেয়। এই পুস্তকে পরবর্তী দলের উপর বেশী আলোকপাত করা হয়। এই পস্তকে সকল গঠনা প্রবাহ, চিন্তাধারা ও প্রথম বিশ্বে যে এখন বিপ্লব করার উপাদান নেই তা চমৎকার ভাবে বর্ননা করা হয়েছে। তাই তারা মনে করেন, তৃতীয় বিশ্বের স্বাধীকার লড়াই সংগ্রামে বস্তুগত সহায়তা প্রদান করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। তারা শ্লোগান দেয়, “ সংহতি ও একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়- আপনি এতে অংশ নিন”।
প্রয়োগঃ
তারা যে রাজনৈতিক অর্থনীতি গ্রহন করে তা সমসাময়িক সকলের চেয়ে উন্নততর। ১৯৭৮সালের পর কে এ কে এবং এম – কে এ বিভক্ত হবার পর তাদের চিন্তাধারায় ভিন্নতা আসে। তবে রাজনৈতিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে এরা একেই রকমের চিন্তা ধারা পোষন করে। কে এ কে এর দলিল পত্রে তাদের চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটে। ১৯৭৫ সালের দলিলে দেখা যায় তাদের ভাষ্যঃ
“ বর্তমানে প্রচলিত প্রথম বিশ্বে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে কে এ কে কোন বিপ্লবী চেতনাই গ্রহন করতে পারছে না। তাদের অর্থনৈতিক নীতি ও ট্রেড ইউনিয়নের নীতির কোনটাই গ্রহন যোগ্য নয়। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী আন্দোলনের সাথে এই ধরনের লড়াই সংগ্রামের সামান্যতম সম্পর্কে নেই ।
এই সংগঠনের প্রধান কাজ হবে শ্রমজীবী শ্রেনীকে (এখন সেই শ্রম অভিজাত শ্রেনীর সংখ্যা অনেক) অভহিত করা যে বর্তমান অর্থনীতিতে পরগাছাবাদের ব্যাপক প্রসার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের সাধারন মানুষকে শোষন ও লুন্ঠন করছে। পরগাছা শ্রেনীকে কোন ভাবে সহায়তা করা উচিৎ নয়। একেই সময়ে আমাদেরকে বুঝতে হবে যে, বর্তমান অর্থনীতি এই ভাবেই বিকশিত হচ্ছে। এটাই বাস্তবতা । এই বাস্তবতাকে ভালোভাবে বুঝতে হবে শ্রম জীবী সহ সকলকেই। পরগাছা বাদের মাধ্যমে বুর্জোয়াকরন প্রক্রিয়া চলছে। যা কেবল বক্তব্য বা প্রবন্দ্ব প্রচার করে বিপ্লবী ধারায় রূপান্ত্রিত হবার সম্ভাবনা নেই। এই প্রক্রিয় দিনে দিনে বেড়েই চলেছে ‘তা কঠিন সঙ্কট তৈরী করে ও জোরদার করা হচ্ছে’, এঙ্গেলসের ভাষ্য অনুসারে বলতে হয় ইহা মূল্য সৃজনের জন্যই করা হচ্ছে”।
