লিডিং লাইট কমিউনিজম কি একটি পথ না কি চূড়ান্ত লক্ষ্য ?

লিডিং লাইট কমিউনিজম কি একটি পথ না কি চূড়ান্ত লক্ষ্য ?5f5463992975d7a0dd09922e7d20ee45

আলোকিত সাম্যবাদ কি ? কমরেড প্রেইরী ফায়ার তাঁর বিভিন্ন লিখা ও সাক্ষাৎকারে বলেছেন আলোকিত সাম্যবাদ হলো একটি প্রাগ্রসর বিপ্লবী বিজ্ঞান। একটি নতুন ঊন্নত স্তর। তিনি অন্যান্য জায়গায় বলেছেন, ইহা হলো “সাম্যবাদের” উন্নততর লক্ষ্য বিশেষ ।
তা আসলে এটা কি ? লিডিং লাইট একটি পথ ও পন্থা নাকি কোন চূড়ান্ত লক্ষ্য বস্তু ? তবে তো ইহা আদর্শগত অসংগতিকে নির্দেশ করে। যারা ঐতিহ্যগত ভাবে গতানুগতিক পন্থায় মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদে কাজ করেন, তাদের চিন্তা চেতনায় নতুনত্ব আনয়নের আহবান করে। প্রথাগত মার্ক্সবাদীপন্থার অনুসারীদেরকে চলমান প্রক্রিয়ার সাথে সংগতি রেখে চিন্তা ভাবনার দরকার আছে। নব প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ করতে হবে।
লিডিং লাইটের অনুসারীদের জন্য নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় তারা এর ব্যাখ্যা দিবেন যে, প্রথাগত মার্ক্সবাদ এবং “মাওবাদ-তৃতীয়বিশ্ববাদ” এর মধ্যে সত্যিকার পার্থক্য গুলো কি। এর সাথে সাথে এই ব্যাখ্যা ও হাজির করবেন যে, “প্রথম বিশ্ববাদ, মাওবাদ, এবং পুঁজিবাদ ও তৃতীয় বিশ্ববাদের” প্রধান বিষয় গুলো কি কি। এই সকল বিষয় সমূহের সার বস্তুকে একত্র করলে যা দাঁড়ায় তা হলো মাওবাদ এবং তৃতীয় বিশ্ববাদ। কেহ কেহ বলে এই ধরনের বিশ্লেষণ আসলে গুস্টিবাদকে উতসাহিত করে। এক অর্থে এ কথা মিথ্যা নয়। কেননা পুরাতন মতান্দ্বতা থেকে বেড়িয়ে আসতে হলে লিডিং লাইটের মত চিন্তার বিকল্প নেই।
লিডিং লাইট গতানুগতিক ধারার কমিউনিজম নিয়ে কোন বিপ্লবের কথা বলছে না, বিপ্লবী বিজ্ঞানের চর্চা করার ভেতর দিয়ে বিগত দিনের ভূল গুলো অপনোদন করে লড়াই সংগ্রাম “অভ্যাহত” রাখার প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্বময় কাজ করে যাচ্ছে। লিডিং লাইট তাঁর কর্মে বড় ধরনের পরিবর্তনে আগ্রহী, তবে তা অতীতকে অস্বীকার করে নয়, অতীতের গৌরব ময় অধ্যায় থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি যুগান্তকারী সাম্যবাদি আন্দোলন গড়ে তুলতে চায়। তাঁর জন্য বিশ্ব ব্যাপী সামাজিক গবেষণা বা তদন্ত পরিচালনা করছে। একুশ শতকের সামাজিক বাস্তবতায় সাম্যবাদের চর্চার দিকটি পরিস্কার করতে নিরলশ কাজ করে যাচ্ছে লিডিং লাইট।
অতীতকে অস্বীকার করে সামনে এগোতে চাইলে চিন্তাধারাগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে, তা ছাড়া আলোকিত সাম্যবাদকে ও পরিপূর্ন ভাবে ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব হবে না, আমরা আগের বেশ কিছু বিষয় সামনে ও আনতে আগ্রহী। যেমন কার্ল মার্ক্স তাঁর জার্মান আইডলজি এবং অন্যান্য লেখায় যে সকল বিষয় আশয় আছে তা ও সামনে রাখতে চাই। এর মানে কিন্তু এই নয় যে তা ই আমাদের “চলমান” প্রক্রিয়ার পদ্বতি। আমরা এই কথা ও বলতে চাই যে, সাম্যবাদ কোন ধর্ম নয়, বা ইহাই ইতিহাসের চূড়ান্ত পরিনতি নয়। জ্ঞান বিজ্ঞানের ও শেষ কথা নয় । কিন্তু দুনিয়ার চলমান নিপিড়ন ও নির্যাতনের অবসান করতে হলে সাম্যবাদ দরকার। এর আপাতত কোন বিকল্প নেই।

