প্রথম বিশ্বের নির্বাচন, প্রথম বিশ্বে বিভাজন


160519-trump-clinton-0014_43b68e75ee8a5e932bc0b4007dccfc02-nbcnews-ux-2880-1000

প্রথম বিশ্বের নির্বাচন, প্রথম বিশ্বে বিভাজন

প্রথম বিশ্বের বুর্জোয়াদের বিশ্বময় একছত্র আধিপত্যের সময় শেষ হয়ে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্বে “ব্রিক্স” এর আওতার দেশ সমূহ নিজেদের প্রভাব বলয় তৈরী জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছে, এরা তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমুহে প্রধান্য বিস্তারের জন্য উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও তৃতীয় বিশ্ব, মিনা এবং ল্যাতিন আমেরিকার দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন ও প্রভাব বিস্তার ঘটছে । তবে এখন দ্বিতীয় বিশ্বকে প্রথমবিশ্ব আর নিয়ন্ত্রন করতে পারছে না । (১) এই পরিস্থিতিতে প্রথম বিশ্বের নাগরীকদের জীবন মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তা গ্রীস ও স্পেনে স্পস্ট। তাদেরকে ইউরূপীয় ব্যাংক সমূহ “ব্যাপক” সাহায্য দিয়ে ঠিকিয়ে রাখার চেস্টায় মত্ত্ব।
প্রথম বিশ্বের এই অবনতিশীল পরিস্থিতি এখন প্রথম বিশ্বের ক্ষমতা কাঠামোকে নাড়া দিয়েছে, দেখা দিচ্ছে রাজনৈতিক বিভক্তি। তথাকথিত “ঠাণ্ডা যুদ্ব”, অবসানের পর প্রথম বিশ্বের বুদ্বিজীবী চক্র ঘোষনা করল “ইতিহাসের” এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়েছে । এখন একে অন্যের সাথে মিলেমিশে বসবাস করার সময়। অন্যদিকে আরেক সাম্রাজ্যবাদি গুষ্টি, যারা সোভিয়েত বিরুধীতায় মত্ত্বছিলো তারা স্থির করলেন- এই তো মহা সুযোগ তৃতীয় বিশ্বের নেতৃত্বকে খতম করার। যারা “সাম্রাজ্যবাদের নয়া বিশ্বনীতি” মানতে চাইছে না। তাদেরকে খতমের কাজে নেমে পড়ল তারা।(২) সেই সাম্রাজ্যবাদ ঘোষনা দিয়ে ২০০১ সাল থেকেই মানবতার বিরুদ্বে শুরু করলো আগ্রাসন, গনহত্যা, আর উচ্ছেদ করা, এবং দুনিয়ার সকল দেশে এরা নানা ভাবে নাক গলাতে লাগলো।
সত্যিকার ভাবে ভাবলে আমরা দেখি ১৯৯১ সালে সোভিয়েত পতনের পর থেকেই সাম্রাজ্যবাদ বৃহত্তর পরিসরে তাদের অপকর্ম শুরু করে। এরা ২০০১ সালে “সন্ত্রাসের বিরুদ্বে সাজানো এক যুদ্বের” ঘোষনা দিয়ে রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠে। যা ২০১৬ সালে এসে কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। এখন যা হচ্ছে তা হলো আন্ত সাম্রাজ্যবাদি দ্বন্দ্ব, এই অবস্থা বিশ শতকে ও আমরা লক্ষ্য করেছি। কখনো “প্রগতিশীল” আবার কখনো নারীবাদি আবার কোন কোন সময় “আন্তর্জাতিক” সুর তুলে নানা উছিলায় তৃতীয় বিশ্বে মানুষের উপর ন্যাটোর সহায়তায় গন হত্যা চালিয়েছে। সৃস্টি করে চলেছে নানা দেশে সীমান্ত সমস্যা। ইউরূপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে আমরা কিন্তু এই রকমের কোন প্রকার অস্থিরতা বা দ্বন্দ্ব দেখছি না । আসলে এরা তৃতীয় বিশ্ব জুড়ে ফ্যাসিবাদি আচরন করছে। ফ্যাসিবাদ দুই ধরনের দেখা যায় ; ফ্যাসিবাদ (৩) এবং সামাজিক ফ্যাসিবাদ (৪)।
প্রথম বিশ্বের “সাম্যবাদিগন” অবশ্য এটা প্রমান করেছেন যে, এরা সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্বে ঐক্যবদ্ব। কিন্তু যখন বলা হয় আসুন “জাতিগতবাদ নির্মূলে শত্রু চিহ্নিত করি” পুরাতন ক্ষমতা কাঠামোর বদলে লিডিং লাইট বা নয়া কাঠামো নির্মান করি তখনই সমস্যার সৃজন হয়। যা সামাজিক ফ্যাসিবাদে রূপ নেয়। তা ও কিন্তু ফ্যাসিবাদই। একবিংশ শতাব্দীর বুর্জোয়া রাজনীতির এটা আরেক “রাজনৈতিক রূপ”। প্রগতিশীলতার নামে নয়া উপনিবেশবাদ কায়েম করছে আর সাম্রাজ্যবাদি গন মাধ্যম প্রচার করছে যে “ আমরা সবাই কিন্তু গরীব নই”।(৫) আরো যুক্তি দেখানো হয় যে, প্রথম বিশ্ব তার আভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদকে নিজের আয়ত্ত্বে নিয়ে অংশীদার করে নিচ্ছে। মুলত সাদা মানুষেরা এক জোট হয়ে তৃতীয় বিশ্বকে শোষন করার চমৎকার কৌশল প্রণয়ন করেছে। রাজনৈতিক শক্তি গুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদ প্রার্থী হিলারী ক্লিনটন কে “ তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্বে যুদ্ব” চলমান রাখার জন্য সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। সাথে যুক্ত করেছে, অভিবাসীদের প্রতি “দয়াশীল”/ “ প্রগতিশীল” শব্দ মালার। অথচ এই সাম্রাজ্যবাদই আগ্রসনের মাধ্যমে মানুষকে উচ্ছেদ করে চলেছে। হিলারী ইতিমধ্যেই নিজেকে প্রমান করেছেন যে সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে খেলতে তিনি সক্ষম। তিনিই চ্যাম্পিয়ন। ২০১১ সালে লিবিয়ার সর্বনাশা করার জন্য তার ভূমিকাই ছিলো মূখ্য।