প্রথম বিশ্বের বিপ্লবীগন অবশ্যই অর্থনীতিবাদের ফাঁদে পা দিবেন না । কেননা সেই পরিস্থিতিটি তৈরী হয়েছে তৃতীয় বিশ্বের মানুষের শ্রমে ও ঘামে। সেই পরিস্থিতিটি প্রথম বিশ্বের শ্রমজীবীদেরকে পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদের সুবাদে আরো আরো সুবিধা এনে দিচ্ছে। প্রচলিত আন্দোলনের কাজ হলো কেবল মাত্র সামজিক গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন পর্যন্ত পৌঁছানো। এইধনের আন্দোলন কেবল প্রথম বিশ্বে শ্রমিকদের ঘুষ প্রাপ্তির মাত্রাটা বাড়িয়ে দেয়। আর সেই ঘুষের টাকা জোগার হয় তৃতীয় বিশ্বের মানুষের রক্ত ও ঘাম থেকে। প্রথম বিশ্বের শ্রমিকদের অর্থনীতি ভিত্তিক আন্দোলন আসলে সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের ই নামান্তর, আদতে এটা হলো সাম্রাজ্যবাদের লাল মুখোস। গতানুগতিক সংগ্রামী কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রথমে কে এ কে এবং পরে এম – কে এ নতুন ধারার সৃজন ঘটায় । এই ব্যাতিক্রমী কার্যক্রম আধুনিক দুনিয়ার বাস্তবতাকে সামনে রেখে প্রস্তুত করা হয়েছিলো । তাদের চিন্তায় ছিলো বিশ্ব শ্রেনী বিস্লেষনের বাস্তবতা। কে এ কে আইনী ও বে আইনী সকল ধরনের কাজই করতে থাকে । কে এ কে সংগঠিত করতে ও বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে আসে মুলত সংহতি ভিত্তিক কার্যক্রম। তবে তারা তা প্রতিকী অর্থে বেশী প্রদর্শন করতেন। তারা ইউরূপে প্রথম প্রতিবাদি অনুষ্টানের আয়োজন করে আমেরিকার ভিয়েতনামে আগ্রাসনের বিরুদ্বে। কে এ কে পাঠ চক্র, নানা সৃজনশীল প্রকাশনা, ও সাম্রাজ্যবাদ বিরুধী প্রতিবাদের ব্যবস্থা করে তারা । যদি ও তা তেমন আহা মরি কিছু নয়, “ তাদের সং হতি প্রকাশের ইচ্ছা টা ই অনুপ্রেরনার বিষয়। কিন্তু তা যদি সুনির্দিস্ট ভাবে প্রকাশ না করা হয় তবে তা তেমন অর্থবহ হবে না”।
কে এ কে তাদের সং হতির স্তরকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে । তারা বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহন করে যা অর্থ উপার্যনে সহায়ক হয় । যেমন কাপড় সংগ্রহ করা, যা তৃতীয় বিশ্বের মানুষের জন্য কাজে লাগবে। কে এ কে কিছু সামরিক প্রতিবাদে ও অংশ গ্রহন করে এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে, প্রথম বিশ্বে তাদের কাজের গোপনীয়তা রক্ষা করে নিজেদেরকে প্রশিক্ষিত করে তুলে। তহবিল গড়ে তুলার জন্য ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়ে এরা নিজেদেরকে বে আইনী কাজে জড়িয়ে ফেলে এবং ব্যাংক ডাকাতীর মত কাজে লেগে যায়। তাদের এই সকল আইনী ও বে আইনী কাজের লক্ষ্য ছিলো তৃতীয় বিশ্বের দেশে দেশে স্বাধিকার আন্দোলনে সহায়তা করা । এম্পিলা- এংগোলা, দি ফ্রিলিমো –মোজাম্বিক, প্লিউংগ – ওমান, জিনু – জিম্বাবুয়ে তবে তাদের বড় সহায়তা ছিলো পিএলও এর জন্য । নৈতিক সমর্থনের কথা তো অনেকেই বলতে পারেন। কথা কথা তো অনেকেই বলতে পারেন। কিন্তু কে এ কে কি করল? তারা কেবল বাতকা বাত নয় এরা কাধে কাধ লাগিয়ে কাজ করেছে। তারা তৃতীয় বিশ্বের মুক্তির লড়াইয়ে সামরিক সাহায্য করেছে । অনেক তৃতীয় বিশ্বের আন্দোলন কারিরা জানে ও না এই অর্থ কোথা থেকে কি ভাবে এলোঃ