রোজেকে লিখা মার্কসের চিঠি থেকে (১৮৪৩)ঃ
“ আমি সত্যিকার অর্থে কোন প্রকার মতান্দ্বতার বিকাশের জন্য কাজ করতে আগ্রহী নই। পক্ষান্তরে, আমরা মতান্দ্বদেরকে তাদের ভূল গুলো ধরিয়ে দিব। এখন এটা সত্য যে সাম্যবাদ মতান্দ্বতা দ্বারা আক্রান্ত হয়ে আছে; আমি কোন বায়ুবীয় চিন্তা ভাবনা দিয়ে সাম্যবাদকে ব্যাখ্যা করতে চাই না । এখন সাম্যবাদ নানা অভিধায় প্রচলিত আছে। সাম্যবাদ নিজেই হলো এমন একটি মতবাদ যা মানব জাতির জীবন ব্যবস্থা হিসাবে চমৎকার বিষয়। তবে তা এখন নেতিবাচক ভাবনা ও কর্মে আক্রান্ত- আর তা হলো ব্যাক্তিগত মালিকানার ব্যবস্থা । তাই সকল প্রকার ব্যাক্তি মালিকানার অবসান করতে হবে, এ ছাড়া সাম্যবাদ হবে না। ইহা কোন দৈব বিষয় নয়, ইহা অনিবার্য ভাবেই আসতে হবে। প্রদু, বা ফুরিয়েরদের মত চিন্তা ভাবনার ফসল নয়। এদের উপস্থাপিত সাম্যবাদ একপেশে ও অবৈজ্ঞানিক”।
“ [কোন] কিছুই আমাদেরকে রাজনীতির সমালোচনা, রাজনীতিতে অংশ গ্রহন এবং সত্যিকার রাজনৈতিক লড়াই সংগ্রাম থেকে বিরত রাখতে পারবে না । আমরা সমালোচনা করা শুরু করেছি, তা আমরা অভ্যাহত রাখব। আমরা নয়া নীতির সাথে পরাতন নীতির সংঘাত লাগাতে চাই নাঃ এখানে সত্য, এর সামনে মাথা নত কর! আমরা নতুন নীতিমালার উদ্ভাবন ঘটিয়েছি, এটা দুনিয়ার অন্যান্য নীতির মত নয়। আমরা দুনিয়াকে বলছিনা যে ওরা বোকা ওদের বিরুদ্বে লড়াই সংগ্রাম থামিয়ে দিন; আমরা আপনাদেরকে সত্যিকার সংগ্রামের মন্ত্র দিব। আমরা একাই দুনিয়াকে দেখিয়ে দিব যে সত্যিকার ভাবে কিসের জন্য লড়তে হয়, তবে এর জন্য দরকার সচেতনতা, তা না থাকলে এই লড়াই সম্ভব নয়”। (১)
“ব্যাক্তিগত সম্পত্তি এবং সাম্যবাদ” থেকে (১৮৪৪)
“ যেখানে আনকোরা সাম্যবাদিগন সাম্যবাদের জন্য ইতিহাসের পাতায় এর প্রমান খোজছেন – তা কিন্তু এর অস্থিত্বের উপরই বিদ্যমান আছে – ঐতিহাসিক ঘটনা প্রবাহ ব্যাক্তিগত মালিকানার বিষয়টি নাকচ করে দেয়, ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার ভেতরই অভিজাত শ্রেনীর লোকদের চোখের জল ফেলার প্রচুর উদাহরন আছে (ঘোড়ায় ছড়ে বেড়ানোর শখ ছাড়তে হয়েছে- ইত্যাদি)। ঐতিহাসিক ভাবে এই প্রক্রিয়ার মধ্যে ব্যাক্তি মালিকানার বিষয়টি সর্বদাই পরিবর্তনশীলতার মধ্য দিয়ে চলে এসেছে। বর্তমানে তাঁর অস্থিত্ব থাকলে ও বাস্তবতা হলো অতীতে তা ছিলো না”।
“ সাম্যবাদ হলো- ঐতিহাসিক ভাবে একটি অনিবার্য সামাজিক স্তর। ইহাই মানুষকে উন্নয়ন, মানবিক মুক্তি, ও পুর্বাসনের ব্যবস্থা করতে পারে। সাম্যবাদ হলো একটি অনিবার্য ব্যবস্থা যা মানব জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মান করে দিতে পারে। কিন্তু এটা লক্ষ্যনীয় যে ইহা ইহা কেবল উন্নয়ন ও সামাজিক গঠন প্রক্রিয়ার জন্য কাজ করে না” । (২)
“জার্মান ইডিওলজি” থেকে (১৮৪৫)