এটাও দেখার বিষয় যে, সাদা জাতির মানুষের উত্থান সাম্রাজ্যবাদি সম্পর্কে কিছুটা ফাটল ধরেছে। এই ফাটল তাদের সামগ্রীক বিপ্লবী শক্তি ও তাদের সহযোগীদেরকে দূর্বল করে দিতে পারে। সাদা জাতীয়তাবাদিরা আবার এও দাবী করছেন যে তারা “পালটা সাম্রাজ্যবাদি শক্তি” হিসাবে বিকশিত হতে চান।তারাও সামারিক শক্তির বৃদ্বি ঘটাতে চান। গ্রীসের শিক্ষা নিয়ে সাদা রঙের লোকেরা “ব্রেকজিটের” সমর্থন দিয়ে ডোন্যাল্ড ট্রাম্পকে ও সমর্থন দিচ্ছেন। এরা বলছেন, আমরা ক্ষমতায় থাকলে ইরাক আক্রমন করতাম না । তবে যেহেতু আমরা সেখানে আছি তাই আরো বেশী পরিমানে তৈল নিয়ে আসা উচিৎ”। এই হলো তাদের গন বিরুধী চিন্তার বহি প্রকাশ । এরা নিজেদেরকে সাম্রাজ্যবাদ বিরুধী হিসাবে পরিচয় দিলে ও আসলে এরা প্রথম বিশ্ববাদি ফ্যাসিবাদি চক্র। সাদা জাতীয়তাবাদ ও ফ্যাসিবাদ বিরুধিতায় নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে আলোকিত সাম্যবাদি – লিডিং লাইট।
লিডিং লাইট প্রথম বিশ্বের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক ভাবে অংশ গ্রহন করছে না । বুর্জোয়া বিশ্ব যেভাবে যাই বলুক না কেন যে প্রলেতারিয়েত বিশ্ব হেরে গেছে। তা সাময়িক ভাবে সত্যি হলেও এই টুকো বলব যে, “ খেলা এখনো শেষ হয়নি” । তাদের নিরবতা-নিস্কৃয়তা সাময়িক ভাবে বুর্জোয়া বিশ্ব ও তাদের নাগরীকদেরকে লাভবান করছে। বুর্জোয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে নাই। সাম্রাজ্যবাদের একচ্ছত্র আধিপত্যের মধ্যে ফাটল ধরেছে। সেই ফাটল নয়া ক্ষমতায়নের সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করবে।(৭) লিডিং লাইট তার কর্ম কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাবে । প্রথম বিশ্বের যারা বিরুধী তারা ঠিকই তাদের পথ করে নিবেন। তারা তাদের রাজনৈতিক পন্থা ঠিক করে নিজেদের অবস্থান জোড়দার করবেন। তবে তা হবে বিশ্বব্যাপী। বিশ্বব্যাপী ঐক্যবদ্ব জোট গঠিত হবে । নতুন ভাবে সকল স্তরে ক্ষমতায়ন করা হবে। আর তা হতে হবে প্রলেতারিয়ানদের স্বার্থে। তৃতীয় বিশ্বের কল্যানে। নতুন শক্তির উত্থান চাই! প্রলেতারিয়েতের বিজয় কমনা করি। এডভোকেট শিহাব।
Notes:
1. “Think Again: The BRICS”, http://foreignpolicy.com/2012/10/08/think-again-the-brics/
2. “The End of History” Francis Fukuyama, The National Interest, Summer 1989
3. “What is Fascism?”, http://llco.org/what-is-fascism/
4. “Old Power, New Power, Reform versus Revolution”, http://llco.org/old-power-new-power-reform-versus-revolution/
5. http://alldigitocracy.org/joy-reid-bernie-sanders-ghettos-in-america-debate/
6. http://www.theatlantic.com/politics/archive/2016/08/donald-trump-thinks-america-was-too-nice-to-iraq/495971/
7. http://llco.org/leading-light-simple-talking-points-to-use-with-other-peoples-forces/
Relevant quote:
“6. We call for a new internationalism; we cannot rely on enemy help. We should not count or rely on intra-imperialist conflict. The overall trend has been toward a system of global imperialism, the global domination of the Bourgeois World as a whole. This situation is similar to how Lin Biao said imperialism and social-imperialism still had contradictions, but that they had reached reconciliation overall in their joint exploitation of the global countryside…”

Advertisements