“জেনঃ সত্যিকার অর্থে আমরা তিন ধরনের সহায়তা করে থাকি। কিছু সংগঠন আমাদের আইনী সয়াতা পায় । যেমন তাজ তিল আফ্রিকা; বে আইনী সহায়তা পায় এবং আবার কিছু আইনী ও বে আইনী সহায়তা পায়। কিন্তু আমরা তাদেরকে তা জানাইনা । হয়ত পিলফের কেহ কেহ কিছু জানে অনেকেই আবার তা জানেন না । জানু হলো এমন একটি সংস্থা যারা আমাদের অর্থ ও সম্পদ পেয়ে থাকে কিন্তু কিছুই জানেন না । অনেক স্বাধিকার সংগঠন আছে যাদের কাজ প্রতিনিয়ত গোয়েন্দারা পর্যবেক্ষন করে থাকে, তাই আমরা কোন ধরনের ঝুকি নিতে চাই না” ।
কে এ কে এবং এম-কে এ বিভক্তির পর ১৯৭৮ সালের পর কে এ কে কিছুটা পিছু হঠে যায়। ডেনমার্কের রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কে এ কে ভবিষ্যত বিপ্লবের লাইন ধরে। এই পুস্তক থেকে একটা জিনিষ পরিস্কার হয় যে, তারা পুনঃ পূর্বের রাজনৈরিক ধারায় প্রত্যাবর্ত্তন করে । এটা অনেকটাই উত্তর আমেরিকার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ও সাম্রাজ্যবাদ বিরুধী লড়াইয়ের মতই। মাওবাদিদের এই ধরনের পদক্ষেপ “ দ্রুততৈরী হও এবং অপেক্ষা কর” তত্ত্ব হিসাবে দেখা হয়। এই তত্ত্বের আসল লক্ষ্য হলো পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে প্রথম বিশ্বে কিছু করা যাবে না । তাই কাঙ্ক্ষিত অবস্থার জন্য কাজ করার নিরাপদ ব্যবস্থা করা । কে এ কে এর এই ধরনের বক্তব্য উত্তর আমেরিকার আরো অনেক প্রথম বিশ্ববাদিদের দল ও গ্রুপের সাথে মিলে যায়। কিন্তু এম –কে এ বরং একটি ভিন্ন ধারা নিয়ে গোপন সংগঠন গড়ে তুলার প্রায়স চালায়। এরা অনেক বে আইনি কর্মের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে তৃতীয় বিশ্বের লড়াই সংগ্রামে সহায়তা করার চেস্টা করে, বিশেষ করে এরা অপহরন, ব্যাংক ডাকাতি এমন কি প্রতারনার মত কাজে জরিয়ে পড়ে। তারা আবার আইনী ধারায় ক্যাপে ও খোলে অর্থ উপার্জনের জন্য কিন্তু তাতে বেশী অর্থ আয় হয়নি। তাদের অলাভজনক কর্মসূচি কাপড়ের প্রকল্পকে গোয়েন্দারা গভীর নজরদারী করতে থাকে। তারা পুরাতন কাপড় সংগ্রহ করে তা দুলাই করে আবার তা বাজারজাত করে অর্থ সংগ্রহ করেছে। একসময় কিছু লোক আর তাদের নিকট কাপড় দান না করে বিক্রি করতে চায়। তারা তখন আর তাতে লাভ না দেখে ১৯৮৬ সালে কাপড় সংগ্রহের কর্মসূচি বন্দ্ব করে দেয়। (১৩৮) “গুরুবাদ, মাফিয়া চক্র, ব্যবসা, সেবামূলক কাজসহ হেন কাজ নেই যা তারা করে নাই”। কিছু কিছু বিষয় এমন আছে যা এম-কে এ কোন দিনই প্রকাশ করে নাই। তারা কেবল আইনী দিক গুলোই প্রকাশ করেছে ।