“সাম্যবাদ সত্যিকার অর্থে কোন রাস্ট্রীয় বিধি বিধান নয়, বরং একটি আদর্শিক কাঠামো যা রাস্ট্রীয় কাঠামোর সাথে সমন্বয় সাধন করে থাকে। আমরা বলি সাম্যবাদ হলো সেই ব্যবস্থা বা আন্দোলন যা প্রচলিত রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে বিনাশ করে দিবে। সেই পরিস্থিতি এখন দুনিয়ার সর্বত্রই বিরাজ করছে”। (৩)
“জার্মান ভাবাদর্শের” ঊক্ত ভাষ্য টি হয়ত অনেক পাঠকই অবহিত আছেন, ইহা কিন্তু ১৯৯১ সালের সোভিয়েত পতনের পর থেকে “গোড়া মার্ক্সবাদ” অনুসারীদের জন্য একটি সতর্কবানী- তা একটি পুনর্জাগরনের আহবান জানায়। এই পুনর্জাগরনের বার্তা তথাকথিত “বিশ্বায়ন বিরুধী আন্দলনে” মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃজন করে। চলমান নৈরাজ্যবাদি ভাবনা, “সমাজতান্ত্রিকিকরন” এবং অতি বাম পন্থা/বাম সাম্যবাদি ধারনাকে প্রশ্নের মূখে ফেলে দেয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মেক্সিকোর পার্টি মন্তব্য করে “ মুক্ত ও নির্মল বাতাসে শ্বাস নিন” । ১৯৯৪ সালে মেক্সিকান পার্টি সূদির্ঘ কালের ঐতিয্য মার্ক্সবাদ ও লেনিনাদের মতান্দ্বতা থেকে বেড়িয়ে আসে।
লিডিং লাইট সাম্যবাদিগন উক্ত বিষয়ে বহুবার বক্তব্য প্রদান করে এসেছে। আবার একথা বলা ও ভূল হবে যে, মার্ক্স কেবল তাঁর সময় কালের বিশ্ব সামাজিক শ্রেনী এবং পুঁজিবাদ – সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে মতামত দিয়ে গেছেন, বা তিনি একুশ শতক নিয়ে কিছু বলেন নাই। সুনির্দিস্ট ভাবে বলতে হয়, যারা বলেন “মুল মার্ক্সে ফিরে চল”; লেনিনের পথে “রাষ্ট্র গড়” “ভ্যান গার্ড তৈরী কর” “প্রলেতারিয়ান একনায়কত্ব কায়েম কর” তারা আসলেই মতান্দ্বতার কানা গলিতে ঢোকে পড়েছেন। (৪) তারা হয়ত আদর্শ ভিত্তিক, উপনিবেশবাদ বিরুধী, আদিবাসিদের জন্য মুক্তির লড়াই করছেন কিন্তু তা সত্যিকার পন্থায় পরিচালিত হবে বলে আমরা মনে করি না । (৫)
সোভিয়েত পতনের পর সাম্রাজ্যবাদ বিরুধী, উপনিবেশবাদ বিরুধী আন্দোলনের নামে “নতুন কিন্তু পুরাতন” শ্লোগানে লড়াই চালিয়ে যাবার একটা চেস্টা ছিলো, সেখানে অতিবাম ভাবধারা, ইউরূপীয় ভাবধারার বিপরীতে স্থানীয় একটা দৃস্টিভঙ্গীর বিকাশের প্রচেস্টা ও ছিলো। (৬) সংগ্রামের বিশ্বময়তায় অনিহা, বিপ্লবী বিজ্ঞানের প্রতি অনিহা, এবং আরো কিছু বিষয় একুশ শতকের লড়াই সংগ্রামকে নতুন মাত্রা দিয়েছিলো। অবশ্য এখন তা প্রথম বিশ্ববাদি ধারায় “সমাজতান্ত্রিক” আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ৫০০ + বছর আগের কলম্বাসীয় ভাবধারার “উন্নত সংস্কৃতি” রপ্তানী থেকে ফিরে আসার প্রবনতা লক্ষ্য করা গেছে। অন্য দিকে নির্মম প্রজাবাদ সৃষ্টির প্রায়স লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কিন্তু এই প্রজাবাদের বিরুধে প্রকাশ্যে জনগণকে প্রতিবাদি করে গড়ে তুলার কোন কাজ কোথাও নেই। “মার্ক্সীয় সমালোচকগন” ও প্রজাবাদের বিরুধে দাঁড়াতে পারে নাই। ফলে সারা দুনিয়া অবাধ শোষণ চালাতে সাম্রাজ্যবাদের কোন সমস্যাই হচ্ছে না।(৭)