বিজ্ঞান চাই, অভিযানবাদ নয়
কে এ কে বা এম কে এ এর সাথে প্রথম বিশ্বের গতানুগতিক গেরিলা আন্দোলনের সাথে কোন প্রকার সম্পর্ক না থাকা সত্বেও পশ্চিমা গনমাধ্যম তাদেরকে “সন্ত্রাসী চক্র” বলে প্রচার চালায়। একটি কারন থাকতে পারে তা হলো তারা নিজেদেরকে সকল কিছু থেকে দূরে রাখে অনেকটা রেড ব্রিজের মত। উপকরন জাতীয় দ্রব্যাদি তারা তৃতীয় বিশ্বের আন্দোলন সংগ্রামে সহায়তা দিয়ে থাকে। তারা প্রকাশ্য কোন রাজনৈতিক কাজে জড়িত থাকেন না । অন্যান্য গেড়িলা বাহিনী ও তাদেরকে তেমন চিনেন না । নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখে চলেন।
তাদের আদর্শই তাদেরকে আন্দোলন থেকে দূরে রাখে। প্রথম বিশ্বের আরবান গেরিলা দল গুলো মনে করেন এরা প্রথম বিশ্বের বিপ্লবী শক্তি। এই ধরনের গ্রুপের কাছে সামগ্রীক ভাবে ইউরূপের সমাজ ব্যবস্থার চিত্র পরিস্কার নয়ঃ
“ আমরা আর এ এফ এর সামাজিক বিশ্লেষনের সাথে একমত হতে পারিনা, কারন গনতান্ত্রিক মুখোশ পড়ে ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছিলো। অধিকন্তু, এরা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্বে তৃতীয় বিশ্বকে সাথে নিয়ে পশ্চিম ইউরূপে জোট গড়ে তুলতে চেয়েছিলো। আমরা মনে করি তা একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার”। (৪৪)
ক্ষুদ্র পরিসরে হলে ও আমেরিকায় ওদের মতই কিছু গ্রুপ বিদ্যমান আছে। যেমন- (ডব্লিউ ইউ ও) এরা কখন ও তৃতীয় বিশ্ববাদি নন। কোন কোন সময় এরা ও সেখানকার শ্রমজীবীদেরকে সন্দেহের চোখে দেখে। কিন্তু এরা এখন ও প্রথম বিশ্বে “প্রলেতারিয়েত খোঁজে” তরুন এবং কালো প্রবাসীদের মধ্যে।
এরা প্রথম বিশ্ববাদি শ্রমজীবীদেরকে নিয়ে নানা সময়ে সম্মেলন করার চেস্টা করেছেন। তাদের রাজনৈতিক জিকির “সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক !” জোরে উচ্চারণ ও করেছেন, তাদের সকল কর্মই প্রধানত প্রথম বিশ্ববাদ কেন্দ্রীক। তবে সেই কারনেই তা ব্যার্থ হয়েছে বার বার।
“ টুর্কিলঃ যদি ও অনেকেই আমাদের সমালোচনা করেন কিন্তু আমরা তাদের মধ্যে অনেককেই আমাদের কমরেড হিসাবে সম্মান করি। কিন্তু বিনয়ের সাথেই বলতে চাই তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষন বিপ্লবের দৃস্টিতে যথাযথ নয়, তাদের গৃহিত কার্যক্রম ও সঠিক নয়”। (১২৬)
একটা বিষয় সকলেরই ভেবে দেখা উচিৎ এম – কে এ তাদের লাইন আবেগ বশত গ্রহন করে নাই, তারা তাদের বে আইনী পথ এই জন্যই গ্রহন করে নাই যে এটা রোমান্টিক পথ। তারা বুঝে শোনেই বে আইনী পথ বেচে নিয়েছেনঃ
“জেনঃ হ্যা, বিষয়টি সকলের কাছেই পরিস্কার। আমরা মাত্র এক বছরেই বেশির ভাগ অর্থ সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম। আমরা প্রায় অর্ধ মিলিয়ন ক্রাউন- সংগ্রহ করেছিলাম মাত্র বার জন লোক মিলে। আমরা দেখতে চেয়েছিলাম বে আইনী ভাবে কত তহবীল সংগ্রহ করা যায়। পরে আমরা চিন্তিত ছিলাম সেই তহবীলের নিরাপত্তা নিয়ে”।(১৩২)
সেই বিবেচনায় বলতে হয়, তাদের কর্ম কান্ড প্রথম বিশ্বের চলমান গেরিলা আন্দোলনের মতই- যার বিজয়ী হবার কোনই আশা নেই। কে এ কে এবং এম কে এ অপরাধী মানসিকতার বাহিরে এসে এই পথ বেঁচে নিয়েছে। তাদের পথকে বিজ্ঞান ভিত্তিক হিসাবেই বিবেচনা করেছে । তারা কিন্তু অভিযানবাদকে অস্বীকার করেন না । বা নিন্দাবাদ ও করেন না ।
আইডেন্টিটির রাজনীতি নয়, চাই বিজ্ঞান
এম-কে এ কাকে কাকে সহায়তা দিবে তা তারা প্রথমে নির্বাচন করে নেয়। তারা তাদেরকেই সাহায্য করে যারা তাদের মতই রাজনৈতিক মতাদর্শ ধারন করে। তারা তাদেরকেই বাচাই করেন যারা কেবল জাতিয়তাবাদি নয় বরং সমাজতান্ত্রিক চিন্তার ধারক। তবে তারা তাদেরকে নিজেদের আওতায় নিয়ে আসেনি। তাদেরকে তাদের মতই কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। নিজেদের শৃংখলা নিজেদের মতই সাজিয়ে রেখেছেঃ
“ আমরা প্রথমেই ফিলিস্তিনিদেরকে সাহায্য করি নাই, যখন তারা নিজেদেরকে সমাজতান্ত্রিক আদর্শের ভেতর দিয়ে আরব দেশ সমূহে সাম্যবাদ কায়েমের জন্য সিদ্বান্ত নিল তখনই আমরা এদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলাম”। (৪৭)
এম-কে এ নজর রাখত যাদেরকে সাহায্য করা হচ্ছে তাদের সত্যিকার জন সমর্থন আছে কি না । বা কার্যকরী কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে কি না । ফিলিস্তিনের একটি বিষয় তাদেরকে ভাবিয়ে তুলে। তা হলো ওয়াহদি হাদ্দাদ ইস্যূ। তারা দেখলো যদি তাকে অপহরন করা হয় তবে সেই সংগঠন ফিলিস্তিনিদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। যখন তাদেরকে অংশ গ্রহনের কথা বলা হল তখন তারা সেই কাজে অংশ গ্রহন করলেন না । অধিকন্তু তারা তাদেরকে ফলদায়ক কর্মের প্রতি নির্দেশনামূলক পরামর্শ দিলোঃ