এখন এটা আমাদের কাছে পরিস্কার যে আমাদেরকে অবশ্যই বিশ্বময়তার দিকে এগোতে হবে- সাম্যবাদের জন্য, সাম্রাজ্যবাদের বিরুধিতার জন্য – বিশেষ করে বিপ্লবী বিজ্ঞানের বিকাশের জন্য, এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য আর্জনের জন্য। কেবল প্রজাবাদের বিরুদ্বে নয় – সংগ্রাম করতে হবে পরাতন ব্যবস্থার বিরুদ্বে নতুন ক্ষমতা কাঠামোকে প্রতিস্থাপনের জন্য । লিডিং লাইট লড়াই সংগ্রামের জন্য সাড়ে ৫ বিলিয়ন লোকের জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকবে না । নিপিড়ন নির্যাতনের অবসানের জন্য কাজ করে যাবে। আমাদের দায়িত্ব হলো লিডিং লাইটকে কম্যান্ডে স্থাপন করে বিশ্বময় আওয়াম জনতাকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন ও সংগঠিত করা ।
একেই ভাবে আমারা অতীতের পথ হুবহু অনুসরন করতে চাই না। বরং মার্ক্স এঙ্গেলসের ১৬০ বছর আগের রেখে যাওয়া মতবাদের আরো উন্নয়ন ঘটাতে চাই। আমাদের প্রধান শ্লোগান হলো “ আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রচলিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার পূর্ন বিনাশ সাধন করা”। তবে তা আগের মার্ক্সীয় রাষ্ট্র ধারনা থেকে ভিন্নতর হবে। আমরা আগের দূর্বলতা গুলো চিহ্নিত করে তা দূরি করনের জন্য প্রায়াস চালিয়ে যাব। আমরা গতানুগতিক পন্থার অনুসরন করব না । আমরা পরিপূর্ন সাম্যবাদি ধারনাকে বিশ্বে প্রয়োগ করব। আমরা বিশ্ব গন সংগ্রাম ও গন মানুষের উত্থান ঘটিয়ে পুরাতন ব্যবস্থার অবসান ঘটাব।
তবে লিডিং লাইট একক ভাবে বিপ্লবের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না । বিপ্লবী বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটিয়ে পৃথীবীর বুক থেকে সকল প্রকার জাতিগত, শ্রেনীগত, লিংগগত বৈষম্যের অবসান করতে হলে জনগণের সত্যিকার অংশ গ্রহন নিশ্চিত করতে হবে । এখন দুনিয়ায় একটি দল আরো একটি দলকে শোষণ করে তা ও প্রথমিক ভাবে বন্দ্ব করতে হবে।
প্রয়োগ করা ছাড়া বিপ্লবী বিজ্ঞানের কোন মূল্যই নেই। কেবল তত্ত্ব হলো এক প্রকার মতান্দ্বতার নাম। লিডিং লাইট প্রচলিত ক্ষমতা কাঠামোর বিপরীতে, নিপিড়িত শোষিত মানুষের পক্ষে চলমান লড়াই সংগ্রামকে সংগঠিত করতে আগ্রহী। আলোকিত সাম্যবাদ সমাজে প্রয়োগ করে দুনিয়ায় “একটি স্বর্গীয় পরিবেশ” কায়েম করতে হবে। এটা হবে বিপ্লবী বিজ্ঞানের বিষয়। তাই লিডিং লাইট বিশ্বের প্রচলিত সাম্যবাদি সংগঠন সমূহের ঐক্য চায়।
লিডিং লাইট কমিউনিজম তৃতীয় বিশ্ববাদকে সাম্রাজ্যবাদ বিরুধী লড়াইয়ে বৃহত্তর জোট অর্থে ব্যবহার করে থাকে। এরা আজকের দিনে চলমান শ্রেনী সংগ্রামকে এই অর্থে ব্যবহার করতে চায়, ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ বলে চলমান প্রবনতা নিপিড়িত জাতি( এক গুচ্ছ নিপিড়িত জাতি) বা ভৌগলিক ভাবে দক্ষিনে বসবাস কারীগন নানা কারনে নিপিড়নের শিকার। লিডিং লাইট সার্বজনীন সাম্যবাদিগন যারা সত্যিকার ভাবেই মুক্তির লড়াইয়ে যুক্ত, যারা জাতিয় মক্তির কথা ও বলেন তাদের সাথে সংগতী রেখেই কাজ করতে চায়। এদের সাম্রাজ্যবাদ বিরুধী আন্দোলনে এক সাথে কাজ করতে অনিহার কোন কারন নেই বলে মনে করে।