“টুর্কিলঃ আমাদের সহায়তার আলাদা কিছু দিক ও আছে। আমরা ওমানে যে সাহায্য করি তা কিন্তু একটু ভিন্ন ধরনের ছিলো। সেই সংগঠনের তেমন কোন জন ভিত্তি ছিলো না। তবে আমরা তাদেরকে কয়েক মিলিয়ন ডেনিস ক্রাউন দিয়ে দেই। তা সংগঠন গড়ে তুলার জন্য। এই সাহায্য দক্ষিন আফ্রিকার এ এন সি র মত নয়”। (১০৮)
তারা এমন কিছু সংস্থাকে সাহায্য করেছেন যারা সবে মাত্র লড়াই সংগ্রামে যাত্রা শুরু করেছেন। তারা সঠিক ভাবেই নির্বাচন করে তাদের সহায়তা দিয়েছে “কার বিরুদ্বে কে কি বলল” তা বিবেচ্য নয়। প্রতিস্টিত আন্দোলন গুলো তো নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থ সংগ্রহে অভিজ্ঞ। এছাড়া যারা অধিক অভিজ্ঞ এবং বড় সংগঠন তারা তো উপকরন সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে অগ্রগামী আছেনই। তাদের সক্ষমতা ও অধিকতর।
রোমান্টিকতা নয়, চাই বিজ্ঞান
কতিপয় লোক অর্থহীন ভাবে এই আন্দোলনকে দোষারূপ করে বলেন যে এরা নাকি তৃতীয় বিশ্বের স্বাধিকার আন্দোলনকে রোমান্টিকতা সম্পন্ন করে দিচ্ছে। এম- কে এ তাদের সাক্ষাৎকারে বলেনঃ
“জেনঃ যদি আপনার বয়স বিশ বছর হয় তবে আপনি বলতে পারেন যে, আমি তৃতীয় বিশ্বের একজন রোমান্টিক মুক্তি যোদ্বা। কিন্ত যদি আপনি তৃতীয় বিশ্বের মুক্তি যুদ্বের বাস্তবতা দেখেন তবে আপনার ধারনা পালটে যাবেই। অধিকন্তু, আমরা যদি তাদের মক্তি সংগ্রামের দিকে থাকাই তবে দেখব সেখানে লোকের অভাব নেই। ১৯৭০ সালে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাজি রেখে লড়াই করতে প্রস্তুত। তারা সমাজতন্ত্রের জন্য মরতে চায়। প্রচুর ইউরূপীয়ান মানুষ তাদের সাথে যোগদান করতে রাজি। তাই আমাদের কাছে মনে হয়েছে সেখানে অর্থ সাহায্য দরকার। সমাজতন্ত্র ও স্বাধিকারের জন্য তা একান্ত দরকার। তারা আমাদের নিকট দশ মিলিয়ন ক্রাউন চায়, তারা বাড়তি যোদ্বা নয় অর্থ চায়। তবে সামরিক দক্ষতা সম্পন্ন লোকের ও দরকার ছিলো ।(১২৭)
এছাড়াঃ
“টুর্কিলঃ কেহ যদি সত্যিকার স্বাধিকার আদোলনের সাথে মিশে যান তবে বুঝবেন যে এখানে রোমান্টিকতার জায়গা নেই । অবেগ বা মানসিক বৈকল্যের কোন রাজনীতি কখনই স্থায়ী হয় না । ইহা মানুষকে আপোষকামিতার দিকে দ্রুত ঠেলে দিতে বাধ্য। অমরা অবশ্যই কোন প্রহেলিকার মধ্যে নিপতিত নই, আমরা পরিশুদ্ব ধারায় কাজ করে চলেছি”।(১৩০)
প্রথম বিশ্বের তথাকথিত বামপন্থীরা কিভাবে গন লড়াই সংগ্রামকে বিবেচনা করেন, আর সত্যিকার গন সংগ্রামের রূপই বা কি তা দেখতে হবে। বিপ্লবের কথা মূখে মূখে বলা আর সত্যিকার বিপ্লবের জন্য লড়াই করা এক কথা নয়।
সত্যিকার গন সংগ্রাম সম্পর্কে প্রথম বিশ্বের “বাম পন্থার” লোকদের ধারনাগত সমস্যহা রয়েছে, এরা প্রায়স গন সংগ্রাম ও গন যোদ্বকে গুলিয়ে ফেলে। বিপ্লবী আলোচনায় ও তাদের কর্মে এর প্রভাব তিব্রভাবে লক্ষণীয়। বিশেষ করে এরা বিপ্লবী কাজ কর্মকে একটা রোম্যান্টিক আবহে দেখে থাকেন। ফলে কোন সময় কি ভূমিকা পালন করতে হবে তা তারা জানেন না। কারন এরা তো এই বিপ্লবী ধারার সাথে পরিচিতই নন। আর এটাই হল প্রথম বিশ্বে প্রধান সমস্যা । তবে কতিপয় ব্যাক্তি কিছু উচ্চ মার্গীয় আদর্শ ভিত্তিক সাহিত্য রচনায় সাফল্য অর্জন করেছেন। কিন্তু বাস্ততবতা হলো এরা বিজ্ঞান ভিত্তিক বিপ্লবী কর্মের ধারে কাছে ও নেই। একটা ধোঁয়াশা ধারনা ও জ্ঞান নিয়ে নানা জায়গায় ঘুরছেন।
চাই বিজ্ঞান, প্রথম বিশ্ববাদি জাতীয় স্বাধীকার নয়
লিডিং লাইট প্রথম বিশ্বের আন্দোলন কারীদের কথা বলতে গিয়ে প্রায়স পেন্থারবাদিদের উদাহরন দিয়ে থাকে। তাদেরকে ও আমরা বলি প্রথম বিশ্ব উল্লেখ যোগ্য কোন প্রলেতারিয়েত নেই । বিপ্লব করার মত মানুষ এখানে বাস করেন না । বরং এরা পারলে বিপ্লবী কাজে বাঁধা হয়ে উঠবেন। প্যান্থার বাদিগন ‘প্রলেতারিয়েত শ্রেনী পাশে দাড়াতে চান’ – তাই তারা প্রথম বিশ্বের তরুনদের নিকট যায়, তারা লুম্পেন্দের নিকট যায়, তারা প্রবাসীদের নিকট যায়, তারা অসাদাদের নিকট যায় এবং চেস্টা করে আন্দোলন গড়ে তোলতে। তারা এই সকল লোকদেরকে প্যান্থারবাদের দিক্ষা দিতে কাজ করছেন।
জেনঃ আমরা জানি উত্তর আমেরিকা, ডেনমার্ক বা ইউরূপের অন্যান্য অঞ্চলের মত নয়। জাতিবাদ, শোষন ও নিপিড়ন সেখানে চালু আছে। তাই আমরা সেখানে ও বিপ্লবের বীজ বপন করতে চাই। তাই আমরা ব্ল্যাক প্যান্থার দলের সাথে কিছু কাজ করেছি। তবে আমরা এখনো কোন গবেষনা চালাইনি। ফলে এটা আমাদের নিকট এখোনো স্পস্ট নয় যে সত্যিকার বিপ্লবী আন্দোলন সেখানে দানা বাঁধবে কি না”। (১২৪-১২৫)
বাস্তবতা হলো বিপ্লবের জন্য সাদা কালো ইস্যূ কোন গুরুত্বপূর্ন বিষয় নয়। ১৯৭০ সালের পর থেকে পরিস্থিতি দেখলে এটা পরিস্কার যে এখানে কোন বিপ্লবী সংগঠন গড়ে উঠেনি। সাদা, কালো বা অন্য কিছু । যদি ও জাতীয় স্বাধিকারের আন্দোলনকে চেপে রাখা হয়েছে বা দমন করা হয়েছে নানা কৌশলে। সেখানকার শ্রমজীবী মানুষ বুর্জোয়া শ্রেনীতে উন্নিত হবার জন্য মরিয়া হয়ে আছেন। এই ক্ষেত্রে কেবল সাদা কালোরা ও পিছিয়ে নেই।
জেনঃ আমরা দেখতে পাচ্ছি এঙ্গোলা বা মোজাম্বিকের মত নয় উত্তর আমেরিকার আন্দোলন এক ভিন্ন মাত্রায় এসে দাড়িয়েছে। এটা সিত্য যে সেখানে আদিবাসিদের মধ্যে একটা প্রতিরোধের স্পিহা বিদ্যমান আছে । কিন্তু আমরা মনে করিনা তাদের সেই প্রতিরোধের চেতনা সেখানে বিপ্লবের সূচনা করবে। এটা আমেরিকার শ্রমিক শ্রেনীর জন্য একেবারেই নগ্ন্য বিষয়। আমরা অবশ্যই তাদের আন্দোলনকে সমর্থন করি তবে তা সফল হবার ব্যাপারে আসাবাদি নই। একেই পরিস্থিতি গ্রীনল্যান্ডে বিদ্যমান। সেখানে ও বিপ্লবের কোন সম্ভাবনা এই।