কারা নেতৃত্বে থাকবেন এ নিয়ে লিডিং লাইট মনে করেন তারাই সাম্রাজ্যবাদ বিরুধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। কেননা এরা কোন প্রকার সমালোচনা ভয় পায় না । যদি চলমান লিডিং লাইটের ধারনা থেকে অন্য কোন উন্নততর ধারনা বা তত্ত্বের সৃস্টি হয় তবে পুরাতন ভাবনাকে স্থগিত রেখে নতুন “লিডিং লাইট” কে আক্রেধরা হবে। এরা কেবলই এগিয়ে যেতে আগ্রহী, কোন প্রকার রক্ষণশীলতা, বা মতান্দ্বতাকে এরা প্রশ্রয় দিতে চায় না । জ্ঞান বিজ্ঞানে যে পথ সেই পথে “ বিপ্লবী বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটাতে” এবং ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই আমরা আগের সাম্যবাদি নেতাদের নাম উচ্চারন করি । এই নাম সমূহ উচ্চারনের মানেই হলো আমরা কি অনুসরন করছি তা সহজে বুঝানোর জন্য “মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ”(বিজ্ঞানের প্রয়োজনে কাউকে বাদ দিতে) লিডিং লাইট কুন্ঠিত নয়। লিডিং লাইট সর্বদাই বলে আসছে বিশ্ব ব্যাপী চলমান সাম্যবাদি আন্দোলনকে এগিয়ে নেবার জন্য কোন প্রকার গোড়ামীপনার আশ্রয় দিবে না । আবার সকল প্রকার সমালোচনার বিজ্ঞান ভিত্তিক মোকাবেলা করার জন্য ও প্রস্তুত আছে ।
মৌলিকভাবে দেখলে লিডিং লাইটের নথি পত্র পাঠে দেখা যায় এরা কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের কাজ কর্মকে দ্বিমাত্রিক ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। ইহা একটি পথ ও পন্থা হিসাবে বিপ্লবী বিজ্ঞান এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসাবে ও বিবেচনা করা হয়েছে। সত্যিকার অর্থে লিডিং লাইট হলো দুনিয়ার নিপিড়িত মানুষের মুক্তি আন্দোলনের একটি জীবন্ত কাফেলার নাম। এরা লড়াই সংগ্রাম করছে বিশ্বের সংখ্যা গরিস্ট মানুষের পক্ষে। যারা নানা দিক থেকে বঞ্চিত ও নিপিড়িত। যারা দিরিদ্র। যারা ক্ষমতাহীন। এই আন্দোলনে আপনার অংশ গ্রহন প্রত্যাশা করি । আমাদের সাথে মিছিলে আসুন ! জড়িত হোন প্রতিটি কাজে। ভূমিকা রাখুন বিপ্লবী কর্মে। পুরাতন ক্ষমতা কাঠামোর অবসান করে নতুন ক্ষমতা কাঠামোর প্রতিস্থাপন করতে এগিয়ে আসুন। নতুন বিশ্ব বিনির্মানে নিজেই লিডিং লাইট হয়ে উঠুন!
Notes:
1. Marx’s letter to Ruge (1843)
2. “Private Property and Communism”, Karl Marx (1844)
3. “The German Ideology”, Karl Marx (1845)
4. “Wobblies and Zapatistas”, Staughton Lynd (2008)
5. “A Commune in Chiapas?”, Aufheben #09 (Autumn 2000)
6. “Locating Race”, Malini Johar Schueller (2009)
7. “Revolutionary science in command, not identity politics”, http://llco.org/revolutionary-science-incommand–
not-identity-politics/
This entry was posted in English and tagged FAQ, philosophy, theory. Bookmark the permalink.

Advertisements