আমেরিকায় জাতীয় স্বাধিকার আন্দোলন একটা কল্পনীয় বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। রাষ্ট্রীয় ভাবে সকল সাদা ও কালোদের মাঝে একটি সমন্বয়ের প্রায়স চলছে। আমেরিকা একটি বহুজাতি ভিত্তিক সাম্রাজ্যবাদে রূপ নিয়েছে। এরা ইতিমধ্যেই বৈশ্ব্যিক সাম্রাজ্যবাদি চরিত্র ধারন করে ফেলেছে। কতিপয় জাতিয়তাবাদি ব্যাক্তি ভূল ভাবে মাওয়ের বক্তব্য উচ্চারণ করেন, মাও বলেছিলেন, “জাতিয় মক্তি আন্তর্জাতিক মুক্তিকে তরান্বিত করে”। মাও একক কন জাতির মক্তির কথা বলেন নাই। মাও সমগ্র চীনা জাতির সাম্রাজ্যবাদ বিরুধী লড়াইয়ে মুক্তির কথা বলেছেন। মাও সকল সময়েই গতানুগতিক জাতিয়তাবাদের বিপক্ষে ছিলেন। তবে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্বে জাতীয়তাবাদি আন্দোলন করা মন্দ্ব কিছু নয়। তবে পরিস্থিতি এখন অনেক বদলে গেছে। আগে যে ভাবে নিপিড়িত জাতি বা নিপিড়ক জাতি হিসাবে বিবেচনা করা হত এখন আর সেই ভাবে বিবেচনা করা হয় না । এখন সাম্রাজ্যবাদ বৈশ্বিক রূপে দেখা দিয়েছে তাই একে বৈশ্বিক ভাবেই প্রতিরোধ করতে হবে । অনেকেই সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্বে আন্দোলন করাকে দরকারী মনে করেন না । কিন্তু আলোকিত সাম্যবাদিগন মনে করেন, গন সংগ্রামের ভেতর দিয়ে দুনিয়ার সকল মানুষকে মুক্ত করে আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদার করা দরকার।
প্রথম বিশ্বে সংহতি প্রকাশের অভাব নেই। এই সকল সংহতি আদতে মূল্যহীন ও কাপুরুষচিত। তারা মূখে বলে বিপ্লবের জন্য জান দিয়ে দিবে। কিন্তু বাস্তবে এদেরকে পাওয়া যায় না । এরা নিজেদেরকে সাম্যবাদি ও সাম্রাজ্যবাদ বিরুধীহিসাবে প্রচার করতে পছন্দ করেন। কিন্তু কর্মে সম্পূর্ন উল্টোপথের যাত্রী। সত্যিকার বিপ্লবী লোকে তৃতীয় বিশ্বেই অবস্থান করছেন। আসল কথা হলো “ব্লেংকেয়েজড গ্রুপ” ছিলো সত্যিকার সিংহ। তারা প্রথম বিশ্বে সিংহের মতই কাজ করেছে। আমরা আহবান করি কেবল রোম্যান্টিকতা নয় সত্যিকার কাজে এগিয়ে আসুন। লিডিং লাইট রাস্তায় আলো জ্বেলে দিচ্ছে। আপনি বিপ্লবের পথে এগিয়ে আসুন। আমাদের জন্য সুন্দর আগামী অপেক্ষা করছে। এডভোকেট শিহাব।
Kuhn, Gabriel. Turning Money Into Rebellion (Kersplebedeb, 2014)

Advertisements